সমাজকর্ম ২য় পত্র • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও সমাজকর্ম • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
৭. 'X' ছয় বছরের বালক। তাকে নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেয়-না। সে কারো চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারে না এবং একই কাজ বার বার করতে পছন্দ করে।
- ক)(1)
যৌতুক কী?
- খ)(2)
পরিমাপযোগ্যতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
'X' কোন সামাজিক সমস্যার শিকার? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে আমাদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিবাহের শর্ত হিসেবে বর বা কনে পক্ষ কর্তৃক অন্য পক্ষের নিকট প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দাবি করা বা প্রদান করা অর্থ, সম্পত্তি বা যেকোনো মূল্যবান সম্পদকে যৌতুক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিমাপযোগ্যতা বলতে কোনো সামাজিক সমস্যা, বিষয় বা ঘটনার বিস্তার, তীব্রতা, প্রভাব এবং প্রকৃতিকে সুনির্দিষ্ট সংখ্যাগত মান বা বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডে নিরূপণ করার ক্ষমতাকে বোঝায়। সমাজকর্মে কোনো সমস্যার সমাধান বা পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সমস্যার আকার, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সঠিকভাবে পরিমাপযোগ্য হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'X' অটিজম (Autism) বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের শিকার।
অটিজম হলো শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশজনিত একটি জটিল স্নায়বিক সমস্যা, যা শিশুর সামাজিক যোগাযোগ, ভাববিনিময় ও আচরণের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ছয় বছরের বালক 'X'-কে নাম ধরে ডাকলে সে সাড়া দেয় না, অন্যের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারে না (eye-contact এড়িয়ে চলে) এবং একই কাজ বারবার করতে পছন্দ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এগুলো অটিজমের সুস্পষ্ট লক্ষণ। অটিজমে আক্রান্ত শিশুরা সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয় এবং তাদের আচরণে একঘেয়ে পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। সুতরাং, লক্ষণগুলো বিশ্লেষণ করে বলা যায় যে 'X' অটিজম সমস্যার শিকার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত সমস্যাটি হলো অটিজম। অটিজম প্রতিরোধ ও অটিস্টিক শিশুর সুরক্ষায় আমাদের করণীয় দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সচেতনতা সৃষ্টি: পরিবার ও সমাজে অটিজম সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
২. প্রাক-জন্মকালীন ও প্রসবকালীন যত্ন: গর্ভাবস্থায় মায়ের সঠিক পুষ্টি, মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ বর্জন এবং ঝুঁকিমুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব নিশ্চিত করতে হবে।
৩. প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ: শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে কোনো ব্যত্যয় বা অটিজমের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত শনাক্ত ও পরিচর্যার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. বিশেষ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ: অটিস্টিক শিশুদের উপযোগী বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তাদের ভাষা, যোগাযোগ ও দৈনন্দিন কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত থেরাপি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. সামাজিক অন্তর্ভুক্তি: তাদেরকে পরিবার ও সমাজের মূল স্রোতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাদের কোনোভাবেই অবহেলা বা বিচ্ছিন্ন না করে স্নেহ, মমতা ও সহমর্মিতার পরিবেশ প্রদান করতে হবে।
৬. সরকারি ও নীতিগত সহায়তা: অটিস্টিক ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় প্রণীত আইন বাস্তবায়ন এবং পুনর্বাসন কেন্দ্র ও সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করতে হবে।
সুতরাং, সম্মিলিত পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও