জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
গ্রুপ 'A' = থ্যালোফাইটিক, সবুজ কিন্তু জননাঙ্গ এককোষী। গ্রুপ ‘B' = থ্যালোফাইটিক ও অসবুজ।
- ক)(1)
ক্রোজিয়ার কী?
- খ)(2)
Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের গ্রুপ A এবং গ্রুপ-B ভুক্ত উদ্ভিদসমূহের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গঠিত স্বতন্ত্র উদ্ভিদের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের গ্রুপ-A এবং গ্রুপ-B ভুক্ত উদ্ভিদসমূহের মধ্যে বৈসাদৃশ্য— এর সাথে সাদৃশ্যও বিদ্যমান বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফার্নের কুন্ডলিত বা গোটানো কচি পাতাকে ক্রোজিয়ার (Crozier) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুদূর অতীত বা মেসোজোয়িক যুগে সাইকাডোফাইটা পর্বের বহু উদ্ভিদের প্রাচুর্য ছিল, যার অধিকাংশ প্রজাতিই বিলুপ্ত হয়ে বর্তমানে জীবাশ্মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু Cycas গণভুক্ত উদ্ভিদসমূহ তাদের বহু প্রাচীন আদি বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে বর্তমান কাল পর্যন্ত টিকে রয়েছে। সুদূর অতীতের বিলুপ্ত পূর্বপুরুষের বৈশিষ্ট্য বহন করে এখনো জীবিত থাকায় Cycas-কে 'জীবন্ত জীবাশ্ম' (Living fossil) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের গ্রুপ 'A' হলো থ্যালোফাইটিক ও সবুজ শৈবাল (Algae) এবং গ্রুপ 'B' হলো থ্যালোফাইটিক ও অসবুজ ছত্রাক (Fungi)। এদের পারস্পরিক মিথোজীবী বা সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে গঠিত স্বতন্ত্র উদ্ভিদটি হলো 'লাইকেন' (Lichen)।
লাইকেনের প্রকৃতি:
১. মিথোজীবিতা (Symbiosis): লাইকেনে শৈবাল উপাদানটিকে বলা হয় ফাইকোবায়োন্ট (Phycobiont) এবং ছত্রাক উপাদানটিকে বলা হয় মাইকোবায়োন্ট (Mycobiont)। এরা পরস্পর গভীরভাবে সংযুক্ত থেকে একক দৈহিক সত্ত্বা তৈরি করে।
২. পুষ্টির লেনদেন: শৈবাল ক্লোরোফিলযুক্ত হওয়ায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে এবং তা ছত্রাককে সরবরাহ করে। পক্ষান্তরে, অসবুজ ছত্রাক বাতাস ও পরিবেশ থেকে জলীয় বাষ্প, পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে শৈবালকে দেয় এবং শৈবালকে প্রখর রোদ ও প্রতিকূল পরিবেশ থেকে রক্ষা করে আশ্রয় প্রদান করে।
৩. অবিচ্ছেদ্য গঠন: বাহ্যিকভাবে লাইকেন দেখতে সম্পূর্ণ পৃথক একটি উদ্ভিদের মতো এবং এর থ্যালাস রূপ শৈবাল বা ছত্রাকের স্বতন্ত্র রূপ থেকে আলাদা। চরম প্রতিকূল পরিবেশেও এরা বেঁচে থাকতে পারে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে গ্রুপ-A (শৈবাল) এবং গ্রুপ-B (ছত্রাক) উভয়ই থ্যালোফাইটা হলেও এদের মধ্যে সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্যের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যও বিদ্যমান। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
সাদৃশ্যসমূহ:
১. দেহ গঠন: উভয় উদ্ভিদই সমাঙ্গদেহী বা থ্যালোফাইট, অর্থাৎ এদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত নয়।
২. ভাস্কুলার কলা: উভয়ের দেহেই পরিবহন কলা বা সংবহনতন্ত্র (Vascular tissue) অনুপস্থিত।
৩. ভ্রূণ: এদের নিষিক্ত ডিম্বাণু কখনোই বহুবিভাজিত হয়ে মাতৃদেহের অভ্যন্তরে ভ্রূণ গঠন করে না।
৪. জননাঙ্গ: সাধারণ শৈবাল ও ছত্রাকের জননাঙ্গ এককোষী অথবা জ্যাকেটবিহীন বহুদেহী।বৈসাদৃশ্যসমূহ:
১. ক্লোরোফিল ও বর্ণ: শৈবাল ক্লোরোফিলযুক্ত ও সবুজ বা স্বভোজী; কিন্তু ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ এবং পরভোজী (মৃতজীবী বা পরজীবী)।
২. কোষপ্রাচীরের উপাদান: শৈবালের কোষপ্রাচীর মূলত সেলুলোজ দ্বারা গঠিত; অথচ ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কাইটিন দ্বারা গঠিত।
৩. সঞ্চিত খাদ্য: শৈবালের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য স্টার্চ বা শ্বেতসার; কিন্তু ছত্রাকের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন ও তেলবিন্দু।
৪. আবাসস্থল: শৈবাল মূলত জলজ বা অত্যন্ত আর্দ্র স্থানে বাস করে; অপরদিকে ছত্রাক বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থলজ, ছায়াযুক্ত ও জৈব পদার্থসমৃদ্ধ স্থানে জন্মায়।উপরিউক্ত তুলনামূলক আলোচনা থেকে সুস্পষ্ট যে শৈবাল ও ছত্রাকের মাঝে বিভিন্ন বৈসাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও নিম্নশ্রেণির সমাঙ্গদেহী হিসেবে তাদের মধ্যে মৌলিক বহু সাদৃশ্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও