হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

সুমিতাদের বাড়িতে প্রতিবছর হেমন্ত ঋতুতে একটি ধর্মাচারের আয়োজন করা হয়। উক্ত আয়োজনটি মূলত তার ভাই হৃদয়কে কেন্দ্র করে। এ উপলক্ষে হৃদয়কে বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ানো হয়। অন্যদিকে শরনদের গ্রামে প্রতিবছর বসন্ত ঋতুতে একটি ধর্মানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যদিও অনুষ্ঠানটি মূলত বৈষ্ণবদের কিন্তু তাতে সকল ধর্মের লোকই আবির খেলায় অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানটি উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী মেলারও আয়োজন করা হয়। মেলায় অনেক লোকের সমাগম ঘটে।

  1. ক)

    সংক্রান্তি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    "বার মাসে তের পার্বণ"- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    সুমিতাদের বাড়িতে প্রতিবছর কোন ধর্মাচারের আয়োজন করা হয়? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে শরনদের গ্রামে অনুষ্ঠিত ধর্মানুষ্ঠানটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাংলা মাসের শেষ দিনকে সংক্রান্তি বলা হয়।

  2. খ)

    হিন্দুরা সারা বছর নানা উৎসব-অনুষ্ঠান পালন করে। তাই বলা হয়, 'বার মাসে তের পার্বণ'।
    এর অর্থ হলো, বছরের বারো মাসে হিন্দুরা তেরোটির বেশি ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা পার্বণ পালন করে। এগুলোর মধ্যে কিছু ধর্মানুষ্ঠান, যেমন দোলযাত্রা, রথযাত্রা এবং কিছু ধর্মাচার বা লোকাচার, যেমন রাখীবন্ধন, ভাইফোঁটা, নবান্ন। এর উদ্দেশ্য জীবনকে কল্যাণময় ও আনন্দময় করা।

  3. গ)

    সুমিতাদের বাড়িতে প্রতিবছর ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা ধর্মাচারের আয়োজন করা হয়।

    ধারণা ও সময়: কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে এ উৎসব পালিত হয়। কার্তিক মাস হেমন্ত ঋতুতে পড়ে। পুরাণে আছে, এ তিথিতে যমুনাদেবী ভাই যমের মঙ্গল কামনায় পূজা করেছিলেন, যার পুণ্যপ্রভাবে যমদেব অমরত্ব লাভ করেন। এ স্মরণেই বর্তমান বোনেরা দিনটি পালন করে।

    পালনের নিয়ম: বোনেরা উপবাস থেকে ভাইয়ের কপালে বাঁ হাতের কড়ে বা অনামিকা আঙুল দিয়ে চন্দনের ফোঁটা দেয় এবং বলে, 'ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা'। ভাইকে ফল, মিষ্টি, পায়েস, লুচি প্রভৃতি খাওয়ানো হয়।

    উদ্দীপকের সাথে মিল: সুমিতাদের হেমন্ত ঋতুর আয়োজনটি ভাই হৃদয়কে কেন্দ্র করে হয় এবং তাকে বিভিন্ন খাবার খাওয়ানো হয়, যা ভাইফোঁটার বৈশিষ্ট্য।

  4. ঘ)

    শরনদের গ্রামে বসন্ত ঋতুতে অনুষ্ঠিত ধর্মানুষ্ঠানটি হলো দোলযাত্রা। সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে এর প্রভাব নিম্নরূপ।

    দোলযাত্রা ফাল্গুনী পূর্ণিমায় অনুষ্ঠিত বৈষ্ণবীয় উৎসব। বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ এ দিনে রাধিকা ও গোপীগণের সাথে আবির নিয়ে রং খেলায় মেতেছিলেন। সেখান থেকেই দোল খেলার প্রবর্তন।

    ১. সর্বজনীনতা: উদ্দীপকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটি বৈষ্ণবদের হলেও সকল ধর্মের লোক আবির খেলায় অংশ নেয়। এটি দোলযাত্রার সর্বজনীনতা প্রকাশ করে এবং সমাজে অসাম্প্রদায়িক চেতনা গড়ে তোলে।
    ২. ভেদাভেদ দূরীকরণ: সকাল থেকে শত্রু-মিত্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রং খেলায় মত্ত হয়ে বিভেদ ভুলে একাত্ম হয়ে যায়।
    ৩. সামাজিক মিলনমেলা: তিনদিনব্যাপী মেলায় বহু মানুষের সমাগমে পারস্পরিক পরিচয় ও সৌহার্দ্য বাড়ে। মেলার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আসে।
    ৪. পারিবারিক আনন্দ: উৎসব উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজন একত্র হয়, ফলে পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় হয় এবং আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়।

    সুতরাং, শরনদের গ্রামে পালিত দোলযাত্রা সামাজিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন