বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

১৬৭ টি আসন (জাতীয় পরিষদ)২৯৮ আসন (প্রাদেশিক পরিষদ)৭৫.১০% ভোট (জাতীয় পরিষদ৭০.৪৮% ভোট (প্রাদেশিক পরিষদ)

  1. ক)

    UNESCO কী?

    (1)
  2. খ)

    জাতীয় স্মৃতিসৌধ কেন নির্মাণ করা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে স্বাধীনতাপূর্ব কোন নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উক্ত নির্বাচনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    UNESCO হলো জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization)।

  2. খ)

    মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ নাম না-জানা শহিদের অমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকার সাভারে অবস্থিত এই সৌধের স্থপতি মঈনুল হোসেন। এর সাত জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়াল বাঙালির ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ ও ১৯৭১ সালের সংগ্রামের প্রতীক। এটি নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনা মনে করিয়ে দেয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে স্বাধীনতাপূর্ব ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন-এর বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ জাতীয় পরিষদে মোট ১৬৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের মধ্যে দলটি পায় ২৯৮টি আসন। ভোটের হিসাবে পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদে ৭৫.১০% এবং প্রাদেশিক পরিষদে ৭০.৪৮% ভোট আওয়ামী লীগ লাভ করে। উদ্দীপকের আসনসংখ্যা ও ভোটের শতকরা হার এই ফলাফলের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

  4. ঘ)

    স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ১৯৭০ সালের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

    ১. বাঙালির স্বাতন্ত্র্যের বিজয়: ১৯৫৪ সালের পর এটিই ছিল সবচেয়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন। এতে ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বাঙালির স্বাতন্ত্র্যের দাবি জনগণের রায়ে বিজয় লাভ করে।
    ২. ছয় দফার বৈধতা: আওয়ামী লীগের ছয় দফাভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি নির্বাচনের ফলাফলে বৈধতা পায়। নির্বাচনের ফলাফল পূর্ব পাকিস্তানকে একটি পৃথক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে।
    ৩. মুক্তিসংগ্রামের সূচনা: আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করেন এবং জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে আন্দোলন তীব্র হয়, আর ২৫শে মার্চের পর সামরিক বাহিনীর আক্রমণে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়েই পরে বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়।

    সুতরাং, ১৯৭০ সালের নির্বাচন বাঙালির গণরায় প্রতিষ্ঠা করে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথ প্রশস্ত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন