ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
ট্রপমন্ডলের শেষ প্রান্ত একটি বিশেষ নামে পরিচিত, যেখানে বিনা বাধায় বিমান চলাচল করতে পারে। এর উপরে স্ট্রাটোমণ্ডলে একটি বিশেষ অংশ রয়েছে যাকে 'পৃথিবীর সৌর পর্দা' বলে।
- ক)(1)
বায়ু দূষণের একটি উৎসের নাম লেখো।
- খ)(2)
স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ট্রপোস্ফিয়ারের ইঙ্গিতকৃত বিশেষ অংশের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষ অংশে আলোচ্য স্তরটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বায়ু দূষণের একটি প্রধান উৎস হলো যানবাহন বা কলকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ট্রপোমণ্ডল স্তরে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতি ১০০০ মিটার বা ১ কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা প্রায় ৬.৪° সেলসিয়াস (বা প্রতি ১০০০ ফুটে প্রায় ৩.৬° ফারেনহাইট) হারে হ্রাস পায়। উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপমাত্রার এই নিয়মিত হ্রাস পাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার' (Normal Lapse Rate) বলে। এর কারণ হলো বায়ুর ঘনত্ব ও তাপ শোষণকারী গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহ নিচের স্তরেই বেশি ঘনীভূত থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের বিশেষ অংশটি হলো 'ট্রপোপজ' (Tropopause)। এর বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. অবস্থান ও সীমানা: এটি ট্রপোমণ্ডল ও স্ট্রাটোমণ্ডলের মধ্যবর্তী একটি সংক্রমণ স্তর বা সীমান্ত রেখা, যার গভীরতা গড়ে প্রায় ৩ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
২. তাপমাত্রার স্থায়িত্ব: এই স্তরে উচ্চতা বাড়লেও তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, অর্থাৎ তাপমাত্রা প্রায় স্থির থাকে।
৩. শান্ত বায়ুমণ্ডল: ট্রপোপজে মেঘ, ধূলিকণা, ঝড়-বৃষ্টি বা কোনো বায়বীয় গোলযোগ থাকে না। বায়ুমণ্ডল শান্ত ও পরিষ্কার থাকায় এই স্তর দিয়ে জেট বিমান নিরাপদে এবং দ্রুত চলাচল করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ অংশে স্ট্রাটোমণ্ডলের বিশেষ অংশ হিসেবে 'ওজোন স্তর' (Ozonosphere)-কে নির্দেশ করা হয়েছে, যা 'পৃথিবীর সৌর পর্দা' নামে পরিচিত। জীবমণ্ডলের অস্তিত্ব রক্ষায় এই স্তরের গুরুত্ব অপরিসীম:
১. ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ: সূর্য থেকে নির্গত তীব্র ও প্রাণঘাতী ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolet Rays বা UV-B এবং UV-C) ওজোন গ্যাস দ্বারা শোষিত হয়। এটি পৃথিবীপৃষ্ঠকে একটি প্রাকৃতিক ছাতার মতো ঢেকে রেখে জীবজগতকে রক্ষা করে।
২. মানব স্বাস্থ্যের সুরক্ষা: ওজোন স্তর অতিবেগুনি রশ্মিকে আটকে দেওয়ায় মানুষ ত্বকের ক্যানসার, চোখে ছানি পড়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের মতো মারাত্মক সমস্যা থেকে রক্ষা পায়।
৩. বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা: এই রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছালে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হতো এবং ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ধ্বংস হয়ে সমগ্র খাদ্যশৃঙ্খল বিনষ্ট হতো। ওজোন স্তর তা প্রতিরোধ করে বৈশ্বিক বাস্তুতন্ত্র বাঁচিয়ে রেখেছে।
সুতরাং, ওজোন স্তরকে 'পৃথিবীর সৌর পর্দা' বলা অত্যন্ত যথার্থ এবং পৃথিবীর জীবন ধারণের জন্য এটি অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও