কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের ছকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
চিংড়ির প্রকারভেদ
A. এরা স্বাদু পানিতে বাস করে এবং এদের দেহের রং হালকা নীল ও সবুজ। | B. এরা লোনা পানিতে বাস করে এবং এদের দেহের রং হালকা বাদামি থেকে সবুজ।
- ক)(1)
নিরাপদ মাছ কী?
- খ)(2)
মাছ পচে কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
ধান ক্ষেতে ছকের 'A' চিহ্নিত চিংড়ি চাষের সুবিধা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ছকের 'B' চিহ্নিত চিংড়ি চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য, ভারী ধাতু, রোগজীবাণু বা ভেজালমুক্ত যে মাছ মানুষের স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি না করে পুষ্টির চাহিদা মেটায়, তাকে নিরাপদ মাছ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাছ ধরার পর নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে অণুজীবের আক্রমণ এবং মাছের অভ্যন্তরীণ এনজাইমের ক্রিয়ায় মাছ পচে যায়।
মাছের দেহে প্রচুর পরিমাণে পানি ও প্রোটিন থাকে, যা পচনকারী ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত অনুকূল। মাছ মারা যাওয়ার পর তার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, ফলে ত্বকে, ফুলকায় ও অন্ত্রে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে মাছের মাংসপেশি বিনষ্ট করে। একই সাথে মাছের নিজস্ব এনজাইমগুলো কোষের স্ব-সংযোজন বা অটোলাইসিস ঘটায়। এর ফলে মাছ থেকে দুর্গন্ধ বের হয় এবং মাছ পচে নরম ও খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছকের 'A' চিহ্নিত চিংড়িটি হলো স্বাদু পানির গলদা চিংড়ি। ধান ক্ষেতে গলদা চিংড়ি চাষের সুবিধা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. জমির বহুমুখী ব্যবহার ও দ্বৈত আয়: একই জমিতে ধান ও গলদা চিংড়ি একসাথে চাষ করায় জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। এতে কৃষকের অতিরিক্ত কোনো জমি ছাড়াই ধানের পাশাপাশি চিংড়ি বিক্রি করে বাড়তি আয় করার সুযোগ তৈরি হয়।
২. পোকা-মাকড় ও আগাছা দমন: গলদা চিংড়ি ধান ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড়, তাদের লার্ভা এবং অপ্রয়োজনীয় জলজ আগাছা ও শ্যাওলা খেয়ে বেঁচে থাকে। এতে প্রাকৃতিকভাবে ধানের বালাই দমন হয় এবং জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের খরচ বেঁচে যায়।
৩. মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি: চিংড়ির বিষ্ঠা এবং পরিত্যক্ত খাদ্য পচে ধানের জমিতে উন্নত মানের জৈব সারে পরিণত হয়, যা মাটির উর্বরতা ও ধানের ফলন বৃদ্ধি করে। এর ফলে জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো সম্ভব হয়।
৪. পানি সঞ্চালন: চিংড়ির চলাফেরার কারণে ধান ক্ষেতের তলার মাটি ও পানি আলোড়িত হয়, যা ধানের শিকড়ে সহজে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পৌঁছাতে সহায়তা করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছকের 'B' চিহ্নিত চিংড়িটি হলো লোনা পানির বাগদা চিংড়ি। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বাগদা চিংড়ি চাষের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বাগদা চিংড়ি বাংলাদেশের প্রধানতম রপ্তানি পণ্যের একটি। উন্নত বিশ্বে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একে 'সাদা সোনা' (White Gold) বলা হয় এবং প্রতিবছর এটি রপ্তানি করে দেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল যেমন খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং কক্সবাজারে বাগদা চিংড়ি চাষের ওপর ভিত্তি করে বিশাল অর্থনৈতিক বলয় গড়ে উঠেছে। চিংড়ি পোনা আহরণ, ঘের পরিচালনা, পরিবহন, প্যাকেজিং এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
৩. উপকূলীয় অর্থনীতির উন্নয়ন: লবণাক্ততার কারণে যেসব জমিতে ধানের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হয়, সেসব জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে।
৪. মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশ: বাগদা চিংড়ি উৎপাদনের ফলে দেশে বহু আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ও কোল্ড স্টোরেজ শিল্প গড়ে উঠেছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।সুতরাং, বলা যায় যে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাগদা চিংড়ি চাষের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও