মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১ :
দৃশ্যকল্প-২ : রনির বয়স ৫ বছর। সে ৬ বছরের সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে এবং ৭ বছর বয়সের ৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।
- ক)(1)
বুদ্ধি কী?
- খ)(2)
বুদ্ধির বিকাশে পিতা মাতার পেশা কীভাবে ভূমিকা পালন করে?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-২ হতে রনির বুদ্ধ্যঙ্ক নির্ণয় কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-১ এর A ও B চিহ্নিত স্থান দুটির তুলনামূলক আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বুদ্ধি হলো উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে কাজ করার, যৌক্তিকভাবে চিন্তা করার এবং পরিবেশের সাথে কার্যকরভাবে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সামগ্রিক বা সার্বিক মানসিক ক্ষমতা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বুদ্ধির বিকাশে পিতা-মাতার পেশা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত উপাদান হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
উচ্চ বুদ্ধিবৃত্তিক বা ভালো পেশায় নিয়োজিত পিতা-মাতা সাধারণত সন্তানদের মানসিক বিকাশ ও শিক্ষার জন্য উদ্দীপনামূলক পরিবেশ, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে পারেন। পক্ষান্তরে, অসচ্ছল বা প্রতিকূল পেশাগত পরিবেশে বড় হওয়া শিশুরা প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও উপযুক্ত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে, যা তাদের বুদ্ধির স্বাভাবিক বিকাশকে ব্যাহত করতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ অনুযায়ী রনির বুদ্ধ্যঙ্ক (IQ) নির্ণয় নিচে দেওয়া হলো:
আমরা জানি,
বুদ্ধ্যঙ্ক (IQ) = (মানসিক বয়স / প্রকৃত বয়স) × ১০০
বা, IQ = (MA / CA) × ১০০এখানে,
রনির প্রকৃত বয়স (CA) = ৫ বছর = (৫ × ১২) মাস = ৬০ মাস।মানসিক বয়স (MA) নির্ণয়:
স্ট্যানফোর্ড-বিনে বুদ্ধি অভীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বয়স স্তরে ৬টি করে প্রশ্ন থাকে এবং প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য মানসিক বয়স ২ মাস করে ধরা হয়।
রনি ৬ বছরের সব প্রশ্নের উত্তর দেয়, সুতরাং মূল মানসিক বয়স = ৬ বছর = ৭২ মাস।
সে ৭ বছরের স্তরে ৩টি প্রশ্নের উত্তর দেয়, যার মান = (৩ × ২) মাস = ৬ মাস।
অতএব, রনির মোট মানসিক বয়স (MA) = ৭২ + ৬ = ৭৮ মাস (বা ৬.৫ বছর)।সুতরাং, রনির বুদ্ধ্যঙ্ক (IQ) = (৭৮ / ৬০) × ১০০ = ১৩০।
অতএব, রনির বুদ্ধ্যঙ্ক হলো ১৩০ (যা তাকে প্রখর বা উন্নত বুদ্ধি সম্পন্ন শিশু হিসেবে নির্দেশ করে)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১-এ বুদ্ধির পরিমাপের ক্ষেত্রে 'A' ও 'B' দ্বারা যথাক্রমে 'ব্যক্তিক অভীক্ষা' (Individual Test) এবং 'দলগত অভীক্ষা' (Group Test) নির্দেশ করা হয়েছে (অন্যভাবে বাচনিক ও নির্বাচনিক অভীক্ষাও বোঝানো যেতে পারে, তবে প্রয়োগের দিক থেকে ব্যক্তিক ও দলগত প্রধান বিভাজন)। নিচে এদের তুলনামূলক আলোচনা তুলে ধরা হলো:
১. প্রয়োগের ক্ষেত্র: ব্যক্তিক অভীক্ষা (A) এক সময়ে কেবল একজন ব্যক্তির ওপর প্রয়োগ করা যায়। পক্ষান্তরে, দলগত অভীক্ষা (B) একসাথে বহুসংখ্যক ব্যক্তির ওপর একই সময়ে প্রয়োগ করা সম্ভব।
২. সময় ও ব্যয়: ব্যক্তিক অভীক্ষা পরিচালনায় প্রচুর সময়, শ্রম ও ব্যয় প্রয়োজন হয়। কিন্তু দলগত অভীক্ষায় অল্প সময়ে এবং স্বল্প ব্যয়ে একসাথে অনেকের বুদ্ধি পরিমাপ করা যায়।
৩. পরীক্ষকের ভূমিকা ও প্রশিক্ষণ: ব্যক্তিক অভীক্ষা পরিচালনার জন্য অত্যন্ত দক্ষ, অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত পরীক্ষকের প্রয়োজন হয় এবং পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষকের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক (rapport) গড়ে ওঠে। অন্যদিকে দলগত অভীক্ষায় সাধারণ নির্দেশনার মাধ্যমে কম প্রশিক্ষিত ব্যক্তিও পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারেন।
৪. পরীক্ষার্থীর বিশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ: ব্যক্তিক অভীক্ষায় পরীক্ষার্থীর মনোযোগ, ভয়, দ্বিধা বা মানসিক অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে ফলাফল মূল্যায়ন করা যায়। কিন্তু দলগত অভীক্ষায় প্রত্যেকের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না।
৫. উপযুক্ততা: ছোট শিশু, মানসিক প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বুদ্ধি পরিমাপে ব্যক্তিক অভীক্ষা অধিক নির্ভরযোগ্য। পক্ষান্তরে, চাকরি বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর বাছাই প্রক্রিয়ায় দলগত অভীক্ষা অধিক ফলপ্রসূ।
পরিশেষে বলা যায়, দুটি পদ্ধতির উদ্দেশ্য বুদ্ধি পরিমাপ হলেও প্রয়োগপদ্ধতি, সময় এবং পরিসরের দিক থেকে এদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও