গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
পিতৃপ্রধান পরিবার কাকে বলে?
- খ)(2)
"একক পরিবারের শিশু আত্মনির্ভরশীল হয়।"— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে শিশু যেসব গুণাগুণ অর্জন করে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানের শিশুটির বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পারিবারিক বন্ধন ও পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে পরিবারে পিতাই পরিবারের প্রধান এবং পরিবারের সার্বিক কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার পিতার ওপর ন্যস্ত থাকে, তাকে পিতৃপ্রধান পরিবার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একক পরিবারে পিতা-মাতা ও তাদের সন্তান-সন্ততি একসাথে বসবাস করে। এমন পরিবারে সদস্য সংখ্যা কম থাকায় শিশুদের অনেক কাজ নিজেদেরই করতে হয়। পিতা-মাতা কর্মজীবী হলে সন্তানকে নিজের রুটিন তৈরি, পড়াশোনা, নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা ইত্যাদি বিষয়ে দ্রুত দায়িত্ব নিতে হয়। ফলে তারা অন্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে ছোটবেলা থেকেই নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সমস্যার সমাধান করার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে একটি ত্রিভুজের তিনটি শীর্ষে 'স্নেহ', 'স্বীকৃতি' ও 'সাফল্য' উল্লেখ করা হয়েছে। গার্হস্থ্য বিজ্ঞানের শিশু বিকাশ বিষয়ক পাঠ অনুযায়ী, স্নেহ, স্বীকৃতি ও সাফল্যের মাধ্যমে শিশুর মানসিক নিরাপত্তা বা সুষ্ঠু বিকাশ নিশ্চিত হয়; ফলে '?' চিহ্নিত স্থানে নির্দেশিত হয়েছে মানসিকভাবে সুরক্ষিত ও সুষম ব্যক্তিত্বসম্পন্ন শিশু।
এই তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে শিশু যেসব গুণাগুণ অর্জন করে:
১. আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা: পরিবার থেকে স্নেহ ও ভালোবাসা পেলে এবং তার কাজের স্বীকৃতি পেলে শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস এবং আত্মমর্যাদাবোধ তৈরি হয়।
২. ইতিবাচক মনোভাব: পরিবারের স্বীকৃতি ও প্রশংসা শিশুর মধ্যে যেকোনো কাজে উদ্দীপনা জোগায়, যার ফলে সে জীবনে সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখে।
৩. সামাজিক ও আবেগীয় ভারসাম্য: স্নেহের মধ্য দিয়ে শিশু সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার গুণ অর্জন করে এবং অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখে।
৪. কর্মস্পৃহা ও দায়িত্বশীলতা: অর্জিত সাফল্য শিশুকে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে উৎসাহিত করে, যা তাকে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল ও উদ্যোগী করে তোলে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানের শিশুটির যথাযথভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে স্নেহ, স্বীকৃতি ও সাফল্যের সমন্বয়ে সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধন এবং পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা অপরিসীম।
১. স্নেহ ও আবেগের ভিত্তি: পরিবার হলো শিশুর প্রাথমিক পাঠশালা। পিতা-মাতা ও ভাই-বোনের নিঃশর্ত স্নেহ ও ভালোবাসা শিশুর মনে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হলে শিশু নিজেকে একাকী ও অসহায় মনে করে না, যা তার মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে।
২. স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদান: শিশুর ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকেও যখন পরিবারের সদস্যরা স্বীকৃতি দেন ও প্রশংসা করেন, তখন শিশুর মধ্যে নিজ যোগ্যতার ওপর আস্থা জন্মায়। পারিবারিকভাবে অবহেলা বা অতিরিক্ত সমালোচনা পেলে শিশুর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
৩. সাফল্য অর্জনে দিকনির্দেশনা: প্রতিটি শিশুই তার পরিবার থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ ও তা অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা করার অনুপ্রেরণা পায়। ব্যর্থতায় পরিবারের সান্ত্বনা ও সহায়তাই শিশুকে পুনরায় সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
৪. মূল্যবোধ ও সুষম ব্যক্তিত্ব গঠন: পারিবারিক সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দেখে শিশু নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও সামাজিকীকরণ শেখে। সুস্থ পারিবারিক পরিবেশই শিশুকে একজন পরিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
সুতরাং বলা যায়, স্নেহ, স্বীকৃতি ও সাফল্যের পরিবেশ বজায় রেখে শিশুর সার্বিক মানসিক ও সামাজিক বিকাশে সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধন এবং পরিবারের সদস্যদের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও