হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার নয়ন লক্ষ করল একটি শিশু রাস্তায় হাঁটছে। কিন্তু বিপরীত দিক থেকে একটি দ্রুতগামী বাস আসছে। সে শিশুটিকে কোনো মতে রক্ষা করল কিন্তু বাসের একটি চাকা তার পায়ের উপর দিয়ে চলে গেল। অন্যদিকে তারই বন্ধু সাগর একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় একজন বৃদ্ধকে ব্যস্ত সড়ক পার করে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসে। বৃদ্ধ তাকে মনভরে আশীর্বাদ করে।
- ক)(1)
বিভীষণের স্ত্রীর নাম কি?
- খ)(2)
অযাচক বৃত্তি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
নয়নের মধ্যে পাঠ্যের কোন নৈতিক গুণের প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সাগরের কাজটি রাজা রন্তিবর্মার কাজের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বিভীষণের স্ত্রীর নাম সরমা।
- খ)
অযাচক বৃত্তি হলো কারও কাছে কিছু না চেয়ে লোকে ইচ্ছা করে বা দয়া করে যা দেয়, তা দিয়েই জীবন যাপন করা। রাজা রন্তিবর্মা শ্রীকৃষ্ণে সব সমর্পণ করে এ বৃত্তি গ্রহণ করেছিলেন। আটচল্লিশ দিন তাঁকে কেউ কিছু দেয়নি, তবু তিনি কারও কাছে খাবার চাননি।
- গ)
নয়নের মধ্যে পাঠ্যের সৎসাহস গুণটি প্রকাশ পেয়েছে।
সৎসাহসের ধারণা: ন্যায়, ধর্ম বা অন্যের রক্ষার জন্য নিজের বিপদ তুচ্ছ করে ভয়হীনভাবে এগিয়ে যাওয়ার গুণকে সৎসাহস বলে। ধর্ম রক্ষার জন্য সাহসের পরিচয় দেওয়া বীরের কর্তব্য। রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণে সৎসাহসী বীরদের কাহিনি আছে।
উপাখ্যানের দৃষ্টান্ত: বালক তরণীসেন মাত্র বারো বছর বয়সে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়েছিল। উপাখ্যানের শিক্ষা হলো, আমরা তরণীসেনের মতো সৎসাহসী হব এবং দেশের জন্য জীবন বিসর্জন দিতে পিছপা হব না।
উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: নয়ন স্কুল থেকে ফেরার পথে দেখে একটি শিশু রাস্তায় হাঁটছে আর বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগামী বাস আসছে। নিজের বিপদের কথা না ভেবে সে শিশুটিকে বাঁচায়। এতে বাসের চাকা তার পায়ের উপর দিয়ে চলে যায়। অপরের জীবন রক্ষা করতে নিজের ক্ষতি মেনে নেওয়া তার সৎসাহসের পরিচয়।
সুতরাং, নয়নের কাজে তরণীসেনের মতো সৎসাহস গুণটি প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
সাগরের কাজটি রাজা রন্তিবর্মার কাজের সাথে মানবতার দিক থেকে মিল রাখে। উভয়ের কাজই মানবতার দৃষ্টান্ত, তবে ত্যাগের মাত্রায় রন্তিবর্মার কাজ অধিক।
মানবতার ধারণা: মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও মমত্ববোধের নাম মানবতা। বিপন্নকে আশ্রয়, ক্ষুধার্তকে অন্ন, রুগ্ণকে ওষুধ ও শোকার্তকে সান্ত্বনা দান মানবতারই রূপ। মহত্ত্বের উৎস হলো মানবতা।
১. রন্তিবর্মার কাজ: রাজা রন্তিবর্মা আটচল্লিশ দিন অনাহারে থেকে উনপঞ্চাশতম দিনে পাওয়া খাবারও ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক ও কুকুরকে দিয়ে দেন। নিজে চরম কষ্ট সহ্য করে অন্যের ক্ষুধা মেটান।
২. সাগরের কাজ: সাগর ব্যস্ত সড়কে অসহায় বৃদ্ধকে নিরাপদে রাস্তা পার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়। এতে তার সময় ও শ্রম ব্যয় হয়, বিনিময়ে সে কিছু চায় না। বৃদ্ধের আশীর্বাদই তার পুরস্কার।
৩. সাদৃশ্য: দুজনেই নিজের স্বার্থের কথা ভাবেননি এবং অন্যের দুঃখে ব্যথিত হয়ে সাহায্য করেছেন। দুজনই অসহায়কে সেবা দিয়েছেন।
৪. পার্থক্য: রন্তিবর্মা নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাবার ত্যাগ করেছেন, আর সাগর কিছু সময় ও শ্রম দিয়েছে। তবু বয়সের সীমায় সাগরের এ সৎ কাজও প্রশংসনীয়।সুতরাং, রন্তিবর্মার মতো ত্যাগ না হলেও সাগরের কাজটি মানবতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ। এমন কাজ চর্চা করলেই আমরা প্রকৃত মানুষ হতে পারব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও