বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ওই দেখ, ওই যেন চিত্রিত প্রাচীর ওই তব সৈন্যগণ দাঁড়াইয়া অকারণ,গণিতেছে লহরী কি রণ-পয়োধির?দেখিছ না সর্বনাশ সম্মুখে তোমার? যায় বঙ্গ-সিংহাসন যায় স্বাধীনতা-ধন যেতেছে ভাসিয়া সব, কি দেখিছ আর?
- ক)(1)
“আমি বরং নবাবকে বিশ্বাস করতে পারি।" উক্তিটি কার?
- খ)(2)
"আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়।" সংলাপটি বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ওই তব সৈন্যগণ/দাঁড়াইয়া অকারণ' প্রসঙ্গটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সঙ্গে কীভাবে সঙ্গতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে নবাব সিরাজের পরিণতির আশঙ্কাই যেন বর্ণিত হয়েছে।"-তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“আমি বরং নবাবকে বিশ্বাস করতে পারি।”—উক্তিটি ফরাসি সেনাপতি সাঁফ্রের।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়।”—সংলাপটির মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার চারপাশের সীমাহীন বিশ্বাসঘাতকতা ও একাকীত্বজনিত অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর রাজদরবার, আত্মীয়-পরিজন এবং সেনাপতিদের চক্রান্তে প্রতিনিয়ত কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন। যাঁদের ওপর তাঁর নির্ভর করার কথা, তাঁরাই নবাবের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। কোনো দিক থেকেই সংকট উত্তরণের পথ খুঁজে না পেয়ে নবাব নিজেকে চারদিক থেকে দুর্ভেদ্য প্রাচীর দিয়ে অবরুদ্ধ মনে করেন, যা তাঁর এই হতাশা ও নিঃসঙ্গতার আত্মপ্রকাশ ঘটায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ওই তব সৈন্যগণ/দাঁড়াইয়া অকারণ' চরণ দুটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের পলাশীর প্রান্তরে মীরজাফর ও তার অনুগত প্রধান সেনাপতিদের নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে থাকার চরম বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনার সঙ্গে গভীরভাবে সঙ্গতিপূর্ণ।
নাটকে পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পক্ষে প্রায় পঞ্চাশ হাজার সৈন্য উপস্থিত ছিল। দেশপ্রেমিক সেনাপতি মীর মদন ও মোহনলাল যখন পরাক্রমের সাথে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন নবাবের প্রধান সেনাপতি মীরজাফর, ইয়ার লতিফ এবং রায়দুর্লভের নেতৃত্বাধীন বিশাল সৈন্যবাহিনী ময়দানে নির্বাক মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে ছিল। তারা যুদ্ধের কোনো নির্দেশ বা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেনি। উদ্দীপকেও ঠিক একইভাবে বিশাল সৈন্যবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখে নির্লিপ্ত ও নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে থেকে ধ্বংস ও পরাজয় প্রত্যক্ষ করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকের এই চরণটি নাটকের পলাশীর যুদ্ধে মীরজাফর ও তার সহযোগী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও ষড়যন্ত্রের দিকটিকে প্রতিফলিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে সৈন্যবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার ফলে সিংহাসন ও স্বাধীনতা হারানোর যে মর্মান্তিক পূর্বাভাস, তা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও করুণ পরিণতির আশঙ্কার সঙ্গেই হুবহু মিলে যায়— মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকের কবিতায় সতর্কবাণী দেওয়া হয়েছে যে, নিজের সৈন্যদল নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে থাকলে সর্বনাশ অনিবার্য এবং স্বাধীনতা ও সিংহাসন ভেসে যাবে। এই দৃশ্যপট নাটকে পলাশীর প্রান্তরের নবাবের করুণ ভাগ্যের রূপরেখাকে নির্দেশ করে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, মীর মদনের আকস্মিক মৃত্যুর পর ভীতসন্ত্রস্ত সিরাজউদ্দৌলা প্রধান সেনাপতি মীরজাফরকে ডেকে পবিত্র কোরআন স্পর্শ করিয়ে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার শপথ করান। কিন্তু কুচক্রী মীরজাফর নবাবকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে যুদ্ধ থামানোর নির্দেশ দিতে বাধ্য করে। এর ফলে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজ বাহিনী বিনা প্রতিরোধে আক্রমণ চালায় এবং বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়। সিংহাসনচ্যুত হয়ে সিরাজউদ্দৌলা বন্দি হন এবং অবশেষে ঘাতক মোহাম্মদী বেগের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন।
উদ্দীপকে যেভাবে স্বাধীনতা ও সিংহাসন হারানোর মধ্য দিয়ে মহাবিপর্যয়ের চিত্র আঁকা হয়েছে, তা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কেন্দ্রীয় ট্র্যাজেডি অর্থাৎ নবাবের অনিবার্য পতন ও করুণ পরিণতিকেই ধারণ করে। তাই উদ্দীপকে নবাব সিরাজের অন্তিম পরিণতির আশঙ্কাই ব্যক্ত হয়েছে বলা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও