বিজ্ঞান • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

বিজ্ঞান প্রশ্ন

সালাম সাহেব জটিল রোগে আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার বললেন দুটি পদ্ধতিতে এর চিকিৎসা করা যায়। প্রথমটিতে ফোটন কণা বা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এবং দ্বিতীয়টিতে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার করে।

  1. ক)

    জিন প্রকৌশল কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    শরীরের একই জায়গায় বারবার এক্স-রে করা ঝুঁকিপূর্ণ কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় চিকিৎসা পদ্ধতির ঝুঁকি ও ঝুঁকি এড়ানোর কৌশল ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সালাম সাহেবের রোগটি নিরাময় ঝুঁকিপূর্ণ- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো জীবের জিনে বা DNA-তে পরিবর্তন ঘটানো হয় এবং নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব সৃষ্টি করা হয়, তাকে জিন প্রকৌশল বলে।

  2. খ)

    এক্স-রে এক ধরনের আয়নায়নকারী বিকিরণ, যা দেহকোষের ক্ষতি করতে পারে। একই জায়গায় বারবার এক্স-রে করলে ওই স্থানের কোষ বারবার বিকিরণ গ্রহণ করে এবং বিকিরণের মাত্রা জমতে থাকে। এতে কোষের DNA ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই একই স্থানে বারবার এক্স-রে করা ঝুঁকিপূর্ণ।

  3. গ)

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি হলো বিশেষ রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার, যা ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে কেমোথেরাপি হিসেবে পরিচিত।

    ঝুঁকি:

    ১. এই ঔষধ শুধু রোগাক্রান্ত কোষ নয়, দেহের সুস্থ কোষেরও ক্ষতি করতে পারে।

    ২. ফলে বমি বমি ভাব, চুল পড়া, দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

    ৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

    ঝুঁকি এড়ানোর কৌশল:

    ১. বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে এবং নির্ধারিত মাত্রায় ঔষধ গ্রহণ করা।

    ২. নিয়মিত রক্ত ও অন্যান্য পরীক্ষা করে দেহের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা।

    ৩. পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সংক্রমণ থেকে সতর্ক থাকা।

    ৪. পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

  4. ঘ)

    সালাম সাহেবের রোগটি, যা উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ বলে মনে হয়, নিরাময় ঝুঁকিপূর্ণ।

    ১. বিকিরণ চিকিৎসার ঝুঁকি: ফোটন কণা বা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ব্যবহার করে রোগাক্রান্ত কোষ ধ্বংস করা হয়। কিন্তু এই বিকিরণ আশপাশের সুস্থ কোষের DNA-ও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে ত্বকের ক্ষতি, দুর্বলতা ও নতুন করে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    ২. রাসায়নিক ঔষধের ঝুঁকি: দ্বিতীয় পদ্ধতিতে ঔষধ সুস্থ কোষেরও ক্ষতি করে, ফলে বমি, চুল পড়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার সমস্যা হয়।

    ৩. ঝুঁকি কমানোর উপায়: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক মাত্রা নির্ধারণ, যতটা সম্ভব রোগাক্রান্ত অংশে বিকিরণ সীমিত রাখা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে ঝুঁকি অনেকটা কমানো যায়।

    সুতরাং, উভয় পদ্ধতিতেই সুস্থ কোষের ক্ষতির ঝুঁকি আছে বলে রোগটির নিরাময় ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সঠিক তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিলে ঝুঁকি কমিয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন