পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব 'ক' একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তার অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বললেন, মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্র অনুমোদিত বিধি-বিধান সকলকে অনুসরণ করতে হবে। গতকাল তাঁর বাড়ির সামনে দারোয়ানের নিকট একজন ভিক্ষুক সাহায্য চাইলে, সে তাকে ধাক্কা দেয়। বিষয়টি জুনায়েদ হোসেনকে মর্মাহত করে। তিনি দারোয়ানকে কথা-বার্তা, আচার-আচরণের নীতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মানুষের মনোজগতকে নিয়ন্ত্রণের জন্য এসব নীতির অনুসরণ অপরিহার্য।
- ক)(1)
বিশ্ব মানবাধিকার দিবস কবে পালিত হয়?
- খ)(2)
মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা জরুরি কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথমাংশে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টির তিনটি উৎস ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে দুইট বিষয়ের কথা বলা হয়েছে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ, নাগরিকের স্বাধীনতা রক্ষা এবং শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সংবিধানে মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা জরুরি। মৌলিক অধিকার হলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত অপরিহার্য নাগরিক অধিকার। যদি এই অধিকারগুলো সংবিধানে সংরক্ষিত না থাকে, তবে সরকারের পক্ষে স্বেচ্ছাচারী আচরণ করা সহজ হয় এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে। ফলে নাগরিকের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র রক্ষায় এটি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত আবশ্যক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথমাংশে 'আইন'-এর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত বিধি-বিধান। আইনের প্রধান তিনটি উৎস নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. প্রথা: প্রাচীনকাল থেকে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, বিশ্বাস ও অভ্যাস যখন দীর্ঘদিন মান্য হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত হয়, তখন তা আইনে পরিণত হয়। যেমন- যুক্তরাজ্যের বহু আইন প্রথার ওপর ভিত্তি করে গঠিত।
২. ধর্ম: বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশাসন ও ধর্মগ্রন্থ প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মুসলিম আইন, হিন্দু আইন প্রভৃতি ধর্মীয় উৎসের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
৩. আইনসভা: আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের প্রধান ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো আইনসভা। দেশের সার্বিক প্রয়োজন অনুসারে আইনসভা নতুন আইন প্রণয়ন করে এবং পুরাতন আইন সংশোধন বা বাতিল করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দুটি বিষয় হলো 'আইন' ও 'নৈতিকতা'। এদের মধ্যে পারস্পরিক গভীর ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রযুক্ত সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলি, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং যা ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয়। অন্যদিকে, নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তরের বিষয় ও মানসিক মূল্যবোধ, যা মানুষের মনোজগত ও আত্মিক দিককে ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝায়।
আইন ও নৈতিকতার পারস্পরিক সম্পর্ক:
১. উদ্দেশ্যগত অভিন্নতা: উভয়ের মূল লক্ষ্য হলো মানবকল্যাণ সাধন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তির সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা।
২. পারস্পরিক প্রভাব: বহু আইন গড়ে উঠেছে নৈতিক ধারণার ওপর ভিত্তি করে। চুরি করা, মানুষ হত্যা করা ইত্যাদি নৈতিক অপরাধ বলেই আইন এদের শাস্তিযোগ্য ঘোষণা করেছে। আবার রাষ্ট্রের আইন মেনে চলাও একটি নৈতিক দায়িত্ব।
৩. পরিপূরকতা: কেবল আইন দিয়ে মানুষের অভ্যন্তরীণ কুপ্রবৃত্তি বা খারাপ আচরণ পুরোপুরি দূর করা যায় না; সেখানে নৈতিকতার ভূমিকা অপরিহার্য। একইভাবে কেবল নৈতিক উপদেশের ওপর ছেড়ে দিলে সমাজ সুশৃঙ্খল থাকে না, সেখানে আইনের প্রয়োগ প্রয়োজন।সুতরাং, আইন ও নৈতিকতা একে অপরের পরিপূরক এবং এদের সমন্বয়েই একটি আদর্শ ও সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও