পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
রাষ্ট্রপতি নামসর্বস্ব। | রাষ্ট্রপ্রধান প্রকৃত শাসক।
প্রধানমন্ত্রী সরকার প্রধান। | রাষ্ট্রপতি সরকার প্রধান।
মন্ত্রিসভার সকল সদস্য আইনসভার নিকট দায়ী। | মন্ত্রিসভার সকল সদস্য রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী।

- ক)(1)
সরকারের বিভাগ/অঙ্গ কয়টি ও কী কী?
- খ)(2)
দায়িত্বশীল সরকার বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' রাষ্ট্রে কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তোমার রাষ্ট্রের জন্য উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থা ও 'খ' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থার মধ্যে তুমি কোন সরকার ব্যবস্থাকে উপযোগী বলে মনে কর এবং কেন? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারের প্রধান অঙ্গ বা বিভাগ তিনটি। যথা: ১. আইন বিভাগ, ২. শাসন বিভাগ এবং ৩. বিচার বিভাগ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাসনব্যবস্থায় সরকার তার যাবতীয় কাজের জন্য জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রতিনিধিসভা অর্থাৎ আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে, তাকে দায়িত্বশীল সরকার বলে।
সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থাকে সাধারণত দায়িত্বশীল সরকার বলা হয়। এই ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভা নিজেদের নীতি ও কর্মকাণ্ডের জন্য আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকে। আইনসভার আস্থা হারালে সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়, ফলে সরকারের মধ্যে স্বেচ্ছাচারিতা রোধ পায় এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা এবং 'খ' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের ওপর নির্ভরশীল থাকে। এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান হন এবং প্রধানমন্ত্রীই সরকারের প্রকৃত প্রধান হিসেবে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। মন্ত্রিসভার সকল সদস্য তাদের কাজের জন্য একক ও যৌথভাবে আইনসভার কাছে দায়ী থাকেন। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যে দেখা যায়—রাষ্ট্রপতি নামসর্বস্ব, প্রধানমন্ত্রী সরকার প্রধান এবং মন্ত্রিসভা আইনসভার নিকট দায়ী, যা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
অপরদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে শাসন বিভাগ আইন বিভাগ থেকে পৃথক ও স্বাধীন থাকে। এতে রাষ্ট্রপতি একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান এবং তিনিই প্রকৃত শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা আইনসভার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী থাকেন। উদ্দীপকের 'খ' রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যে দেখা যায়—রাষ্ট্রপ্রধানই প্রকৃত শাসক, রাষ্ট্রপতি সরকার প্রধান এবং মন্ত্রিসভা রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী। অতএব, 'খ' রাষ্ট্রটিতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমার রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থা অর্থাৎ সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থাকেই অধিক উপযোগী বলে মনে করি।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে সংসদীয় এবং 'খ' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রতিফলিত হয়েছে। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা অধিক উপযোগী মনে হওয়ার কারণসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা: এ ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভাকে তাদের প্রতিটি কাজের জন্য জাতীয় সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। আইনসভায় অনাস্থা প্রস্তাব পাস হলে সরকারের পতন ঘটে, যা শাসন বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিহত করে।
২. আইন ও শাসন বিভাগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক: সংসদীয় পদ্ধতিতে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় থাকে। ফলে আইন প্রণয়ন ও তা কার্যকর করা সহজ হয় এবং সরকারের ভেতর অচলাবস্থা তৈরি হয় না।
৩. স্বৈরাচার রোধ: রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির হাতে একক ও ব্যাপক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকায় স্বৈরাচারী হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু সংসদীয় ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার যৌথ নেতৃত্বের কারণে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ কম।
৪. নমনীয়তা ও বিরোধী দলের ভূমিকা: এ ব্যবস্থায় বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে ছায়া সরকারের ভূমিকা পালন করতে পারে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে।বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং সাংবিধানিক কাঠামোর আলোকে জবাবদিহিমূলক শাসন নিশ্চিত করার জন্য 'ক' রাষ্ট্রের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থাই সর্বোত্তম ও সর্বাধিক উপযোগী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও