‍ইতিহাস ১ম পত্র • শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও জাতীয় আন্দোলন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ভারতের বেশ কয়েকজন শাসক সংস্কারমূলক ও জনহিতকর কাজের মধ্য দিয়ে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। এদের মধ্যে জনৈক শাসক সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রদান, শিশুশ্রম নিষিদ্ধ ও জনগণকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে নানা রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বিভিন্ন আইন সংস্কার ও কমিশন গঠনের মাধ্যমে এই জনকল্যাণমূলক কাজগুলো বাস্তবায়ন করেন।

  1. ক)

    বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশের নাম কী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    আলীগড় আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত শাসকের সংস্কারসমূহ পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশের নাম ছিল 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' (Eastern Bengal and Assam)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আলীগড় আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক ইংরেজি ও পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে ভারতীয় মুসলমানদের পশ্চাৎপদতা দূর করা। স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা, ব্রিটিশ সরকারের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়ে সরকারি চাকরি ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা লাভ করা এবং মুসলমানদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তোলা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড রিপনের (Lord Ripon) কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে।
    লর্ড রিপন ছিলেন একজন উদারপন্থী ও মানবতাবাদী শাসক। তিনি ভারতীয়দের কল্যাণে নানামুখী কল্যাণমূলক ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। উদ্দীপকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রদান, শিশুশ্রম নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার বিকাশে কমিশন গঠনের যে উল্লেখ রয়েছে, তা সরাসরি রিপনের সংস্কারের সাথে মিলে যায়।
    রিপন ১৮৮২ সালে লর্ড লিটনের বিতর্কিত 'দেশীয় সংবাদপত্র আইন' (Vernacular Press Act) বাতিল করে সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। এছাড়া ১৮৮১ সালে তিনিই প্রথম 'ফ্যাক্টরি আইন' প্রণয়ন করে শিশুশ্রমের সময়সীমা নির্ধারণ করেন এবং উইলিয়াম হান্টারের নেতৃত্বে 'হান্টার শিক্ষা কমিশন' গঠন করেন। কাজেই উদ্দীপকের জনকল্যাণকামী শাসক মূলত লর্ড রিপনকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লর্ড রিপনের গৃহীত সংস্কারসমূহ ভারতীয় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রশাসনিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি স্মরণীয় অধ্যায়। নিচে তাঁর প্রধান সংস্কারগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন: রিপন ১৮৮২ সালে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন আইন প্রণয়ন করে ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড, লোকাল বোর্ড ও পৌরসভা গঠন করেন এবং সেখানে স্থানীয় ভারতীয়দের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেন। এজন্য তাঁকে 'স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের জনক' বলা হয়।
    ২. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা: ১৮৭৮ সালে লিটন কর্তৃক আরোপিত সেন্সরশিপ বা ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট বাতিল করে তিনি ভারতীয় ভাষার সংবাদপত্রগুলোকে মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।
    ৩. প্রথম কারখানা আইন (১৮৮১): শিল্পশ্রমিক ও বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষার জন্য তিনি প্রথম ফ্যাক্টরি আইন পাস করেন। এর ফলে সাত বছরের কম বয়সী শিশুদের কারখানায় নিয়োগ নিষিদ্ধ হয় এবং শিশুদের কর্মঘণ্টা সীমিত করা হয়।
    ৪. শিক্ষা সংস্কার: ১৮৮২ সালে রিপন স্যার উইলিয়াম হান্টারের নেতৃত্বে 'হান্টার কমিশন' গঠন করেন। এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটে এবং বেসরকারি উদ্যোগে স্কুল-কলেজ স্থাপনে উৎসাহ প্রদান করা হয়।
    ৫. ইলবার্ট বিল বিতর্ক: বিচার ক্ষেত্রে ভারতীয় ও ইউরোপীয় বিচারকদের সমমর্যাদা দিতে তিনি 'ইলবার্ট বিল' আনেন, যদিও ইউরোপীয়দের তীব্র বিরোধিতায় তা শেষ পর্যন্ত আংশিক পরিবর্তিত হয়।
    সার্বিকভাবে বলা যায়, লর্ড রিপনের সংস্কারসমূহ ঔপনিবেশিক মানসিকতার ঊর্ধ্বে উঠে ভারতীয়দের স্বাধিকার, শিক্ষা ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও টেকসই ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন