অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা আবশ্যক। বাংলাদেশ সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পদ্মা সেতুর মতো বিশাল প্রকল্পের বাস্তবায়ন এগিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত মূলধন, সক্ষমতা ও দক্ষতা এবং বিশেষজ্ঞের অভাব বিদ্যমান।

  1. ক)

    দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী?

    (1)
  2. খ)

    উন্নয়ন পরিকল্পনা কীভাবে বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরতা হ্রাস করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রকল্পগুলোসহ অন্যান্য প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের সমস্যাবলি আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণত ১০ থেকে ২০ বা ২৫ বছর মেয়াদের জন্য যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, তাকে দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (Perspective Plan) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য থাকে দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে স্বনির্ভরতা অর্জন করা। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধি, উৎপাদনশীল খাতের প্রসার, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আমদানি বিকল্প শিল্প গড়ে তোলে। ফলে নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং বিদেশি সাহায্য ও শর্তযুক্ত ঋণের ওপর দেশের নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্পসহ অন্যান্য জাতীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান সমস্যাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. মূলধনের অপ্রতুলতা: মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি অর্থের প্রয়োজন হয়। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় ও রাজস্ব আয় সীমিত হওয়ায় মূলধনের সংকট দেখা দেয়।
    ২. কারিগরি জ্ঞান ও বিশেষজ্ঞের অভাব: অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও কারিগরি বিশেষজ্ঞের অভাব থাকায় বৈদেশিক বিশেষজ্ঞদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করতে হয়, যা প্রকল্প ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
    ৩. প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষতার ঘাটতি: প্রশাসনিক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রকল্পের যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ঘাটতি এবং অদক্ষ জনবলের কারণে প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হতে পারে না।
    ৪. দুর্নীতি ও সময়ক্ষেপণ: প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব, দুর্নীতি এবং বারবার মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উন্নয়ন পরিকল্পনা ও মেগা প্রকল্পসমূহ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার নিম্নলিখিত কার্যকর পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারে:

    ১. অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি: করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং টেকসই আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ মূলধন জোগান বাড়ানো।
    ২. মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষা: আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিদ্যায় স্থানীয় জনবলকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ করতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করা, যাতে বিশেষজ্ঞের ঘাটতি কমে।
    ৩. পিপিপি (Public-Private Partnership) জোরদার: বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বেসরকারি ও বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) উৎসাহিত করা।
    ৪. স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা: প্রকল্প নির্বাচন ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, নিয়মিত মনিটরিং ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করা।
    ৫. সময়মতো বাস্তবায়ন: আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা হ্রাস করে প্রকল্পের সময়সীমা কঠোরভাবে তদারকি করা যাতে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি না পায়।

    আমার মতে, নিজস্ব সম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে উন্নয়ন পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন