কৃষিশিক্ষা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
রহমত মিয়া তাঁর বসত বাড়ির পাশে তুলসী, বহেরা, হরিতকী, নিম, ঘৃতকুমারী ইত্যাদি গাছ লাগালেন। তাঁর বাগানে থানকুনি, তেলাকুচা, দূর্বা ঘাসও আছে। তাঁর উদ্দেশ্য হলো অসুখ-বিসুখের সময় এলাকার লোকজনকে এসব উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় অংশ দিয়ে ওষুধ বানিয়ে দেওয়া। কয়েক দিন ধরে সেলিম সর্দি, খুসখুসে কাশি ও হাঁপানিতে ভুগছে। তিনি রহমত মিয়ার কাছে গেলে তিনি সমস্যার কথা জেনে ওষুধ বানিয়ে দিলেন এবং সেবন বিধি বলে, দিলেন।
- ক)(1)
তেউড় কাকে বলে?
- খ)(2)
দোআঁশ মাটিকে আদর্শ মাটি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
রহমত মিয়া সেলিমকে কোন কোন উপাদান দিয়ে ওষুধ বানিয়ে দিয়েছিলেন? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রোগ নিরাময়ে উদ্দীপকে বর্ণিত উদ্ভিদগুলোর ভূমিকা বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কলা গাছের গোড়া থেকে গজানো নতুন চারাকে তেউড় বলে।
- খ)
দোআঁশ মাটিতে বালি, পলি ও কাদার সুষম মিশ্রণ থাকে। এই মাটি পানি ধরে রাখতে পারে, আবার অতিরিক্ত পানি সহজে বের হয়ে যেতে দেয়। এতে বাতাস চলাচল ভালো এবং পুষ্টি উপাদান ও জৈব পদার্থ বেশি থাকে। তাই প্রায় সব ফসলের জন্য উপযোগী হওয়ায় দোআঁশ মাটিকে আদর্শ মাটি বলা হয়।
- গ)
সেলিম সর্দি, খুসখুসে কাশি ও হাঁপানিতে ভুগছিলেন। রহমত মিয়া সম্ভবত তুলসী, বহেড়া ও হরিতকী দিয়ে ওষুধ বানিয়ে দিয়েছিলেন।
যুক্তি:
১. তুলসী: তুলসী পাতার রস সর্দি-কাশি ও হাঁপানিতে উপকারী।
২. বহেড়া: বহেড়ার ফল কাশি ও গলার সমস্যায় ব্যবহৃত হয়।
৩. হরিতকী: এর ফল কাশি ও শ্বাসকষ্টে উপকারী এবং হজমশক্তি বাড়ায়।এই উদ্ভিদগুলো শ্বাসতন্ত্রের রোগে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হয়, তাই সেলিমের লক্ষণের সাথে এগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
রহমত মিয়ার বাগানের উদ্ভিদগুলো বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ভূমিকা রাখে:
১. তুলসী: সর্দি, কাশি ও হাঁপানিতে পাতার রস উপকারী।
২. নিম: নিমের পাতা ও ছাল চর্মরোগ, ঘা ও পোকা দমনে ব্যবহৃত হয়।
৩. ঘৃতকুমারী: এর শাঁস পেটের সমস্যা ও পোড়া স্থানে উপকারী এবং ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হয়।
৪. হরিতকী ও বহেড়া: হজম বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য ও কাশিতে উপকারী।
৫. থানকুনি, তেলাকুচা ও দূর্বা: থানকুনি পাতা পেটের পীড়ায়, তেলাকুচা ডায়াবেটিসের উপসর্গে এবং দূর্বা ঘাস রক্তক্ষরণ বন্ধে লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।সুতরাং, এসব উদ্ভিদ সহজলভ্য ও কম খরচে গ্রামের মানুষের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও