বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

তপু ভাগ্যান্বেষণে ঘুরতে ঘুরতে এসে হাজির হয় রাজধানী ঢাকায়। মিটফোর্ডে এক ফুটপাতে হোটেলে খেতে গিয়ে দেখতে পায় পাশের নর্দমায় অনেকগুলো ঔষধ পড়ে আছে। হোটেল বয়ের কাছে জানতে পারে এগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ কোম্পানি ফেলে গেছে। তার মাথায় বিদ্যুৎ খেলে যায়। সে ঐ ঔষধগুলো কুড়িয়ে নতুন প্যাকেটে মুড়ে কম দামে বিক্রি করতে থাকে। সাধারণ মানুষ কম দামে পেয়ে সরল বিশ্বাসে তার দোকান থেকে ঔষধ কিনে প্রতারিত হতে থাকে। আর তপু অল্পদিনে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বনে যায়।

  1. ক)

    ডোমপাড়া থেকে কীসের শব্দ ভেসে আসে?

    (1)
  2. খ)

    হাসুনির মাকে তার বাপ পিটিয়েছিল কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তপুর মাঝে ফুটে উঠেছে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের চরিত্র- ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও তপু ও মজিদের লক্ষ্য এক'- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ডোমপাড়া থেকে ঢোলের শব্দ ভেসে আসে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাসুনির মা গভীর রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার ছলে মজিদের ঘরের দিকে উঁকিঝুঁকি মারার মতো সন্দেহজনক আচরণের কারণে তার বাপের কাছে প্রহৃত হয়েছিল।

    হাসুনির বুড়ো বাপ তাহেরের বাপের অভিযোগ ছিল যে, তার মেয়ে হাসুনির মা রাতের বেলা অহেতুক ঘোরাঘুরি করে ও অন্য বাড়ির দিকে তাকিয়ে কু-মতলব আঁটে। পারিবারিক ক্ষোভ ও মেয়ের এই সন্দেহজনক আচরণের কারণে হাসুনির বাপ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তপুর প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড ও দ্রুত প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চতুর মানসিকতায় 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

    'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ ছিল ভাগ্যান্বেষী ও ধূর্ত এক প্রতারক। সে মহব্বতনগর গ্রামে এসে ধর্মের লেবাস পরে একটি অপরিচিত কবরকে মাজার বানিয়ে মানুষের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজের ভাগ্য গড়ে তোলে। মিথ্যাকে সত্য বলে চালিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে সে সমাজে প্রতাপশালী অবস্থানে পৌঁছে যায়।

    উদ্দীপকের তপুও ঠিক একইভাবে ভাগ্যান্বেষণে শহরে এসে নর্দমায় ফেলা মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ কুড়িয়ে নতুন প্যাকেটে ভরে কম দামে বিক্রি শুরু করে। সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা ও দারিদ্র্যকে কাজে লাগিয়ে সে তাদের প্রতারিত করে রাতারাতি অর্থ-বিত্ত ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হওয়ার মতো সামাজিক প্রতিপত্তি অর্জন করে। তপুর এই প্রতারণা, চতুরতা এবং অন্যের সরলতাকে ঠকিয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের বিষয়টি মজিদের ধান্দাবাজ চরিত্রের সাথে গভীরভাবে মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও তপু ও মজিদের লক্ষ্য এক'— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও যৌক্তিক।

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে ধর্মকে মাধ্যম বানিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছে। মজিদ শস্যহীন এলাকা থেকে এসে মহব্বতনগর গ্রামে একটি নামহীন কবরকে লালসালু দিয়ে আবৃত করে পীরের মাজার সাজায়। মানুষের ধর্মবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে পুঁজি করে সে রুটি-রুজি, সামাজিক প্রভাব ও আধিপত্য লাভ করে। তার মূল লক্ষ্য ছিল নিঃস্ব অবস্থা থেকে বিত্তশালী ও ক্ষমতাবান হওয়া।

    অন্যদিকে উদ্দীপকের তপু শহুরে প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যিক জালিয়াতিকে বেছে নেয়। সে মেয়াদোত্তীর্ণ ফেলে দেওয়া ঔষধ নতুন মোড়কে বিক্রি করে মানুষকে ঠকিয়ে বিত্তবান হয় এবং ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বনে যায়।

    উভয়ের কর্মক্ষেত্র বা পটভূমি ভিন্ন— মজিদের প্রেক্ষাপট হলো কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামীণ সমাজ এবং মাধ্যম হলো ধর্ম; আর তপুর প্রেক্ষাপট আধুনিক নগরজীবন এবং মাধ্যম হলো ভেজাল ব্যবসা। কিন্তু দুজনেরই মূল উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য এক ও অভিন্ন, তা হলো— প্রতারণা ও সাধারণ মানুষের দুর্বলতাকে পুঁজি করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করা, অর্থবিত্ত অর্জন করা এবং সমাজের ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ করা। তাই বলা যায়, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও তাদের লক্ষ্য একই বিন্দুতে মিলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন