ইসলাম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

ইসলাম প্রশ্ন

তথ্য-১: ইয়েমেনের শাসক আবরাহা পবিত্র কাবা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে এক বিশাল হস্তি বাহিনী নিয়ে মক্কা অভিযানে বের হয়। আল্লাহ তায়ালা তার গর রক্ষা করার জন্য ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠান। পাখিরা মক্কা থেকে কিন্তু দূরে 'ওয়াদিয়ে মুহাসসার' নামক স্থানে আবরাহার বাহিনীর উপর পাথর বৃষ্টি বর্ষণ করে। এতে আবরাহা ও তার বাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়।তথ্য-২: নাফিস একটি মুদি দোকানের মালিক। মাসের শুরুতে প্রায় দশদিন তার দোকানে প্রচুর বেচাকেনা হয়। এ দিনগুলোতে তিনি এশা ও ফজরের নামায যথাসময়ে আদায় করেন। ক্রেতাদের ভীড়ের কারণে যোহর, আসর ও মাগরিবের নামায আদায় করেন না। রাতের বেলা বাসায় গিয়ে এ ওয়াক্তগুলোর নামায কাযা আদায় করেন।

  1. ক)

    মাদানি সূরার পরিচয় দাও।

    (1)
  2. খ)

    শরিয়তের পরিধি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আবরাহার পরিণতিতে সূরা আত্-তীনের কোন বিষয়টি প্রতিফলিত হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, নাফিসের সালাত আদায়ে কোনো একটি সূরার শিক্ষা সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত হয়? সংশ্লিষ্ট সূরার আলোকে চিহ্নিত করে তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    হিজরতের পর মদিনায় অবতীর্ণ সূরাকে মাদানি সূরা বলে।

  2. খ)

    শরিয়তের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। এটি মানুষের জীবনের সকল ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে রয়েছে আকিদা বা বিশ্বাস, ইবাদত, লেনদেন ও অর্থনীতি, সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক, আখলাক এবং রাষ্ট্রীয় বিধান ও অপরাধের শাস্তি। এভাবে শরিয়ত ব্যক্তিজীবন থেকে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত বিস্তৃত।

  3. গ)

    আবরাহার পরিণতিতে সূরা আত-তীনের ‘অতঃপর আমি তাকে হীনতমদের হীনতম অবস্থায় ফিরিয়ে দিই’ (আয়াত ৫) বিষয়টি প্রতিফলিত হয়।

    সূরা আত-তীনে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে সুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু যারা ইমান ও সৎকর্ম থেকে বিমুখ হয়, তারা অধঃপতিত হয়। উদ্দীপকে আবরাহা ক্ষমতা ও বিশাল হস্তিবাহিনীর অহংকারে কাবা ধ্বংসের চেষ্টা করে। ফলে আল্লাহ পাখির ঝাঁকের পাথর বৃষ্টির মাধ্যমে তাকে ও তার বাহিনীকে ধ্বংস করে দেন। এভাবে সে হীন ও লাঞ্ছিত পরিণতি লাভ করে। অর্থাৎ অহংকার ও অন্যায়ের পরিণতি ধ্বংস, যা এ সূরার শিক্ষার সাথে মিলে যায়।

  4. ঘ)

    আমি মনে করি, নাফিসের সালাত আদায়ে সূরা আল-মাউন-এর শিক্ষা আংশিক প্রতিফলিত হয়েছে, সম্পূর্ণরূপে নয়।

    সূরা আল-মাউনে বলা হয়েছে, ধ্বংস সেসব মুসল্লির জন্য, যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন (আয়াত ৪-৫)। যুক্তি:
    ১. নাফিস ব্যস্ততার অজুহাতে যোহর, আসর ও মাগরিবের সালাত যথাসময়ে আদায় করেন না। এটি সালাতে উদাসীনতা, যা সূরা মাউনে নিন্দিত।
    ২. তবে তিনি রাতে কাযা আদায় করেন, অর্থাৎ সালাত একেবারে ত্যাগ করেন না। তিনি এশা ও ফজর সময়মতো আদায় করেন।
    ৩. সূরায় আরও আছে লোকদেখানো ইবাদত, ইয়াতীমকে তাড়িয়ে দেওয়া এবং অভাবীকে সাহায্য না করার নিন্দা। উদ্দীপকে এসব বিষয়ের কোনো উল্লেখ নেই।

    সুতরাং, উদ্দীপকে শুধু সালাতে অবহেলার অংশটি প্রতিফলিত হয়েছে। তাই পুরো সূরার শিক্ষা সম্পূর্ণরূপে ফুটে ওঠেনি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন