ইসলাম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

ইসলাম প্রশ্ন

রহমতপুর গ্রামের দুই এলাকার মধ্যে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অনেক লোক আহত হয়। এ ঘটনার পর স্থানীয় ইউ.পি, সদস্য ইকবাল হোসেন উভয় এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একত্র করে সবার সম্মতিতে উভয় এলাকা থেকে সমানভাবে সদস্য নিয়ে 'যুব সংঘ' নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন এবং সংঘের মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। ইহা দেখে রাফি অত্যন্ত খুশি হয় এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নেয়। রাফির ভাই কোনো একটি অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তাকে কঠোর শাস্তি দেয়।

  1. ক)

    কত খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স) হিজরত করেন?

    (1)
  2. খ)

    মদিনা সনদ বলতে কী বোঝায়? লেখো।

    (2)
  3. গ)

    ইকবাল হোসেনের যুব সংঘ প্রতিষ্ঠায় মহানবি (স)-এর গঠিত কোন সংঘের প্রভাব রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রাফির কর্মকাণ্ড যে খলিফার সাথে সম্পর্কিত তার চরিত্র বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মহানবি (স) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে হিজরত করেন।

  2. খ)

    মদিনা সনদ হলো হিজরতের পর মহানবি (স) কর্তৃক মদিনায় মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য গোত্রের মধ্যে সম্পাদিত লিখিত চুক্তি। এতে নাগরিকদের অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের মূলনীতি নির্ধারিত হয়। একে বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয়।

  3. গ)

    ইকবাল হোসেনের যুব সংঘ প্রতিষ্ঠায় মহানবি (স)-এর গঠিত হিলফুল ফুযুল (শান্তিসংঘ)-এর প্রভাব রয়েছে।

    ব্যাখ্যা:
    ১. নবুয়তপূর্ব যুগে আরবে গোত্র-কলহ ও জুলুম চলছিল। তরুণ মুহাম্মদ (স)-এর উদ্যোগে ও অংশগ্রহণে হিলফুল ফুযুল গঠিত হয়।
    ২. এর উদ্দেশ্য ছিল মজলুমকে সাহায্য, অন্যায় দমন ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা।
    ৩. ইকবাল হোসেনও জমি নিয়ে সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষ থেকে সমান সদস্য নিয়ে 'যুব সংঘ' গঠন করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

    তাই তাঁর কাজে হিলফুল ফুযুলের আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    রাফির কর্মকাণ্ড হযরত উমর (রা)-এর ন্যায়বিচারের সাথে সম্পর্কিত।

    চরিত্র বিশ্লেষণ:
    ১. উমর (রা) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। তিনি আইনের প্রয়োগে আত্মীয়-অনাত্মীয়, ধনী-গরিবের মধ্যে পার্থক্য করতেন না। রাফিও নিজ ভাইকে অপরাধের শাস্তি দিয়েছেন।
    ২. তাঁর পুত্র মদপান করলে তিনি তাকে শরিয়ত নির্ধারিত শাস্তি দেন।
    ৩. তিনি রাতে ছদ্মবেশে প্রজাদের খোঁজখবর নিতেন এবং বায়তুল মাল থেকে অভাবীদের সাহায্য করতেন।
    ৪. প্রশাসনিক সংস্কার, বিচার বিভাগের প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি সাম্রাজ্যের বিস্তারে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে।

    সুতরাং, উমর (রা) ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, দৃঢ়চেতা ও জনদরদি শাসক, যাঁর আদর্শ রাফির মতো সবার অনুসরণীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন