ইসলাম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
ইসলাম প্রশ্ন
জনাব কাওছার একজন ধনী ব্যক্তি। তার কারখানায় শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। তিনি শ্রমিকদের ঠিকমত বেতন পরিশোধ করেন না। তার কারখানায় মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক সন্তোষজনক নয়। ফলে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে কারখানা ভাংচুর করে। অপরদিকে জনাব বশির তার অধীনস্ত কর্মচারীদের সাথে সম্পর্কও ভালো রাখেন ও যথাসময়ে বেতন পরিশোধ করেন এবং একটি বিশেষ মাসে সম্পদের সমুদয় হিসাব করে একটি অংশ গরিব শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করেন।
- ক)(1)
অধীনস্ত কর্মচারীদের দৈনিক কতবার ক্ষমা করা যেতে পারে?
- খ)(2)
জ্ঞান আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কেন? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
জনাব কাওছারের আচরণে কী লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জনাব বশিরের শেষ কাজটি চিহ্নিত করে তার সামাজিক গুরুত্ব পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী অধীনস্ত কর্মচারীকে দৈনিক সত্তর বার ক্ষমা করা যেতে পারে।
- খ)
জ্ঞান মানুষকে ভালো-মন্দ, সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করতে শেখায়। জ্ঞানের আলোতে মানুষ স্রষ্টাকে চেনে, ইবাদত সঠিকভাবে করে এবং নৈতিক জীবনযাপন করে। জ্ঞান দিয়ে দুনিয়ার জীবিকা অর্জন ও সমাজের উন্নতি সম্ভব। ইসলামে জ্ঞানার্জনকে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ বলা হয়েছে। তাই জ্ঞান আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
জনাব কাওছারের আচরণে শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
ইসলামে শ্রমিককে যথাসময়ে ন্যায্য মজুরি দেওয়া মালিকের দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও। উদ্দীপকে কাওছার সাহেব শতাধিক শ্রমিককে ঠিকমতো বেতন দেন না। এতে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক নষ্ট হয় এবং শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে কারখানা ভাঙচুর করে। ন্যায্য মজুরি না দেওয়া জুলুম ও শ্রমিকের অধিকার হরণ। তাই তার আচরণে শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
- ঘ)
জনাব বশিরের শেষ কাজটি, অর্থাৎ বিশেষ মাসে সম্পদের হিসাব করে একটি অংশ গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা, হলো যাকাত আদায়। যাকাত ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে এক বছর পূর্ণ হলে ২.৫% হারে যাকাত দিতে হয়। এর সামাজিক গুরুত্ব:
১. দারিদ্র্য বিমোচন: যাকাত গরিব, মিসকিন ও অভাবীদের অভাব দূর করে এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করে।
২. অর্থের সুষম বণ্টন: ধনীর সম্পদ গরিবের কাছে পৌঁছায়, ফলে সম্পদ কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয় না।
৩. সম্প্রীতি: ধনী ও গরিবের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ কমে এবং ভালোবাসা ও সহযোগিতা বাড়ে।
৪. সম্পদের পবিত্রতা: যাকাত দিলে সম্পদ পরিশুদ্ধ হয়।সুতরাং, যাকাত সামাজিক ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও