ইতিহাস ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক যে ধরনের সংগঠনই হোক না কেন সময়ে সময়ে তার পরিবর্তন করার প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া পরিবর্তনশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে উক্ত সংগঠন তার কার্যকারিতা হারাবে এটাই স্বাভাবিক।
- ক)(1)
কোন সংস্থাটি বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতিদানে ভূমিকা রাখে?
- খ)(2)
NATO সম্পর্কে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন সংস্থার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ভেটো ক্ষমতার অপপ্রয়োগ উক্ত সংস্থার ব্যর্থতার অন্যতম। প্রধান কারণ- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইউনেস্কো (UNESCO - জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা) ১৯৯৯ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
NATO (North Atlantic Treaty Organization) হলো ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের দেশগুলোর একটি যৌথ সামরিক ও প্রতিরক্ষা জোট। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক ব্লকের আগ্রাসন প্রতিহত করা এবং জোটভুক্ত কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে তা সবার বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে গণ্য করে সম্মিলিত সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক সংস্থা 'লীগ অব নেশনস' (বা বর্তমান 'জাতিসংঘ')-এর মিল রয়েছে। বিশেষত আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ভেটো ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির ব্যর্থতা বিবেচনায় এটি 'লীগ অব নেশনস' বা 'জাতিসংঘ'-এর সাথে সম্পর্কিত। প্রশ্নোক্ত ভেটো ক্ষমতার প্রসঙ্গ অনুসারে সংস্থাটি হলো 'জাতিসংঘ'।
জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি রক্ষার মহান ব্রত নিয়ে ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে বিশ্বরাজনীতি, স্নায়ুযুদ্ধ এবং পরাশক্তিদের স্বার্থের সংঘাতের কারণে সংস্থাটি তার সার্বিক নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। উদ্দীপকে যেমন সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে সংগঠনের কার্যকারিতা হারানোর কথা বলা হয়েছে, তেমনি জাতিসংঘও অনেক আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হচ্ছে না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থার (জাতিসংঘের) প্রধান ব্যর্থতার পেছনে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫টি সদস্য রাষ্ট্রের (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স) 'ভেটো' (Veto) ক্ষমতার অপপ্রয়োগ অন্যতম প্রধান কারণ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পরাশক্তিগুলোর স্বার্থ রক্ষা: নিরাপত্তা পরিষদের কোনো স্থায়ী সদস্যের জাতীয় স্বার্থ বা তাদের মিত্র দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকলেই তারা ভেটো প্রয়োগ করে শান্তি প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।
২. যুদ্ধ ও সংকট নিরসনে স্থবিরতা: স্নায়ুযুদ্ধকালে এবং বর্তমান সময়েও ফিলিস্তিন সংকট, সিরিয়া যুদ্ধ কিংবা ইউক্রেন সংকটের মতো বৈশ্বিক স্পর্শকাতর ইস্যুতে কোনো স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র ভেটো দেওয়ায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
৩. সাধারণ সভার সুপারিশের অকার্যকারিতা: জাতিসংঘের অধিকাংশ রাষ্ট্র কোনো প্রস্তাব সমর্থন করলেও একক একটি স্থায়ী সদস্যের ভেটো পুরো প্রক্রিয়াকে ব্যর্থ করে দিতে পারে, যা চরম গণতান্ত্রিক বৈষম্যের নিদর্শন।
৪. দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে বাধা: আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা হুমকি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের যে দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের ওপর ন্যস্ত, ভেটো ব্যবস্থার কারণে তা দীর্ঘসূত্রিতা ও নিষ্ক্রিয়তায় পর্যবসিত হয়।সুতরাং, বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং সংকট নিরসনে বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর ভেটো ক্ষমতার স্বার্থান্বেষী অপপ্রয়োগই জাতিসংঘের প্রত্যাশিত সফলতা অর্জনে সবচেয়ে বড় অন্তরায় বা ব্যর্থতার প্রধান কারণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও