অর্থনীতি • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: প্রাচীনকালে মানুষ এক দ্রব্যের পরিবর্তে অন্য দ্রব্য বিনিময় করে অভাব পূরণ করত। কিন্তু এতে নানান সমস্যা সৃষ্টি হত। তাই বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে এমন একটি দ্রব্যের আবির্ভাব-ঘটে, যা যে কোনো দ্রব্যের বেচা/কেনায়/ঋণ গ্রহণে সবাই গ্রহণ করতে রাজি থাকে। দৃশ্যকল্প-২: মি. রিজন এমন একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন যা বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে স্বল্প, মধ্যম আয় (১৫,০০০ টাকা) ক ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে। এটি ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত।

  1. ক)

    সমবায় ব্যাংক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আন্তঃ দেনা-পাওনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কীভাবে নিষ্পত্তি করে?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১.এ বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে সৃষ্ট নতুন বস্তুটি কী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে মি. রিজনের প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে -মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে ব্যাংক সমবায়ের ভিত্তিতে গঠিত হয় এবং সদস্যদের সঞ্চয় গ্রহণ করে তাদেরই স্বল্প সুদে ঋণ দেয়, তাকে সমবায় ব্যাংক বলে।

  2. খ)

    প্রত্যেক বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের নগদ জমার একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে চেক বা অন্য লেনদেনের ফলে যে দেনা-পাওনা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের জমা হিসাবে জমা-খরচের মাধ্যমে সমন্বয় করে তা নিষ্পত্তি করে। এ কাজ ক্লিয়ারিং হাউসের মাধ্যমে হয়। এতে আন্তঃব্যাংক লেনদেন সহজ হয়।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে সৃষ্ট নতুন বস্তুটি অর্থ বা টাকা।

    প্রাচীনকালে দ্রব্যের বদলে দ্রব্য বিনিময় (বিনিময় প্রথা) চালু ছিল। এতে অভাবের দ্বিমুখী মিলন, মূল্য নির্ধারণ ও সঞ্চয়ের অসুবিধা ছিল। এ সমস্যা দূর করতে এমন বস্তুর আবির্ভাব হয়, যা সবাই বেচাকেনা ও ঋণ লেনদেনে গ্রহণ করে। যা বিনিময়ের মাধ্যম, মূল্যের পরিমাপক ও ঋণ পরিশোধের মান হিসেবে সর্বজনগ্রাহ্য, তাই অর্থ।

  4. ঘ)

    মি. রিজনের প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, যা ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং কৃষিতে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়। মন্তব্যটি যথার্থ।

    ১. কৃষি উপকরণে সহায়তা: কৃষকরা ঋণ নিয়ে সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচযন্ত্র কেনে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ে।

    ২. আধুনিকায়ন: দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিয়ে কৃষকরা ট্রাক্টরের মতো যন্ত্র কিনে চাষাবাদ আধুনিক করতে পারে।

    ৩. মহাজনি শোষণ থেকে মুক্তি: সহজ ও কম সুদে ঋণ পাওয়ায় কৃষক চড়া সুদের মহাজনের ওপর নির্ভর করে না।

    ৪. আয় ও কর্মসংস্থান: উৎপাদন বাড়ায় কৃষকের আয় বাড়ে এবং গ্রামে কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

    সুতরাং, কৃষি ব্যাংক ঋণ জুগিয়ে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন