ইসলাম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

ইসলাম প্রশ্ন

জনাব রিয়াসাত মহান আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করেন। মাঝে-মধ্যে সালাত ও সাওম পালন করেন। তবে তিনি মনে করেন, মানুষের কর্মফল তার কর্মের ওপর নির্ভরশীল। যে যেমন কাজ করবে সে তেমন ফল পাবে। তার বন্ধু জনাব আসগর নিজ কর্মস্থলে কর্মব্যস্ত একজন মানুষ। কাজের ব্যস্ততার মাঝে-মধ্যে নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করেন। তিনি মনে করেন, এতে দোষের কিছু নেই।

  1. ক)

    শিরক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'তাওহিদে বিশ্বাস মানুষের আত্মমর্যাদাবোধ জাগিয়ে তোলে।'- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    জনাব রিয়াসাতের ধারণা ইসলামের কোন বিশ্বাসের পরিপন্থি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব আসগরের বিশ্বাস চিহ্নিতপূর্বক এর ক্ষতিকর দিকগুলো পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আল্লাহর সাথে তাঁর সত্তা, গুণাবলি বা ক্ষমতায় অন্য কাউকে অংশীদার করাকে শিরক বলে।

  2. খ)

    তাওহিদে বিশ্বাসী ব্যক্তি জানে আল্লাহই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা ও মহাশক্তির অধিকারী। সে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সামনে মাথা নত করে না এবং কারো ভয়ে অন্যায় মেনে নেয় না। এতে তার আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত হয় এবং সে নির্ভীক ও আত্মসম্মানী হয়।

  3. গ)

    জনাব রিয়াসাতের ধারণা তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস-এর পরিপন্থি।

    ১. তাকদির অর্থ ভাগ্য। ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী ভালো-মন্দ সবকিছুর নির্ধারণ আল্লাহর পক্ষ থেকে।
    ২. রিয়াসাত মনে করেন, কর্মফল শুধু মানুষের কর্মের ওপর নির্ভরশীল। এতে আল্লাহর ইচ্ছা ও নির্ধারণের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।
    ৩. ইসলামে মানুষকে কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে এবং কাজের জন্য সে দায়ী। তবে ফল আল্লাহর ইচ্ছাতেই হয়।

    সুতরাং, তার এই ধারণা তাকদিরের প্রতি বিশ্বাসের পরিপন্থি।

  4. ঘ)

    জনাব আসগরের বিশ্বাস হলো, নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণে দোষ নেই। অর্থাৎ তিনি হারামকে বৈধ মনে করেন, যা ইসলামি বিশ্বাসের পরিপন্থি। মাদক ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ বলেন, মদ, জুয়া ও ভাগ্য নির্ধারক তির শয়তানের কাজ, তা থেকে বিরত থাকো। (সূরা মায়িদা ৯০)

    ক্ষতিকর দিক:
    ১. ধর্মীয় ক্ষতি: মাদক সালাত ও আল্লাহর স্মরণ থেকে মানুষকে দূরে রাখে।
    ২. স্বাস্থ্যগত ক্ষতি: মাদক শরীর ও মস্তিষ্কের ক্ষতি করে এবং বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে।
    ৩. সামাজিক ক্ষতি: মাদকাসক্ত ব্যক্তি অপরাধ, ঝগড়া ও অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে।
    ৪. অর্থনৈতিক ক্ষতি: নেশার পেছনে অর্থ নষ্ট হয় ও কর্মক্ষমতা কমে যায়।

    সুতরাং, মাদক গ্রহণকে দোষের নয় মনে করা ভুল এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন