‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    উৎপাদন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    স্বল্পকালে মোট স্থির ব্যয় রেখা ভূমি অক্ষের সমান্তরাল হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক হতে মোট উৎপাদন রেখা অঙ্কন কর।

    (3)
  4. ঘ)

    কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উদ্দীপকে উল্লিখিত বিধিটির কার্যকারিতা ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনীতিতে প্রাকৃতিক সম্পদে রূপগত, স্থানগত বা গুণগত পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন উপযোগ সৃষ্টি করাকে উৎপাদন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বল্পকালে উৎপাদনের পরিমাণ পরিবর্তিত হলেও যে ব্যয় অপরিবর্তিত থাকে, তাকে মোট স্থির ব্যয় (TFC) বলে। যেমন: কারখানার ভাড়া, স্থায়ী কর্মচারীদের বেতন ইত্যাদি। স্বল্পমেয়াদে উৎপাদনের পরিমাণ শূন্য হলেও স্থির ব্যয় নির্দিষ্ট থাকে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলেও স্থির ব্যয় একই থাকে। যেহেতু উৎপাদনের পরিমাণের (ভূমি অক্ষ) পরিবর্তনের সাথে মোট স্থির ব্যয়ের (লম্ব অক্ষ) কোনো পরিবর্তন হয় না, তাই মোট স্থির ব্যয় রেখাটি ভূমি অক্ষের সমান্তরাল (Horizontal) হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী মোট উৎপাদন (TP) রেখা অঙ্কন করা হলো:

    অঙ্কন পদ্ধতি:
    ১. চিত্রে ভূমি অক্ষে (X-অক্ষ) শ্রমের নিয়োগ (L) এবং লম্ব অক্ষে (Y-অক্ষ) মোট উৎপাদন (TP) নির্দেশ করা হলো।
    ২. উদ্দীপক অনুযায়ী:

    • শ্রমের নিয়োগ L = ১ হলে, TP = ৪০ (বিন্দু a)
    • L = ২ হলে, TP = ৭০ (বিন্দু b)
    • L = ৩ হলে, TP = ৯০ (বিন্দু c)
    • L = ৪ হলে, TP = ১০০ (বিন্দু d)
    • L = ৫ হলে, TP = ১০০ (বিন্দু e)
    • L = ৬ হলে, TP = ৯০ (বিন্দু f)
      ৩. প্রাপ্ত বিন্দুগুলো (a, b, c, d, e, f) পরস্পর যুক্ত করলে যে রেখা পাওয়া যায়, তা-ই হলো মোট উৎপাদন (TP) রেখা।

    ব্যাখ্যা: রেখাটি প্রথমদিকে ক্রমবর্ধমান হারে ও পরে ক্রমহ্রাসমান হারে বৃদ্ধি পেয়ে শ্রমের ৫ম এককে সর্বোচ্চ (১০০ একক) হয়। এরপর শ্রমের নিয়োগ বৃদ্ধি করে ৬ একক করলে প্রান্তিক উৎপাদন ঋণাত্মক হয়ে যাওয়ায় মোট উৎপাদন কমে ৯০ এককে নেমে আসে এবং রেখাটি নিম্নগামী হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সূচিটিতে 'ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি' কার্যকর হয়েছে। নিম্নে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এই বিধির কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা হলো:

    উদ্দীপকে অন্যান্য উপাদান স্থির রেখে শুধু শ্রমের নিয়োগ ১ থেকে ৬ একক পর্যন্ত বৃদ্ধি করায় মোট উৎপাদন যথাক্রমে ৪০, ৭০, ৯০, ১০০, ১০০ ও ৯০ একক হয়। ফলে প্রান্তিক উৎপাদন (MP) যথাক্রমে ৪০, ৩০, ২০, ১০, ০ ও -১০ একক। অর্থাৎ পরিবর্তনশীল উপাদান বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রান্তিক উৎপাদন ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে, যা ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধির পরিচায়ক।

    প্রচলিত নিয়মে কৃষিক্ষেত্রে এই বিধিটি তীব্রভাবে প্রযোজ্য হয়, কারণ জমির পরিমাণ নির্দিষ্ট থাকে। তবে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক ও আধুনিক সেচব্যবস্থা ব্যবহার করা হলে এ বিধির কার্যকারিতা কিছু সময়ের জন্য স্থগিত বা বিলম্বিত হতে পারে:

    ১. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগে প্রতি একক শ্রম ও মূলধনের উৎপাদনশীলতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। ফলে শ্রম বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রান্তিক উৎপাদন না কমে বরং প্রাথমিক পর্যায়ে বাড়তে পারে (ক্রমবর্ধমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কার্যকর হতে পারে)।
    ২. বিধির স্থগিতকরণ: উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে উৎপাদন রেখাটি ওপরের দিকে স্থানান্তরিত (Shift) হয়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ক্রমহ্রাসমান উৎপাদন বিধি কার্যকর না হয়ে সমহার বা ক্রমবর্ধমান হারে উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে।

    তবে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের পরও একটি নির্দিষ্ট স্তর বা সময়সীমা পার হওয়ার পর জমির সীমাবদ্ধতার কারণে প্রান্তিক উৎপাদন পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে।

    সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধির কার্যকারিতা সাময়িকভাবে রোধ বা স্থগিত হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর হয় না, বরং কিছু সময় পর পুনরায় কার্যকর হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন