কৃষিশিক্ষা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

চিত্রটি লক্ষ কর এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  1. ক)

    সাকার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ডাল জাতীয় ফসলে অতিরিক্তস্ত নাইট্রোজেন জাতীয় সার প্রয়োগ করতে হয় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রে গাছ প্রতি ন্যূনতম কী পরিমাণ সার প্রয়োগ করতে হয়? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকের ফসলটির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আনারস গাছের গোড়া বা কাণ্ডের নিচের অংশ থেকে গজানো পার্শ্বীয় চারাকে সাকার (Sucker) বলে।

  2. খ)

    ডাল জাতীয় ফসলের (Legume) শিকড়ের গুটিতে রাইজোবিয়াম (Rhizobium) নামক ব্যাকটেরিয়া বাস করে। এ ব্যাকটেরিয়া বাতাসের মুক্ত নাইট্রোজেন আবদ্ধ করে মাটিতে যুক্ত করে এবং গাছ তা ব্যবহার করতে পারে। ফলে গাছের নাইট্রোজেনের চাহিদা অনেকটাই মেটে। তাই এসব ফসলে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার (যেমন ইউরিয়া) দিতে হয় না। দিলে খরচ বাড়ে, আবার গাছ শুধু পাতা-ডালপালা বাড়ায়, ফলন কমে যেতে পারে।

  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রে আনারসের বিভিন্ন ধরনের চারা (সাকার, স্লিপ, মুকুট) দেখানো হয়েছে। আনারস রোপণের সময় সুস্থ ও সবল চারা লাগানোর জন্য জমি প্রস্তুতকালে সার প্রয়োগ করতে হয়।

    সার প্রয়োগের নিয়ম:
    ১. জমি তৈরির সময় জৈব সার (পচা গোবর বা কম্পোস্ট) মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হয়।
    ২. রাসায়নিক সারের মধ্যে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সুপারিশকৃত মাত্রায় গাছ প্রতি দেওয়া হয়। টিএসপি ও জৈব সার সাধারণত রোপণের আগেই এবং ইউরিয়া ও এমওপি কয়েক কিস্তিতে ভাগ করে দেওয়া হয়।
    ৩. সার প্রয়োগের পর হালকা সেচ দিলে চারা দ্রুত শিকড় ছাড়ে।

    সুপারিশকৃত ন্যূনতম মাত্রা মেনে সার দিলে চারা সতেজ হয় এবং ভালো ফলন পাওয়া যায়।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ফসলটি আনারস। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আনারস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ১. পুষ্টি চাহিদা পূরণ: আনারসে ভিটামিন সি, খনিজ লবণ ও আঁশ রয়েছে, যা মানুষের পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
    ২. আয় ও কর্মসংস্থান: পাহাড়ি ও উঁচু এলাকায় (যেমন মধুপুর, সিলেট, পার্বত্য অঞ্চল) আনারস চাষ করে কৃষক লাভবান হন। চাষ, পরিবহন ও বিক্রিতে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়।
    ৩. প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাণিজ্য: আনারস থেকে জুস, জ্যাম, জেলি তৈরি করা যায়। এতে মূল্য সংযোজন হয় এবং অর্থনীতিতে অবদান বাড়ে।
    ৪. অনাবাদি জমির ব্যবহার: টিলা ও উঁচু জমিতে এ ফসল চাষ করা যায়।

    সুতরাং, আনারস পুষ্টি, আয় ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন