ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
বর্তমান বিশ্ববাসী শান্তি চায়। কোনো পরিস্থিতিতেই তারা যুদ্ধকে মেনে নিতে চায় না। কিন্তু ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে আমরা দেখেছি, ইসরায়েল একটি গৌণ বিষয়কে কেন্দ্র করে গাজাতে অমানবিক হামলা চালায়। এতে প্রায় কয়েক হাজার নিরস্ত্র, অসহায় ফিলিস্তিনি নারী, শিশু, পুরুষ নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করে। অনেক রক্তক্ষয়ের পর অবশ্য ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনের সাথে একটি চুক্তি করতে সম্মত হয়। বন্ধ হয় গণহত্যা।
- ক)(1)
ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার প্রধান আসামি কে ছিলেন?
- খ)(2)
প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কেন গঠিত হয়েছিল?
- গ)(3)
ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতার সাথে ১৯৭১ সালের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ইসরায়েলি বর্বরতার উত্তরে ফিলিস্তিনিদের কর্মকাণ্ডের সাথে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির কর্মকাণ্ডের তুলনামূলক আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা, যুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদান এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) গঠিত হয়েছিল।\n\nবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত এই সরকারের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য যুদ্ধ পরিচালনা করা, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যৌক্তিকতা তুলে ধরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতার সাথে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার সাদৃশ্য রয়েছে।\n\nউদ্দীপকে দেখা যায়, ২০১৪ সালে ইসরায়েলি বাহিনী গৌণ বিষয়কে অজুহাত করে নিরস্ত্র ও অসহায় ফিলিস্তিনিদের ওপর আকাশ ও স্থলপথে নির্বিচার আক্রমণ চালায়, যাতে বহু নিরীহ নারী, পুরুষ ও শিশু নিহত হয়। একইভাবে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে ('অপারেশন সার্চলাইট') পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ও নিরস্ত্র বাঙালি জনগণের ওপর ট্যাংক, কামান ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে গণহত্যা শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ সারাদেশে দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী নিরীহ বেসামরিক মানুষের ওপর নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। উভয় ঘটনাই আগ্রাসী শক্তির নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীর ওপর চালিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও নির্মম বর্বরতাকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসরায়েলি বর্বরতার মুখে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে আত্মরক্ষা ও স্বাধীনতার স্পৃহার দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য ও কিছু পার্থক্য বিদ্যমান।\n\nসাদৃশ্যসমূহ:\n১. প্রতিরোধ সংগ্রাম: উভয় জাতিই আগ্রাসী ও দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফিলিস্তিনিরা তাদের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে পাথর ও সাধারণ অস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে। একইভাবে বাঙালি জাতিও তাদের যা কিছু ছিল তাই নিয়ে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।\n২. জনসমর্থন ও আত্মত্যাগ: উভয় জাতির সাধারণ জনগণ নিজ ভূমির অস্তিত্ব রক্ষায় চরম আত্মত্যাগ স্বীকার করেছে।\n\nপার্থক্য ও তুলনামূলক দিক:\n১. সামরিক পরিণতি: বাঙালিরা মাত্র নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সুসংগঠিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের সংগ্রাম দশকের পর দশক ধরে চলমান এবং তারা এখনও তাদের পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।\n২. নেতৃত্ব ও ঐক্য: ১৯৭১ সালে সমগ্র বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক নেতৃত্বে ও মুজিবনগর সরকারের দিকনির্দেশনায় সুসংগঠিত ছিল, যা ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত থাকায় দীর্ঘমেয়াদী সফলতার অন্তরায় হয়েছে।\n\nসুতরাং বলা যায়, ফিলিস্তিনিদের আত্মরক্ষা ও সংগ্রামের চেতনা বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মতোই অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াই হলেও বাঙালিরা দ্রুত বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল, যা ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে এখনও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের রূপ নিয়ে টিকে আছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও