ইসলাম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

ইসলাম প্রশ্ন

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী জীমের ধারণা, পৃথিবী হলো কর্মসম্পাদন ও ফলাফলের স্থান। যে যেমন কর্ম করবে সে তেমন ফল পায়। ভালো করলে প্রশংসিত হয়, মন্দ করলে তিরস্কৃত হয়। অপরাধ করলে আদালত ও জেল জুলুমের ব্যবস্থা আছে। জীমের এক সহপাঠী মীম একদিন তার মামার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে এক বক্তাকে বলতে শুনলো, কিয়ামত পর্যন্ত যেহেতু পৃথিবীতে মানুষের আগমন হবে সেহেতু তাদের সৎপথ প্রদর্শনের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত নবি-রাসুলের আগমনও ঘটবে।

  1. ক)

    শিরক ককে বলে?

    (1)
  2. খ)

    তাওহিদে বিশ্বাস করতে হবে কেন?

    (2)
  3. গ)

    জীমের ধারণা ইসলামের কোন বিশ্বাসের পরিপন্থি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মীমের শোনা বক্তার বক্তব্যটি চিহ্নিত করে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি বা ইবাদতে অন্য কাউকে অংশীদার করাকে শিরক বলে।

  2. খ)

    তাওহিদ হলো ইমানের মূল ভিত্তি। তাওহিদে বিশ্বাস না থাকলে মানুষ মুসলিম হতে পারে না। এ বিশ্বাস মানুষকে একমাত্র আল্লাহর কাছে মাথা নত করতে শেখায় এবং সব ধরনের শিরক ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত রাখে। এতে মনে সাহস, আত্মবিশ্বাস ও প্রশান্তি জন্মে। তাই তাওহিদে বিশ্বাস করতে হবে।

  3. গ)

    জীমের ধারণা ইসলামের আখিরাতে বিশ্বাস-এর পরিপন্থি।

    ব্যাখ্যা:
    ১. আখিরাতে বিশ্বাস ইমানের অন্যতম মৌলিক বিষয়। ইসলাম অনুযায়ী দুনিয়া কর্মক্ষেত্র, আর আখিরাত কর্মফল লাভের স্থান।
    ২. জীম মনে করে, পৃথিবীই কর্ম সম্পাদন ও ফলাফলের স্থান। অর্থাৎ সে কর্মের পূর্ণ ফল দুনিয়াতেই সীমাবদ্ধ মনে করে।
    ৩. অথচ দুনিয়ায় অনেক ভালো কাজের যথাযথ প্রতিদান বা অনেক অপরাধের যথাযথ শাস্তি হয় না। তাই পূর্ণ ন্যায়বিচারের জন্য আখিরাত অপরিহার্য। কুরআনে বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন প্রত্যেকে অণু পরিমাণ ভালো-মন্দের ফল পাবে (সূরা যিলযাল: ৭-৮)।

    তাই জীমের ধারণা আখিরাতে বিশ্বাসের পরিপন্থি।

  4. ঘ)

    বক্তার বক্তব্য ছিল, কিয়ামত পর্যন্ত নবি-রাসুলের আগমন ঘটবে। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী এ বক্তব্য ভুল। এটি খতমে নবুয়ত (নবুয়তের সমাপ্তি)-এর বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত।

    বিশ্লেষণ:
    ১. আল্লাহ বলেন, "মুহাম্মদ (স) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল ও সর্বশেষ নবি।" (সূরা আহযাব: ৪০) হাদিসে আছে, "আমার পরে কোনো নবি নেই।"
    ২. কুরআনের মাধ্যমে দ্বীন পূর্ণতা পেয়েছে (সূরা মায়িদা: ৩)। কুরআন ও সুন্নাহ কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের পথনির্দেশক। তাই নতুন নবির প্রয়োজন নেই।
    ৩. খতমে নবুয়তে বিশ্বাস ইমানের অংশ। এটি অস্বীকার করলে ভণ্ড নবির উদ্ভব ঘটে এবং সমাজে ফিতনা ও বিভ্রান্তি ছড়ায়।

    সুতরাং, মীমের শোনা বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। মহানবি (স) সর্বশেষ নবি, আর কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ কুরআন-সুন্নাহর মাধ্যমে সঠিক পথ পাবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন