জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
স্বপন কলেজে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাক্রমে রিক্সা থেকে পড়ে গেল। পরীক্ষার মাধ্যমে জানা গেল তার কনুইয়ের অস্থির স্থানচ্যুতি হয়েছে।
- ক)(1)
মচকানো কী?
- খ)(2)
পুরুষ ও মহিলার শ্রোণিচক্রের পার্থক্য লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত টিস্যুর সুদৃঢ় অংশের সূক্ষ্ম গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যার লক্ষণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি কী হতে পারে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হঠাৎ মোচড় লেগে কোনো অস্থির সংযোগস্থলের লিগামেন্ট অতিরিক্ত টান খেয়ে প্রসারিত হওয়া বা আংশিক অথবা সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যাওয়াকে মচকানো (Sprain) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পুরুষ ও মহিলার শ্রোণিচক্রের (Pelvic girdle) মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য নিম্নরূপ:
১. আকৃতি ও গঠন: পুরুষের শ্রোণিচক্র সাধারণত অপেক্ষাকৃত ভারী, পুরু, সংকীর্ণ এবং ফানেল আকৃতির; পক্ষান্তরে মহিলাদের শ্রোণিচক্র গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের উপযোগী হওয়ায় অপেক্ষাকৃত হালকা, প্রশস্ত এবং অগভীর বা বাটির ন্যায় গোলাকার।
২. পিউবিক আর্চ বা কোণ: পুরুষের পিউবিক আর্চ কম প্রশস্ত বা সংকীর্ণ (সাধারণত ৭০°-এর কম সূক্ষ্মকোণ); পক্ষান্তরে মহিলাদের পিউবিক আর্চ বেশি প্রশস্ত (সাধারণত ৯০°-১০০° বা স্থূলকোণ)। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত টিস্যুর সুদৃঢ় অংশটি হলো কঙ্কাল টিস্যুর প্রধান উপাদান নিরেট অস্থি (Compact bone)।
নিরেট অস্থির সূক্ষ্ম গঠন প্রধানত হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র (Haversian system) বা অস্টিওন (Osteon) নামক কার্যকরী একক দ্বারা গঠিত। এর প্রধান অংশগুলো হলো:
১. হ্যাভারসিয়ান নালী: প্রতিটি নালী অস্টিওনের কেন্দ্রে লম্বালম্বিভাবে অবস্থান করে। এর মধ্য দিয়ে রক্তনালি, লসিকা নালি ও স্নায়ু প্রবাহিত হয়। পাশাপাশি দুটি হ্যাভারসিয়ান নালী ভকম্যানস নালী (Volkmann's canal) দ্বারা যুক্ত থাকে।
২. ল্যামেলি: হ্যাভারসিয়ান নালীকে কেন্দ্র করে সমকেন্দ্রী বৃত্তাকারে সজ্জিত ক্যালসিয়াম ও কোলাজেন সমৃদ্ধ ৫–১৫টি স্তরীভূত ম্যাট্রিক্সকে ল্যামেলি বলা হয়।
৩. ল্যাকুনি: ল্যামেলির ফাঁকে ফাঁকে অবস্থিত তরলপূর্ণ ক্ষুদ্র গহ্বরগুলোকে ল্যাকুনি বলে। প্রতিটি ল্যাকুনার অভ্যন্তরে একটি করে সজীব অস্থিকোষ বা অস্টিওসাইট (Osteocyte) থাকে।
৪. ক্যানালিকুলি: প্রতিটি ল্যাকুনা থেকে বহু সূক্ষ্ম ও শাখাযুক্ত নালিকা চারদিকে জালের মতো ছড়িয়ে পার্শ্ববর্তী ল্যাকুনা ও কেন্দ্রীয় হ্যাভারসিয়ান নালীর সাথে যোগাযোগ বজায় রাখে, এদের ক্যানালিকুলি বলে। এর মাধ্যমে কোষগুলো পুষ্টি ও অক্সিজেন গ্রহণ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাটি হলো অস্থির স্থানচ্যুতি বা সন্ধিচ্যুতি (Dislocation)। এর লক্ষণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
অস্থি স্থানচ্যুতির লক্ষণ:
১. তীব্র ব্যথা: আঘাতপ্রাপ্ত অস্থিসন্ধিতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হওয়া এবং নাড়াচাড়া করতে গেলে ব্যথা অনেক বৃদ্ধি পাওয়া।
২. বিকৃতি: অস্থিসন্ধির স্বাভাবিক আকৃতি পরিবর্তিত হয়ে অস্বাভাবিক বা বিকৃত দেখায়।
৩. ফোলা ও বিবর্ণতা: সন্ধির চারপাশ দ্রুত ফুলে যায় এবং রক্তক্ষরণের কারণে ত্বক লাল বা কালশিটে বর্ণ ধারণ করতে পারে।
৪. অবশতা ও চলনহীনতা: অস্থিসন্ধিটি স্বাভাবিকভাবে নাড়াচাড়া করা যায় না এবং স্নায়ু সংকুচিত হলে সন্ধিস্থলের দূরবর্তী অংশে অবশ ভাব অনুভূত হতে পারে।প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি (PRICE পদ্ধতি):
১. বিশ্রাম (Rest): ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গটির নড়াচড়া সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই নিজে নিজে অস্থি পূর্বের স্থানে বসানোর চেষ্টা করা যাবে না।
২. বরফ প্রয়োগ (Ice): ফোলা ও ব্যথা কমানোর জন্য আঘাতের স্থানে কাপড়ে পেঁচিয়ে ১৫–২০ মিনিট ধরে বরফের সেঁক দিতে হবে।
৩. সংনমন (Compression): ফোলা রোধে সন্ধিস্থলের চারপাশ স্থিতিস্থাপক ব্যান্ডেজ (Crepe bandage) দিয়ে হালকাভাবে পেঁচিয়ে রাখতে হবে, তবে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়ার মতো অতিরিক্ত শক্ত করা যাবে না।
৪. উত্তোলন (Elevation): সম্ভব হলে আক্রান্ত অঙ্গটি বালিশ বা কাপড়ের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডের স্তরের চেয়ে কিছুটা উঁচুতে উঠিয়ে রাখতে হবে।
৫. নিশ্চলকরণ ও হাসপাতালে প্রেরণ: স্লিন্ট বা স্লিং ব্যবহার করে কনুইকে নির্দিষ্ট অবস্থানে স্থির রেখে দ্রুত অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও