বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আমি একা নই, অসংখ্য মানুষ পিঁপড়ের মতো ছুটছিল। মাথায় সুটকেস বগলে কাপড়ের গাঁটরি। হাতে হারিকেন। কোমরে বাচ্চা চোখেমুখে কী এক অস্থির আতঙ্ক। কথা নেই। মৌন সবাই। সহসা কে যেন বলল, ওদিকে যাবেন না। মিলিটারি। নৌকায় করে লোকজন সব ওপারে পালাচ্ছিল। মিলিটারি ওদের ওপরে গুলি করেছে। দু-তিনশ লোক মারা গেছে ওখানে। যাবেন না। মনে হলো, পায়ের সঙ্গে যেন কয়েক মন পাথর বেঁধে দিয়েছে কেউ । সামনে এগিয়ে যাব ভরসা পাচ্ছি না। পর মুহূর্তে একটা হেলিকপ্টারের শব্দ শুনতে পেলাম । তারপর মনে হলো, একসঙ্গে যেন অনেকগুলো বাজ পড়ল। মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে গেলাম। কিছু দেখতে পাচ্ছি না। শুধু অনেকগুলো শব্দের তাণ্ডব। মেশিনগানের শব্দ বাচ্চাদের কান্না। কতগুলো মানুষের আর্তনাদ। কাতরোক্তি। কয়েকটা কুকুরের চিৎকার। মানুষের বিলাপ একটি কিশোরের কন্ঠস্বর। বাজান। বাজান। তারপর শ্মশানের নীরবতা।
- ক)(1)
১৯৭১ সালে ১৩ই এপ্রিল কী বার ছিল?
- খ)(2)
'ধরণী দ্বিধা হও' কেন এ কথাটি বলা হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকটি ‘একাত্তরের দিনগুলি' রচনার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে— ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকটি 'একাত্তরের দিনগুলি' রচনার খণ্ডাংশ মাত্র”- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
১৯৭১ সালের ১৩ই এপ্রিল ছিল মঙ্গলবার।
- খ)
'ধরণী দ্বিধা হও' কথাটি চরম দুঃখ, লজ্জা ও অসহায়তা প্রকাশ করার জন্য বলা হয়েছে। পাকিস্তানি হানাদারদের নির্মম অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞের খবর শুনে বা দেখে মানুষ এতটাই মর্মাহত হয় যে এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা সহ্য করার চেয়ে মাটির নিচে মিলিয়ে যেতে চায়। এতে সেই সময়ের ভয়াবহতা ও মানুষের মর্মবেদনা ফুটে ওঠে।
- গ)
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিলিটারির গুলির ভয়ে অসংখ্য মানুষ মাথায় সুটকেস ও বগলে গাঁটরি নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে ছুটছে। নৌকায় পালানো মানুষদের ওপর গুলি, হেলিকপ্টারের শব্দ, মেশিনগানের আওয়াজ, শিশুদের কান্না ও আর্তনাদে একটি ভয়ংকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
'একাত্তরের দিনগুলি' রচনায়ও মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি সেনাদের নৃশংসতা, মানুষের আতঙ্ক, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি ও অনিশ্চয়তার চিত্র ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে এই আতঙ্ক, নৃশংসতা ও বিপন্ন মানুষের দিকটিই প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
উদ্দীপকে মিলিটারির হামলা, মানুষের পলায়ন ও ভয়াবহ নীরবতার যে চিত্র আছে, তা 'একাত্তরের দিনগুলি' রচনার একটি অংশমাত্র। মন্তব্যটি যথার্থ।
১. উদ্দীপকে শুধু হানাদারদের নিষ্ঠুরতা ও মানুষের আতঙ্কের কথা এসেছে; রচনায় এর পাশাপাশি লেখকের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের উদ্বেগ, প্রিয়জনদের জন্য দুশ্চিন্তার কথাও আছে।
২. রচনায় মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন, দেশপ্রেম, প্রতিবেশীদের পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং প্রতিরোধের মনোভাব ফুটে উঠেছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
৩. রচনায় আতঙ্কের মধ্যেও বিজয়ের আশা ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ রয়েছে; উদ্দীপক কেবল আতঙ্ক ও মৃত্যুর পরিবেশে সীমাবদ্ধ।সুতরাং, উদ্দীপকটি 'একাত্তরের দিনগুলি' রচনার সামগ্রিক রূপ নয়, কেবল তার একটি খণ্ডাংশ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও