যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
মা বললেন, "বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।" সেলিম বললেন, “তাঁর চিন্তাশীলতা ও বিচারক্ষমতা ছিল খুবই প্রখর।" মৌসুমী বলল, "তিনি সব সময় শাড়ি পরতে পছন্দ করতেন।"
- ক)(1)
অবান্তর লক্ষণ কী?
- খ)(2)
'বিধেয়ক একটি সম্পর্কের নাম-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে মায়ের কথায় কোন ধরনের বিধেয়ক প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে মা ও মৌসুমীর কথায় যে দুটো বিধেয়ক প্রকাশ পেয়েছে সে গুলোর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে গুণ কোনো পদের জাত্যর্থ বা জাত্যর্থের অংশ নয় এবং জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও হয় না, অথচ বাস্তব ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য পদের সাথে সংযুক্ত থাকে, তাকে অবান্তর লক্ষণ (Accident) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিধেয়ক একটি সম্পর্কের নাম'—কারণ বিধেয়ক কোনো একক শব্দ বা পদ নয়, বরং এটি কোনো সদর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যকার যৌক্তিক সম্পর্ককে নির্দেশ করে।
যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদটি উদ্দেশ্যের সাথে কী ধরনের সম্পর্কে যুক্ত (যেমন: জাতি, উপজাতি, লক্ষণ, উপলক্ষণ নাকি অবান্তর লক্ষণ)—এই পারস্পরিক সম্পর্কের প্রকৃতিই বিধেয়ক হিসেবে পরিচিত। যেহেতু বিধেয়কের অস্তিত্ব সর্বদা উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল, তাই যুক্তিবিদ্যায় বিধেয়ককে একটি সম্বন্ধ বা সম্পর্কের নাম বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মায়ের কথায় "ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ" নামক বিধেয়ক প্রকাশ পেয়েছে।
মা বললেন, "বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।" এখানে উদ্দেশ্য হলো 'বেগম রোকেয়া' (একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি) এবং বিধেয় হলো '১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করা'।
যে অবান্তর লক্ষণ কোনো একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয় এবং যা তার জীবন থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন বা পরিবর্তন করা যায় না, তাকে ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। কোনো ব্যক্তির জন্মতারিখ এমন একটি বৈশিষ্ট্য, যা তাঁর জাত্যর্থ নয়, জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও নয়; অথচ এটি তাঁর সত্তার সাথে চিরকাল স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকে এবং কখনো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বেগম রোকেয়ার জন্মতারিখ তাঁর ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত ও অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য হওয়ায় মায়ের উক্তিতে ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মায়ের কথায় 'ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ' এবং মৌসুমীর কথায় 'ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ' প্রকাশ পেয়েছে। নিচে এগুলোর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ধারণাগত সম্পর্ক: উভয়েই মূলত 'অবান্তর লক্ষণ'-এর শ্রেণিবিভাগ এবং উভয়েই কোনো একক ব্যক্তি বা বিশিষ্ট ব্যক্তিবাচক উদ্দেশ্যের ওপর প্রযুক্ত হয়েছে। কোনো ব্যক্তির জাত্যর্থের বাইরে থাকা অনাবশ্যক গুণাবলিই এখানে বিধেয় হিসেবে এসেছে।
২. মায়ের বক্তব্যের প্রকৃতি: মায়ের কথায় বেগম রোকেয়ার জন্মতারিখ (১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর) উল্লেখ করা হয়েছে। জন্মস্থান বা জন্মসাল কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন এক বৈশিষ্ট্য যা কখনো পৃথক করা বা বদলানো যায় না। ফলে এটি 'ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ'।
৩. মৌসুমীর বক্তব্যের প্রকৃতি: মৌসুমী বলল, "তিনি সব সময় শাড়ি পরতে পছন্দ করতেন।" পোশাকের পছন্দ বা পরিধান একটি পরিবর্তনশীল বা বিচ্ছেদযোগ্য গুণ। কোনো ব্যক্তি চাইলেই তাঁর পোশাক পরিবর্তন করতে পারেন বা পোশাকের অভ্যাস সবসময় এক নাও থাকতে পারে। ফলে এটি 'ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ'।
৪. পারস্পরিক বৈসাদৃশ্য ও সম্পর্ক: দুটি লক্ষণই একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হলেও এদের মৌলিক পার্থক্য হলো পরিবর্তনযোগ্যতা বা বিচ্ছেদ্যতায়। মায়ের উল্লেখিত গুণটি ব্যক্তির অতীত ও মৌলিক পরিচয়ের সাথে চিরদিনের জন্য অবিচ্ছেদ্য, যা কখনোই পরিবর্তন করা যায় না। পক্ষান্তরে, মৌসুমীর উল্লেখিত গুণটি ব্যক্তির অভ্যাসগত ও বাহ্যিক, যা যেকোনো সময় ব্যক্তি থেকে বিযুক্ত হতে পারে।
অতএব, মা ও মৌসুমীর বক্তব্যে প্রকাশিত বিধেয়ক দুটি অবান্তর লক্ষণের অন্তর্গত ব্যক্তিগত শাখার দুটি বিপরীতমুখী মাত্রা—একটি চিরস্থায়ী (অবিচ্ছেদ্য) এবং অপরটি পরিবর্তনশীল (বিচ্ছেদ্য)।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও