‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব : বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'শের-ই-বাংলা' হিসেবে পরিচিত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কৃষক-প্রজাদের মুক্তির জন্য সারা জীবন কাজ করে গেছেন। বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্যও তিনি চির-স্মরণীয় হয়ে আছেন।

  1. ক)

    গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয় কাকে?

    (1)
  2. খ)

    আসামে 'লাইন প্রথার' বিরুদ্ধে কেন আন্দোলন হয়েছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নেতৃত্বের শিক্ষা বিস্তারের অবদান ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলার কৃষককূলের মুক্তির অগ্রদূত হিসেবে বর্ণিত নেতার অবদান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্রিটিশ আমলে আসামে বাঙালি কৃষক ও অভিবাসীদের বসতি স্থাপন এবং জমি কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বৈষম্যমূলক নীতি বা সীমারেখা টানা হয়, যা 'লাইন প্রথা' নামে পরিচিত। এই প্রথার ফলে বাঙালি কৃষকদের জমিতে অধিকার খর্ব করা হয় এবং তাদের ওপর চরম সামাজিক ও অর্থনৈতিক শোষণ-নির্যাতন শুরু হয়। এই অন্যায় ও বৈষম্যমূলক বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে মওলানা ভাসানী ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে আন্দোলন গড়ে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নেতা হলেন এ. কে. ফজলুল হক (শের-ই-বাংলা)। অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান ছিল অনন্য ও অবিস্মরণীয়।

    শিক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর অবদানসমূহ:
    ১. প্রতিষ্ঠান স্থাপন: তিনি কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমান মৌলানা আজাদ কলেজ), লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ, ইডেন কলেজ, ফজলুল হক কলেজ (চাখার) ইত্যাদি বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা রাখেন।
    ২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও স্থায়িত্ব: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ও হল (যেমন সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ফজলুল হক হল) নির্মাণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
    ৩. অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা: অবিভক্ত বাংলার শিক্ষামন্ত্রী ও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ১৯৩০-এর দশকে 'বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষা আইন' পাস করান এবং দরিদ্র বাঙালি মুসলিম সন্তানদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করেন।
    ৪. দরিদ্র তহবিল ও বৃত্তি: পিছিয়ে পড়া মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুবিধার্থে তিনি সরকারি বৃত্তি ও শিক্ষা অনুদানের ব্যবস্থা করেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলার কৃষককূলের মুক্তির অগ্রদূত হিসেবে শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের অবদান অপরিসীম। তিনি ছিলেন শোষিত ও ঋণগ্রস্ত কৃষকদের মুক্তির কান্ডারি।

    কৃষকদের মুক্তিতে তাঁর অবদান:
    ১. কৃষক প্রজা পার্টি গঠন: কৃষকদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তিনি 'প্রজা সমিতি' এবং পরবর্তীতে 'কৃষক প্রজা পার্টি' গঠন করেন।
    ২. ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন: বাংলার কৃষকেরা মহাজনদের চড়া সুদের জালে জর্জরিত হয়ে ভিটেমাটি হারাচ্ছিল। ফজলুল হক 'বঙ্গীয় কৃষি খাতক আইন' (Bengal Agricultural Debtors Act) প্রণয়ন করেন এবং এর আওতায় 'ঋণ সালিশি বোর্ড' প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে লাখ লাখ কৃষক মহাজনের ঋণের বোঝা থেকে নিষ্কৃতি পায়।
    ৩. বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন: ১৯৩৮ সালে তিনি প্রজাস্বত্ব আইনের ঐতিহাসিক সংশোধন এনে কৃষকদের জমির ওপর বংশানুক্রমিক ও নিরঙ্কুশ স্বত্ব নিশ্চিত করেন এবং জমিদারদের আবওয়াবসহ নানাবিধ অবৈধ কর আদায় নিষিদ্ধ করেন।
    ৪. জমিদার প্রথা বিলোপের রূপরেখা: তিনি জমিদারি ব্যবস্থার অবসান কল্পে 'ফ্লাউড কমিশন' গঠন করেন, যার সুপারিশ পরবর্তীকালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পথ সুগম করে।

    সুতরাং, শোষিত ও নির্যাতিত বাংলার কৃষকদের মুক্তির জন্য আইনগত, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রেই শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের অবদান ছিল যুগান্তকারী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন