হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

এক ব্যক্তি টেক্সিযোগে অফিসে যাওয়ার পথে টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ একটি ব্যাগ টেক্সিতে ফেলে যায়। ড্রাইভার তা দেখতে পেয়ে ব্যাগের কাগজপত্র থেকে ঐ ব্যক্তির ঠিকানা বের করে তার ব্যাগ তাকে ফিরিয়ে দিয়ে আসে। অন্যদিকে, কেশব পাড়ার সকলের' সাথে ভালো সম্পর্ক রাখে। ছোটদেরকে ভালোবাসে এবং বড়দেরকে সম্মান করে। পরিবারের সকল গুরুজনকেও সে ভক্তিশ্রদ্ধা করে।

  1. ক)

    নৈতিক মূল্যবোধ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    জীবঃ ব্রহ্মৈব নাগরঃ'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ড্রাইভারের চরিত্রে কোন ধর্মীয় গুণটি ফুটে উঠেছে তা বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে কেশবের চারিত্রিক ধর্মীয় গুরুত্ব পঠিত পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুর আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ বিচারের যে মানদণ্ড মানুষের আচরণকে সঠিক পথে পরিচালিত করে, তাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলে।

  2. খ)

    'জীবঃ ব্রহ্মৈব নাপরঃ' কথাটি শঙ্করাচার্যের বাণী। এর অর্থ, জীব ব্রহ্ম ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রত্যেক জীবের মধ্যে ঈশ্বর আত্মারূপে বাস করেন। তাই জীবকে সেবা করা মানে ঈশ্বরকেই সেবা করা। এই বিশ্বাস থেকে ধার্মিক ব্যক্তি জীবের প্রতি প্রেম ও জীবসেবাকে পরম কর্তব্য মনে করেন।

  3. গ)

    উদ্দীপকে ড্রাইভারের চরিত্রে ধর্মের গুণ সততা (সত্য ও অস্তেয়) ফুটে উঠেছে।

    পাঠ্যবইয়ের আলোকে: ধর্মের দশ লক্ষণের মধ্যে 'সত্য' ও 'অস্তেয়' অন্যতম। অস্তেয় অর্থ চুরি না করা, অর্থাৎ অপরের জিনিস না বলে অধিকার না করা। আবার বলা হয়েছে, 'সততাই উৎকৃষ্ট পন্থা'। পাঠ্যবইয়ের কাঠুরিয়ার উপাখ্যানে দেখা যায়, গরিব কাঠুরিয়া জলদেবীর দেওয়া সোনা-রুপার কুঠার নিজের নয় বলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, ফলে শেষে পুরস্কৃত হন। তাঁর সততা তাঁকে ধর্মপথে রেখেছিল।

    উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: উদ্দীপকে এক যাত্রী টাকা ও কাগজপত্রসহ ব্যাগ ট্যাক্সিতে ফেলে যায়। ড্রাইভার চাইলে সেই টাকা রেখে দিতে পারত। কিন্তু সে লোভ না করে কাগজপত্র থেকে ঠিকানা খুঁজে বের করে ব্যাগটি মালিককে ফিরিয়ে দিয়ে আসে। এতে কাঠুরিয়ার মতো তার সততা ও পরের জিনিসের প্রতি নির্লোভ মনোভাব প্রকাশ পায়।

    অতএব, ড্রাইভারের চরিত্রে ধর্মের সততা বা অস্তেয় গুণটি ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে কেশব পাড়ার সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখে, ছোটদের ভালোবাসে, বড়দের সম্মান করে এবং গুরুজনদের ভক্তিশ্রদ্ধা করে। এটি শিষ্টাচারের পরিচায়ক, যা ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    পাঠ্যবইয়ের আলোকে: নম্র, ভদ্র ও শিষ্ট আচরণকে শিষ্টাচার বলে। শিষ্টাচার মনুষ্যত্বের অন্যতম প্রধান উপাদান এবং একটি নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মের অঙ্গ।

    ১. ধর্মপথে চলার পাথেয়: শিষ্টাচার ধর্মপথে চলার অন্যতম সহায়ক। কেশব গুরুজনদের শ্রদ্ধা করে বলে সে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করছে। পাঠ্যবইয়ে মাতা-পিতা ও গুরুজনকে প্রণাম করে ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রকাশের কথা আছে।
    ২. পারিবারিক শান্তি: প্রণাম ও নমস্কারের মাধ্যমে ছোটরা বড়দের শ্রদ্ধা করে আর বড়রা ছোটদের আশীর্বাদ করেন, যা পরিবারে স্নেহ-মমতার বন্ধন দৃঢ় করে। কেশবের ছোটদের প্রতি ভালোবাসা এই রীতিরই প্রকাশ।
    ৩. সামাজিক সম্প্রীতি: শিষ্টাচারের দ্বারা মানুষের মন জয় করা যায়। কেশব পাড়ার সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখে বলে সমাজে সম্প্রীতি ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়।
    ৪. ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি: দেব-দেবীর স্তব-স্তুতি ও প্রণামমন্ত্রের মধ্য দিয়েও শিষ্টাচার প্রকাশ পায়। তাই ধর্মাচারের সঙ্গেও শিষ্টাচারের যোগ আছে।

    সুতরাং, কেশবের চারিত্রিক গুণ ধর্মীয় দৃষ্টিতে অত্যন্ত মূল্যবান, কারণ এটি ব্যক্তিকে ধার্মিক করে এবং পরিবার ও সমাজে শান্তি আনে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন