হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
সুকান্ত বাবু একজন ধার্মিক ব্যক্তি। তিনি একজন অবতারের আরাধনা করেন যিনি দ্বাপর যুগে আবির্ভূত হয়ে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করেছেন। নিজের অত্যাচারী মামাকেও তিনি হত্যা করেন, একশত রাজাকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছেন। অন্যদিকে সুকান্ত বাবুর ছেলে ডা. রবিন দেশের একজন নামকরা সার্জন। অপারেশন টেবিলে তার হাতে কখনই কোনো রোগীর মৃত্যু ঘটেনি। এ জন্য সবাই তাকে ভগবান ডাক্তার বলে ডাকে।
- ক)(1)
চরক শরীরের কার্যকারিতার জন্য কয়টি উপাদানের কথা বলেছেন?
- খ)(2)
অবতার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
সুকান্ত বাবু কোন ধরনের অবতারের আরাধনা করেন? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
ডা. রবিনের মধ্যে প্রাচীন ভারতের কোনো চিকিৎসকের আদর্শ লক্ষ করা যায় কি? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
চরক শরীরের কার্যকারিতার জন্য তিনটি উপাদানের (দোষ) কথা বলেছেন—বাত, পিত্ত ও কফ।
- খ)
অবতার অর্থ উপর থেকে নিচে নামা বা অবতরণ করা। ভগবান বিষ্ণু যখন বিভিন্ন রূপ ধরে জগতের কল্যাণের জন্য পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তখন তাঁকে অবতার বলা হয়। জগতে অত্যাচার, অধর্ম ও অশান্তি বেড়ে গেলে তিনি দুষ্টদের বিনাশ, সাধুদের রক্ষা ও ধর্ম সংস্থাপনের জন্য অবতাররূপে আবির্ভূত হন। অবতারের কাজ শেষ হলে ভগবান স্বস্থানে ফিরে যান।
- গ)
সুকান্ত বাবু পূর্ণাবতার শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করেন।
অবতারের ধরন: অবতার দুই রকম—পূর্ণাবতার ও অংশাবতার। ভগবান যখন পূর্ণরূপে অবতরণ করেন, তখন তাঁকে পূর্ণাবতার বলা হয়। ভগবানের সমস্ত শক্তি ও গুণ পূর্ণাবতারের মধ্যে থাকে। শ্রীকৃষ্ণ ভগবানের পূর্ণাবতার, কারণ ভগবানের সমস্ত ঐশ্বর্য তাঁর মধ্যে ছিল। আর ভগবানের অপূর্ণাঙ্গ অবতারকে অংশাবতার বলা হয়। এর মধ্যে দশটি প্রধান—মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন, পরশুরাম, রাম, বলরাম, বুদ্ধ ও কল্কি।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: সুকান্ত বাবুর আরাধ্য অবতার দ্বাপর যুগে আবির্ভূত হয়ে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করেছেন। তিনি নিজের অত্যাচারী মামাকে হত্যা করেছেন। শ্রীকৃষ্ণ কংস, জরাসন্ধ, শিশুপাল, দুর্যোধন প্রমুখ অত্যাচারীকে বিনাশ করে শান্তি স্থাপন করেছিলেন। উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্যগুলো শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে মিলে যায়।
অতএব, সুকান্ত বাবু পূর্ণাবতার শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করেন।
- ঘ)
হ্যাঁ, ডা. রবিনের মধ্যে প্রাচীন ভারতের মহান চিকিৎসক সুশ্রুতের আদর্শ লক্ষ করা যায়। নিচে যুক্তি দেওয়া হলো।
সুশ্রুত পরিচিতি: সুশ্রুত প্রাচীন ভারতের মহান চিকিৎসক। তিনি ধন্বন্তরীর অবতার দিবোদাসের নিকট আয়ুর্বেদ শিখে 'সুশ্রুতসংহিতা' রচনা করেন। প্রধানত শল্যবিদ্যার চর্চা করতেন বলে তাঁকে 'ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক' বলা হয়।
১. শল্যচিকিৎসায় দক্ষতা: ডা. রবিন দেশের একজন নামকরা সার্জন। সার্জারি বা অস্ত্রোপচারই শল্যবিদ্যা। সুশ্রুত শল্যবিদ্যার ৩০০ প্রকার পদ্ধতি ও ১২০টি চিকিৎসাযন্ত্রের বর্ণনা দিয়ে গেছেন। রবিন সেই ধারারই আধুনিক অনুসারী।
২. সাফল্য ও খ্যাতি: রবিনের অপারেশন টেবিলে কখনো কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি, তাই সবাই তাঁকে 'ভগবান ডাক্তার' বলে ডাকে। সুশ্রুতও চিকিৎসাশাস্ত্রে এমন গভীর জ্ঞান ও দক্ষতার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তাঁর গ্রন্থ আজও চিকিৎসা জগতে গুরুত্বপূর্ণ।
৩. মানবকল্যাণ: সুশ্রুতসংহিতা রচনা করে সুশ্রুত মানবজাতির বিশেষ মঙ্গল সাধন করেছেন। রবিনও রোগীদের জীবন বাঁচিয়ে মানুষের কল্যাণ করছেন।চরকের আদর্শ সাধারণত রোগ নির্ণয়, প্রতিরোধ ও ঔষধভিত্তিক চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত; কিন্তু রবিনের কর্মক্ষেত্র অস্ত্রোপচার, যা সুশ্রুতের পরিচয়।
অতএব, ডা. রবিনের মধ্যে সুশ্রুতের আদর্শই প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও