যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

রফিক সাহেব ক্লাসে বলেন, প্রাণীকে আমরা মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীতে ভাগ করতে পারি। তবে প্রাণীকে আবার মানুষ ও অমানুষেও ভাগ করা যায়।

  1. ক)

    বিধেয়ক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বিধেয় ও বিধেয়ক এক নয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    রফিক সাহেবের দ্বিতীয় দৃষ্টান্তে কোন বিধেয়কের ইঙ্গিত এসেছে?

    (3)
  4. ঘ)

    রফিক সাহেবের প্রথম উক্তিতে যে দুটি বিধেয়কের ইঙ্গিত এসেছে সেগলোর সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সদর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদের মধ্যকার সম্বন্ধকে বিধেয়ক (Predicable) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিধেয় এবং বিধেয়ক এক নয়; এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে:
    ১. বিধেয় হলো একটি 'পদ' (Term), যা যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে। পক্ষান্তরে, বিধেয়ক হলো উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার একটি 'সম্পর্ক' (Relation)।
    ২. বিধেয় সদর্থক ও নঞর্থক উভয় প্রকার যুক্তিবাক্যে থাকতে পারে। কিন্তু বিধেয়ক কেবল সদর্থক যুক্তিবাক্যেই বিদ্যমান থাকে; নঞর্থক বাক্যে কোনো বিধেয়ক থাকে না।
    ৩. বিধেয় একটি দৃশ্যমান বা প্রত্যক্ষ শব্দ/শব্দসমষ্টি, কিন্তু বিধেয়ক একটি ভাবগত বা বুদ্ধিগ্রাহ্য সম্বন্ধ। অতএব, বিধেয় ও বিধেয়ক এক নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রফিক সাহেবের দ্বিতীয় দৃষ্টান্তে 'উপজাতি' (Species) নামক বিধেয়কের ইঙ্গিত এসেছে।

    যুক্তিবিদ্যায় যখন দুটি শ্রেণিবাচক পদ এমন সম্পর্কে সম্পর্কিত হয় যে একটি পদ ব্যাপকতর শ্রেণিকে নির্দেশ করে এবং অন্য পদটি তার অন্তর্ভুক্ত সংকীর্ণ শ্রেণিকে নির্দেশ করে, তখন সংকীর্ণতর শ্রেণিকে ব্যাপকতর শ্রেণির সাপেক্ষে 'উপজাতি' বলে।

    উদ্দীপকে রফিক সাহেব বলেন, "প্রাণীকে আবার মানুষ ও অমানুষেও ভাগ করা যায়।" এখানে 'প্রাণী' হলো ব্যাপকতর শ্রেণি বা 'জাতি' (Genus), এবং 'মানুষ' ও 'অমানুষ' হলো প্রাণী জাতির অন্তর্ভুক্ত সংকীর্ণতর শ্রেণি। অর্থাৎ, প্রাণী জাতির সাপেক্ষে 'মানুষ' হলো একটি উপজাতি। সুতরাং, রফিক সাহেবের দ্বিতীয় দৃষ্টান্তে মূলত উপজাতি বিধেয়কের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রফিক সাহেবের প্রথম উক্তিতে ("প্রাণীকে আমরা মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীতে ভাগ করতে পারি") মূলত 'জাতি' (Genus) এবং 'উপজাতি' (Species)—এই দুটি বিধেয়কের ইঙ্গিত এসেছে। এখানে 'প্রাণী' হলো জাতি এবং 'মেরুদণ্ডী প্রাণী' ও 'অমেরুদণ্ডী প্রাণী' হলো তার অন্তর্গত উপজাতি।

    জাতি ও উপজাতির মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. সাপেক্ষ সম্বন্ধ: জাতি ও উপজাতির সম্পর্ক আপেক্ষিক বা সাপেক্ষ। কোনো একটি শ্রেণি এককভাবে সর্বদাই জাতি বা সর্বদাই উপজাতি হতে পারে না। একটি শ্রেণি তার চেয়ে ব্যাপকতর শ্রেণির সাপেক্ষে উপজাতি এবং সংকীর্ণতর শ্রেণির সাপেক্ষে জাতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
    ২. ব্যক্ত্যর্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক: ব্যক্ত্যর্থ বা পরিমাণের দিক থেকে জাতি সর্বদাই তার উপজাতির চেয়ে ব্যাপক। এখানে 'প্রাণী' জাতির পরিধি বা সংখ্যা 'মেরুদণ্ডী প্রাণী' উপজাতির চেয়ে অনেক বেশি, কারণ অমেরুদণ্ডী প্রাণীরাও প্রাণী জাতির অন্তর্ভুক্ত।
    ৩. জাত্যর্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক: জাত্যর্থ বা গুণের দিক থেকে উপজাতির গুণ জাতির চেয়ে বেশি। কারণ উপজাতিতে জাতির সাধারণ গুণাবলির পাশাপাশি একটি নিজস্ব অতিরিক্ত গুণ (লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ—যেমন এখানে 'মেরুদণ্ড থাকা') যুক্ত থাকে।
    ৪. অংশ ও সমগ্রের সম্পর্ক: উপজাতি সবসময় জাতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। একাধিক উপজাতি একত্রিত হয়ে একটি বৃহত্তর জাতি গঠন করে।

    সুতরাং, উদ্দীপকের প্রথম উক্তিতে জাতি ও উপজাতির একটি যৌক্তিক ও পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্কের প্রকাশ ঘটেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন