বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
উদ্দীপক-১: মুর্দা ফকির দুর্ভিক্ষে নিজের চোখের সামনে আপনজনদের মারা যেতে দেখেছেন। মানুষগুলোকে কবর দেওয়ার সামর্থ্যও তার ছিল না। সেই থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে গোরস্থানের স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান তিনি।উদ্দীপক-২: ওরা গিয়েছিল রাতের আঁধারে সূর্য আনার জন্য, সারা দেশ জুড়ে রক্তপদ্ম ফোটালো যে অনন্য। দেখেছে সে ফুল হাজার মানুষ, বাংলার পথে পথে।
- ক)(1)
বুধা কাকে বলেছিল "আমার নাম যুদ্ধ"?
- খ)(2)
"তোকে দেখেই বুঝতে পারছি যে দেশটা স্বাধীন হবে"- এ উক্তির কারণ ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের কোন বিশেষ নিকটি উদ্দীপক-১-এ প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপক-২ ও 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের যে স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে তা দেশাত্মবোধেরই নামান্তর।” মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- গ)
উদ্দীপক-১-এ ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসের যুদ্ধ ও বিপর্যয়ে স্বজন হারানোর বেদনা এবং মানুষের চরম অসহায়ত্ব-এর দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপক-১-এর মুর্দা ফকির দুর্ভিক্ষে চোখের সামনে আপনজনদের মরতে দেখেছেন, কবর দেওয়ার সামর্থ্যও তাঁর ছিল না; এই আঘাতে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে গোরস্থানের বাসিন্দা হয়েছেন। ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসেও মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সময়ে সাধারণ মানুষ স্বজন হারিয়েছে, অভাব ও নির্যাতনে অসহায় হয়ে পড়েছে। তাই উদ্দীপকের চরিত্রের বেদনা ও অসহায়ত্ব উপন্যাসের সেই দিকটিকে প্রতিফলিত করে।
- ঘ)
মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপক-২ ও ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ দেশাত্মবোধেরই নামান্তর।
১. উদ্দীপক-২-এ বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধারা রাতের আঁধারে সূর্য আনার জন্য, অর্থাৎ স্বাধীনতার আলো আনার জন্য গিয়েছিলেন এবং রক্তের বিনিময়ে সারা দেশে ‘রক্তপদ্ম’ ফুটিয়েছেন। এই ত্যাগ কেবল দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই সম্ভব।
২. ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসেও সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধারা নিজের জীবন ও সুখ তুচ্ছ করে হানাদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। বুধার মতো কিশোরও ভয়কে জয় করে দেশের মুক্তির সংগ্রামে যুক্ত হয়।
৩. দুই ক্ষেত্রেই ত্যাগের পেছনে কোনো ব্যক্তিস্বার্থ নেই; আছে স্বাধীন দেশের স্বপ্ন।সুতরাং, উদ্দীপক-২ ও উপন্যাসে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ দেশাত্মবোধেরই প্রকাশ—মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও