হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
i. এক নিঃসন্তান দম্পত্তি সন্তান কামনা করে ভক্তি ভরে কার্তিক মাসের সংক্রান্তি দিনে এক দেবতার পূজার আয়োজন করে।ii. পলাশপুর গ্রামে হঠাৎ বসন্ত রোগ দেখা দেওয়ায় গ্রামবাসী শ্রাবণ মাসের শুক্লা সপ্তমী তিথিতে এক দেবীর পূজা ও আরাধনা করেন। গ্রামবাসী ধীরে ধীরে উড় রোগ থেকে মুক্তি পায়।
- ক)(1)
লৌকিক দেবতা কাকে বলে?
- খ)(2)
বৈদিক পূজা-অর্চনা কীভাবে করা হতো- তা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
হিন্দু সমাজকে কীভাবে দেব-দেবীর পূজায় উদ্বুদ্ধ করা যায় তা প্রথম উদ্দীপকের আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
দ্বিতীয় উদ্দীপকে বর্ণিত পূজার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বেদে ও পুরাণে যে-সকল দেবতার কথা বলা হয়নি, অথচ ভক্তগণ যাঁদের পূজা করেন, তাঁদের লৌকিক দেবতা বলে।
- খ)
বৈদিক যুগে পূজা-অর্চনা ছিল যোগ বা হোম (যজ্ঞ) ভিত্তিক। তখন প্রতিমা পূজা ছিল না; বৈদিক দেব-দেবীর কোনো বিগ্রহ বা মূর্তিও ছিল না। হোমানল বা অগ্নির মাধ্যমে বেদের মন্ত্র উচ্চারণ করে দেবতাদের আহ্বান করা হতো। যজ্ঞের প্রজ্বলিত অগ্নিতে বিভিন্ন দেবতার উদ্দেশে ঘৃত, পিঠা, পায়েস প্রভৃতি অর্পণ করা হতো। এভাবে যজ্ঞের মাধ্যমে ঋষিরা দেব-দেবীর সান্নিধ্য লাভ করতেন।
- গ)
হিন্দু সমাজকে দেব-দেবীর পূজায় উদ্বুদ্ধ করার উপায়গুলো প্রথম উদ্দীপকের আলোকে নিচে বর্ণনা করা হলো।
পূজার তাৎপর্য : দেব-দেবীরা ঈশ্বরের গুণ বা শক্তির প্রকাশ। তাঁদের সন্তুষ্ট করার জন্য ভক্তিসহকারে ফুল, দূর্বা, তুলসী পাতা, বিল্বপত্র, চন্দন, আতপচাল, ধূপ, দীপ প্রভৃতি উপকরণে যে অনুষ্ঠান করা হয়, তা-ই পূজা। কোনো কোনো দেবতার পূজা নির্দিষ্ট তিথিতে হয়, যেমন কার্তিক, সরস্বতী প্রভৃতি।
উদ্দীপকের আলোকে করণীয় : উদ্দীপকের নিঃসন্তান দম্পতি কার্তিক মাসের সংক্রান্তি দিনে সন্তান কামনায় ভক্তিভরে পূজা করেছে। পাঠ্যবই অনুযায়ী আদর্শ ও সুন্দর সন্তান লাভের জন্য কার্তিক দেবতার পূজা করা হয়। এ দৃষ্টান্ত সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার কয়েকটি পথ দেখায়—
১. দেবতার পরিচয় ও শিক্ষা তুলে ধরা : কার্তিক দেবসেনাপতি; তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা দেন। এমন শিক্ষা জানালে মানুষ পূজার প্রতি আগ্রহী হবে।
২. ভক্তি ও বিশ্বাসের চর্চা : দম্পতির ভক্তিপূর্ণ আরাধনার ফল সবার সামনে তুলে ধরলে অন্যরাও বিশ্বাস ও ভক্তিতে উদ্বুদ্ধ হবে।
৩. পারিবারিক ও সর্বজনীন অংশগ্রহণ : পরিবারের সবাই মিলে পারিবারিক পূজা এবং সমাজের সকলের অংশগ্রহণে সর্বজনীন পূজা আয়োজন করলে সবার মধ্যে ধর্মচর্চার আগ্রহ বাড়ে ও উৎসবের সৃষ্টি হয়।
এভাবে পূজার উদ্দেশ্য ও দেবতার আদর্শ সম্পর্কে সচেতন করে এবং সবাইকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে হিন্দু সমাজকে দেব-দেবীর পূজায় উদ্বুদ্ধ করা যায়।
- ঘ)
দ্বিতীয় উদ্দীপকে পলাশপুর গ্রামে বসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব হলে গ্রামবাসী শ্রাবণ মাসের শুক্লা সপ্তমী তিথিতে যে দেবীর পূজা করেছে, তিনি দেবী শীতলা। আমার মতে, এ পূজার গুরুত্ব ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে অপরিসীম।
শীতলার পরিচয় : শীতলা লৌকিক দেবী। গ্রাম বাংলায় তিনি ঠাকুরানি নামে পরিচিত। তিনি রোগ প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দেবী; স্বাস্থ্যবিধি পালন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দেবীও বলা হয় তাঁকে। তিনি মহামারি প্রতিরোধ করে প্রাণিকুলকে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করেন।
১. রোগ-মহামারি থেকে মুক্তির বিশ্বাস : উদ্দীপকে বসন্ত রোগে আতঙ্কিত গ্রামবাসী শীতলার আরাধনা করে ধীরে ধীরে রোগমুক্ত হয়েছে। এ বিশ্বাস মানুষকে মানসিক শক্তি দেয় এবং দুর্যোগে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করে।
২. স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা : শীতলা পূজার মাধ্যমে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন হয়। পরিবারে ও পাড়ায় পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকলে রোগের ঝুঁকি কমে এবং পারিবারিক সুস্থতা নিশ্চিত হয়।
৩. সামাজিক ঐক্য : উদ্দীপকে গ্রামবাসী একত্র হয়ে সম্মিলিতভাবে পূজা করেছে। এতে পারস্পরিক সহযোগিতা, সমবেদনা ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
৪. শান্তি প্রতিষ্ঠা : শীতলা শান্তির দেবী হিসেবে পরিচিত। তাঁর পূজা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিশ্বাস জাগিয়ে তোলে।
তবে শুধু পূজার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি। পূজার আসল শিক্ষা হলো পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার অনুশীলন।
সুতরাং, শীতলা পূজা রোগ প্রতিরোধ, সচেতনতা ও সামাজিক ঐক্যের দিক থেকে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও