মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: তমাল সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তার বয়স ১২ বছর। সে খুব চুপচাপ থাকে। মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে চলে এবং সামান্য বিষয় নিয়েই মেজাজ খারাপ করে। তবে তার পিতামাতা সব সময় তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখেন।
দৃশ্যকল্প-২: নীলার বয়স ১১ বছর। সামান্য বিষয়ে তার আবেগ তীব্র হয়ে ওঠে। বন্ধুদের মতামত তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
- ক)(1)
মানসিক স্বাস্থ্য কী?
- খ)(2)
আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে মানসিক স্বাস্থ্য কীভাবে সম্পর্কিত?
- গ)(3)
নীলা এখন বিকাশের যে স্তরে আছে তার তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
- ঘ)(4)
‘তমালের বয়সে সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’— উক্তিটি যুক্তিসহকারে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানসিক স্বাস্থ্য হলো ব্যক্তির এমন একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ মানসিক অবস্থা, যার মাধ্যমে সে নিজের সক্ষমতা উপলব্ধি করতে পারে, জীবনের স্বাভাবিক চাপ মোকাবিলা করতে পারে এবং সমাজের জন্য ফলপ্রসূ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবহাওয়ার পরিবর্তন মানুষের শারীরিক অনুভূতির পাশাপাশি মেজাজ ও আবেগের ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত গরম, আর্দ্রতা বা মেঘলা আবহাওয়া মানুষের মধ্যে ক্লান্তি, বিরক্তি, বিষণ্ণতা ও অস্থিরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিপরীতভাবে, মনোরম ও অনুকূল আবহাওয়া মানুষের মনকে উৎফুল্ল, কর্মচঞ্চল ও ইতিবাচক রাখে। এভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য গভীরভাবে সম্পর্কিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নীলার বয়স ১১ বছর, যা মানব বিকাশের বয়ঃসন্ধিকাল বা প্রাক-কৈশোর স্তরের অন্তর্গত। এ স্তরের তিনটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:
১. তীব্র আবেগ ও মেজাজের পরিবর্তন: এ বয়সে হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে আবেগের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং মেজাজ ঘন ঘন পরিবর্তিত হয়।
২. সমবয়সী বা বন্ধুমহলের প্রভাব: এ স্তরে পরিবারের চেয়ে সহপাঠী বা বন্ধুদের মতামত ও মূল্যায়ন তাদের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৩. আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা: এ সময়ে কিশোর-কিশোরীরা নিজের স্বাধীনতা বজায় রাখতে চায় এবং নিজস্ব পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘তমালের বয়সে সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’— উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
উদ্দীপকে তমালের বয়স ১২ বছর, যা বয়ঃসন্ধিকালের শুরুর সময়। এ বয়সে শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তনের কারণে কিশোর-কিশোরীরা অন্তর্মুখী হয়ে পড়া, একাকী থাকা কিংবা সহজেই রেগে যাওয়ার মতো আচরণ প্রদর্শন করতে পারে। তমালের ক্ষেত্রেও চুপচাপ থাকা, সঙ্গ এড়িয়ে চলা ও দ্রুত মেজাজ খারাপ হওয়ার লক্ষণগুলো প্রকাশ পেয়েছে।
এ বয়সে মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রধান আশ্রয়স্থল হলো পরিবার। পরিবারের ভূমিকা যেভাবে কাজ করে:
১. সহানুভূতিশীল আচরণ: তমালের পিতামাতার মতো বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখলে কিশোররা নিজেদের নিরাপদ মনে করে এবং তাদের মনের সংশয় ও হতাশা প্রকাশ করতে পারে।
২. মানসিক সমর্থন ও যোগাযোগ: পরিবার যদি অতিরিক্ত শাসন না করে সহমর্মিতার সাথে কিশোরদের সমস্যা শোনে, তবে হীনমন্যতা ও বিচ্ছিন্নতাবোধ দূর হয়।
৩. আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: পরিবারের গ্রহণযোগ্যতা ও সঠিক নির্দেশনা কিশোরদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে এবং তাদের সুস্থ ব্যক্তিত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।অতএব, বয়ঃসন্ধিকালীন জটিলতা কাটিয়ে উঠে সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে পরিবারের সহানুভূতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও