বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
এবারের বন্যায় ছাত্ররা বানভাসি মানুষের সাহায্যের জন্য সচ্ছল মানুষের ঘরে ঘরে যায়। বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ তারা সংগ্রহ করে। এক সময় তরুণদের উপলব্ধি হয় কেবল অর্থ সাহায্য করে মানুষের উপকার করলেই হবে না, একটা সংগঠন গড়ে তুলে সেটার মাধ্যমে স্থায়ী পরিবর্তন করে অসহায়দের স্বাবলম্বী করা সম্ভব।
- ক)(1)
"ওপরের হাত সবসময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ।" কথাটি কার?
- খ)(2)
“সত্যিকার 'মানব-কল্যাণ' মহৎ চিন্তাভাবনারই ফসল।"-এ বাক্যের মর্মার্থ লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ছাত্রদের অর্থ সাহায্য 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের কোন বিষয়কে ইঙ্গিত করে? বুঝিয়ে লেখ।
- ঘ)(4)
“ছাত্রদের নতুন উপলব্ধি ও 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূল বক্তব্য একই।" আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ওপরের হাত সবসময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ"— কথাটি মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হাদিস থেকে উদ্ধৃত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“সত্যিকার 'মানব-কল্যাণ' মহৎ চিন্তাভাবনারই ফসল” বলতে বোঝানো হয়েছে যে, বাহ্যিক দান-খয়রাত মানবকল্যাণ নয়, বরং মানুষের সার্বিক বিকাশ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাই হলো প্রকৃত কল্যাণ।
সাময়িক ত্রাণ বা সাহায্য দিয়ে মানুষকে চিরকাল পরমুখাপেক্ষী করে রাখা প্রকৃত মানবকল্যাণ নয়। মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগ্রত করা, তাকে আত্মমর্যাদাশীল ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা এবং সমাজের সামগ্রিক মঙ্গলের জন্য বৃহত্তর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন চিন্তার প্রয়োজন হয়। তাই সংকীর্ণ মানসিকতা পরিহার করে উন্নত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই কেবল সত্যিকার মানবকল্যাণ সাধন করা সম্ভব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ছাত্রদের অর্থ সাহায্য 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের তথাকথিত সংকীর্ণ বা খণ্ডিত মানবকল্যাণের ধারণাকে ইঙ্গিত করে।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক আবুল ফজল দেখিয়েছেন যে, সাধারণ দৃষ্টিতে আমরা কোনো আর্তপীড়িত বা দুস্থ মানুষকে কিছু দান-খয়রাত বা অর্থসাহায্য করাকেই মানবকল্যাণ মনে করি। কিন্তু লেখক এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সংকীর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ এতে গ্রহীতার মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এবং সে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ছাত্ররা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ঘরে ঘরে গিয়ে অর্থ ও ত্রাণ সংগ্রহ করে তাদের সাহায্য করেছে। এই কর্মকাণ্ডটি সমাজের প্রচলিত 'সাহায্য বা রিলিফ' বিতরণের মতো কল্যাণমূলক কাজের রূপ, যা সাময়িক সংকট মোচনে সহায়ক হলেও মানুষের স্থায়ী কোনো মুক্তি আনে না। এটি প্রবন্ধে আলোচিত প্রাথমিক ও গতানুগতিক মানবকল্যাণের দিকটিকেই ইঙ্গিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“ছাত্রদের নতুন উপলব্ধি ও 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূল বক্তব্য একই” — মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক আবুল ফজল স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল মুষ্টিভিক্ষা বা সাময়িক সাহায্য-সহায়তা দেওয়া প্রকৃত মানবকল্যাণ হতে পারে না। প্রকৃত মানবকল্যাণের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের আত্মমর্যাদাবোধকে সমুন্নত রাখা এবং তাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করা। প্রবন্ধকার এমন একটি মানবিক সমাজ বিনির্মাণের কথা বলেছেন, যেখানে মানুষ কোনো কৃপাপ্রার্থী বা পরনির্ভরশীল জীব হবে না, বরং প্রত্যেকে স্বাবলম্বী হয়ে গড়ে উঠবে।
উদ্দীপকের ছাত্ররা প্রথমে বন্যার্তদের কেবল অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী দিয়ে সাহায্য করছিল। কিন্তু অচিরেই তাদের মধ্যে এই শুভবোধের উদয় হয় যে, সাময়িক অর্থ সাহায্য করে মানুষের স্থায়ী কল্যাণ সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক বা সাংগঠনিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে মানুষকে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলা যাবে।
দেখা যাচ্ছে, ছাত্রদের এই উপলব্ধি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের কেন্দ্রীয় দর্শনের সাথে হুবহু মিলে যায়। উভয়েরই লক্ষ্য দান গ্রহণকারীকে পরনির্ভরশীলতার গ্লানি থেকে মুক্ত করে তার ভেতর স্বাবলম্বন ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। সুতরাং, ছাত্রদের নতুন উপলব্ধি এবং 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূল বক্তব্য সম্পূর্ণ সমার্থক ও এক সূত্রে গাঁথা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও