সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
আবদুল জব্বার তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি। পরিবারের ৫ জন সদস্যের মুখে খাবার ও শরীরে পরিধেয় সামগ্রী তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে ২ জন স্কুলে যাবার উপযোগী মেয়েকে অভাবের কারণে স্কুলে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া স্ত্রী এক ধরনের। জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও আবদুল জব্বার ডাক্তার ও ঔষধ-পথ্যের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সেজন্য তাকে অন্যের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
- ক)(1)
বাংলাদেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের কত শতাংশ কৃষি খাত থেকে আসে
- খ)(2)
মৌল মানবিক চাহিদা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
জব্বারের পরিবারে কোন কোন মৌল মানবিক চাহিদা অনুপস্থিত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জব্বারের পরিবারের বঞ্চিত চাহিদা পূরণের উপায়সমূহ তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৪-২০১৫ অনুযায়ী মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান ছিল প্রায় ১৫.৯৬ শতাংশ (বা প্রায় ১৬ শতাংশ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের শারীরিক অস্তিত্ব রক্ষা, স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন জীবনযাপনের জন্য যেসব মৌলিক ও অপরিহার্য চাহিদা পূরণ করা একান্ত প্রয়োজন, সেগুলোকে মৌল মানবিক চাহিদা বলে। সমাজবিজ্ঞানী শার্লট টাউলের মতে, এটি প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত: জৈবিক চাহিদা (খাদ্য, ঘুম, যৌনতা ইত্যাদি) এবং সামাজিক চাহিদা (শিক্ষা, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, চিত্তবিনোদন ও নিরাপত্তা)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আবদুল জব্বারের পরিবারে খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা এবং চিকিৎসা—এই মৌলিক চাহিদাগুলো অনুপস্থিত বা ঘাটতি রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জব্বার তার পরিবারের ৫ জন সদস্যের অন্ন (খাবার) ও বস্ত্র (পরিধেয় সামগ্রী) জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন, যা খাদ্য ও বস্ত্রের চাহিদার অপূর্ণতা প্রকাশ করে। তার উপযুক্ত দুই মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে না পারা শিক্ষার চাহিদার অনুপস্থিতি নির্দেশ করে। তদুপরি, অসুস্থ স্ত্রীর জন্য ডাক্তার ও ঔষধের সংস্থান করতে না পারা চিকিৎসার চাহিদার অপ্রতুলতা নির্দেশ করে। অতএব, জীবিকা নির্বাহ ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের অন্যতম মৌল মানবিক চাহিদাগুলো তার পরিবারে অনুপস্থিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবদুল জব্বারের পরিবারের বঞ্চিত মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের জন্য বহুমুখী সামাজিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
প্রথমত, জব্বারের একক উপার্জনের ওপর চাপ কমাতে পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সরকারি বা বেসরকারিভাবে ক্ষুদ্রঋণ এবং স্বকর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ দিলে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব হবে, যা খাদ্য ও বস্ত্রের ঘাটতি দূর করবে। তৃতীয়ত, উপবৃত্তি ও বিনামূল্যে বই-খাতার সরকারি সুবিধার আওতায় মেয়ে দুটিকে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক/মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো যায়। চতুর্থত, সরকারি হাসপাতাল বা কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ সেবা গ্রহণের মাধ্যমে স্ত্রীর চিকিৎসার চাহিদা মেটানো সম্ভব।
অতএব, যথাযথ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং সরকারি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুবিধার আওতায় এনে জব্বারের পরিবারের বঞ্চিত চাহিদাগুলো পূরণ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও