পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' উপনিবেশের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের জন্য ঔপনিবেশিক সরকার পার্লামেন্টে একটি আইন পাস করে। উক্ত আইনে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র, কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন, যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়।
- ক)(1)
পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রথম গভর্নর কে ছিলেন?
- খ)(2)
কী উদ্দেশ্যে মুসলিম লীগ গঠিত হয়েছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ব্রিটিশ ভারতের কোন আইনটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কতটুকু কার্যকর হয়েছিল? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর (বা গভর্নর) ছিলেন স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার (Sir Bampfylde Fuller)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ ভারতে মুসলমানদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণ এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছে মুসলমানদের দাবি-দাওয়া নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এছাড়া ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের সাথে সম্প্রীতি বজায় রাখাও এর উদ্দেশ্য ছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ব্রিটিশ ভারতের ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনটি (Government of India Act 1935) প্রতিফলিত হয়েছে।
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন, কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন, প্রদেশসমূহে দ্বৈতশাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান এবং একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত (Federal Court) প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছিল।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'ক' উপনিবেশের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের জন্য পাসকৃত আইনে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন, কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন, যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো হুবহু ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মূল বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। সুতরাং উদ্দীপকে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনটিই নির্দেশিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর ও অর্থবহ হতে পারেনি।
আইন অনুযায়ী প্রদেশগুলোতে দ্বৈতশাসন বিলোপ করে মন্ত্রীদের হাতে শাসনভার ন্যস্ত করা হয় এবং আইনসভার কাছে তাদের দায়বদ্ধ করা হয়। কিন্তু গভর্নরদের হাতে অসীম 'স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা' ও 'স্ববিবেচনাপ্রসূত ক্ষমতা' প্রদান করা হয়েছিল। গভর্নর চাইলে যেকোনো বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারতেন এবং প্রাদেশিক শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করতে পারতেন। ফলে মন্ত্রিসভা স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো প্রকৃত সুযোগ পায়নি।
সুতরাং দেখা যায় যে, বাহ্যিকভাবে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও গভর্নরদের নিরঙ্কুশ ও বিশেষ ক্ষমতার কারণে তা প্রহসনে পরিণত হয়েছিল এবং কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও