পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
জাতি কী?
- খ)(2)
লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম ত্রুটি কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত (A) চিহ্নিত অধিকারের নাম কী? এর প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, (A) চিহ্নিত অধিকারের অনেকগুলো রক্ষাকবচ আছে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন এবং স্বাধীন বা স্বাধীনতাকামী জনসমাজকে জাতি (Nation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমলাতন্ত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের দীর্ঘসূত্রতা, আনুষ্ঠানিকতা ও নিয়মের অতিরিক্ত কড়াকড়িকে 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' (Red Tapism) বলা হয়। অতীতে সরকারি নথিপত্র লাল ফিতা দিয়ে বেঁধে রাখা হতো এবং নিয়মের বেড়াজালে বন্দি হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অহেতুক বিলম্ব ঘটত। আমলাতন্ত্রে দায়িত্ব এড়ানো, অত্যধিক নিয়মনিষ্ঠা এবং কালক্ষেপণের ফলে জনগণের জরুরি সেবা বিঘ্নিত হয়। এই অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ও জটিলতার কারণেই লালফিতার দৌরাত্ম্যকে আমলাতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ত্রুটি মনে করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অধিকারকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে—নৈতিক অধিকার এবং 'A' চিহ্নিত অধিকার। সুতরাং, (A) চিহ্নিত অধিকারের নাম হলো 'আইনগত অধিকার' (Legal Rights)।
যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন দ্বারা স্বীকৃত ও সংরক্ষিত হয় এবং যা ভঙ্গ করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে, তাকে আইনগত অধিকার বলে। আইনগত অধিকারকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সামাজিক অধিকার: সমাজে সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণভাবে বসবাসের জন্য নাগরিক যে অধিকারগুলো ভোগ করে, তাকে সামাজিক অধিকার বলে। যেমন—জীবনধারণের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, সম্পত্তির অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।
২. রাজনৈতিক অধিকার: রাষ্ট্রের শাসনকাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের জন্য নাগরিকরা যেসব অধিকার লাভ করে, তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। যেমন—ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার ও সরকারি চাকরি লাভের অধিকার।
৩. অর্থনৈতিক অধিকার: জীবিকা নির্বাহ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা লাভের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, সেগুলোকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। যেমন—কর্মের অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার ও অবকাশযাপনের অধিকার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে (A) চিহ্নিত অধিকার অর্থাৎ 'আইনগত অধিকার'-এর অনেকগুলো রক্ষাকবচ রয়েছে। কারণ উপযুক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকলে নাগরিকরা তাদের অধিকার পূর্ণাঙ্গভাবে ভোগ করতে পারে না।
আইনগত অধিকার সংরক্ষণের প্রধান প্রধান রক্ষাকবচ নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ: সংবিধানে অধিকারগুলো লিপিবদ্ধ থাকলে সরকার সহজে তা লঙ্ঘন করতে পারে না। ফলে নাগরিক অধিকারের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠিত হয়।
২. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: আইনের শাসন বজায় থাকলে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই সমানভাবে অধিকার ভোগ করতে পারে। আইন অনুযায়ী সকল নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
৩. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা: শাসন বিভাগ বা আইন বিভাগ যাতে নাগরিকদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সেজন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ অপরিহার্য। বিচার বিভাগের মাধ্যমে অধিকার ভঙ্গের প্রতিকার পাওয়া যায়।
৪. ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি: সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ও স্বতন্ত্রীকরণ থাকলে কোনো বিভাগ স্বৈরাচারী হতে পারে না, ফলে অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
৫. জাগ্রত জনমত ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: নাগরিকদের সচেতনতা এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম সরকারের যেকোনো অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং অধিকার রক্ষা করে।
পরিশেষে বলা যায়, উপর্যুক্ত রক্ষাকবচগুলো কার্যকর থাকলেই আইনগত অধিকার কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে রূপ লাভ করে। অতএব, আইনগত অধিকারের সুরক্ষায় এসব রক্ষাকবচের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও