ভূগোল এবং পরিবেশ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: সারা বছর প্রতিদিন বিকেল অথবা সন্ধ্যায় নিরক্ষীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।দৃশ্যকল্প-২: পাহাড়ি এলাকায় জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু বাধাপ্রাপ্ত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

  1. ক)

    বাষ্পীভবন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পানিচক্র বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ কোন ধরনের বৃষ্টিপাতকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প- ২ কোন ধরনের বৃষ্টিপাতকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    তাপের প্রভাবে পানি তরল অবস্থা থেকে বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে।

  2. খ)

    সমুদ্র, নদী, জলাশয় ও গাছপালা থেকে পানি সূর্যতাপে বাষ্প হয়ে বায়ুমণ্ডলে ওঠে। উপরে উঠে এ বাষ্প ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরি করে এবং বৃষ্টি, শিলা বা তুষার হয়ে ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। পানির এভাবে বারবার বাষ্প, মেঘ ও বৃষ্টিরূপে ঘুরে আসাকে পানিচক্র বলে।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ সারা বছর প্রতিদিন বিকেল বা সন্ধ্যায় নিরক্ষীয় এলাকায় যে বৃষ্টিপাতের কথা বলা হয়েছে, তা পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rain) কে নির্দেশ করে।

    পরিচলন বৃষ্টি কী: সূর্যতাপে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হলে পানি বাষ্প হয়ে উপরে ওঠে। উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু খাড়াভাবে উপরে উঠে শীতল হয় এবং জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘ ও বৃষ্টির সৃষ্টি করে। বায়ুর এ উল্লম্ব চলাচলকে পরিচলন বলা হয় বলে এর নাম পরিচলন বৃষ্টি। এ বৃষ্টি সাধারণত অল্প সময়ের জন্য প্রবল হয় এবং প্রায়ই বজ্রপাত থাকে।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর সূর্যের কিরণ প্রায় লম্বভাবে পড়ে। ফলে সেখানে প্রচণ্ড গরম থাকে এবং জলভাগ ও গাছপালা থেকে প্রচুর পানি বাষ্পীভূত হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাপ বেশি পাওয়ায় বায়ু উপরে উঠে ঠান্ডা হয় এবং বিকেল বা সন্ধ্যায় মেঘ ঘনীভূত হয়ে প্রবল বৃষ্টি ঘটায়। উদ্দীপকে বর্ণিত 'সারা বছর', 'প্রতিদিন' ও 'বিকেল বা সন্ধ্যায়' বৃষ্টির এসব বৈশিষ্ট্য ঠিক পরিচলন বৃষ্টির সাথে মিলে যায়।

    সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ পরিচলন বৃষ্টিপাতকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ পাহাড়ি এলাকায় জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু বাধাপ্রাপ্ত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটানোর কথা বলা হয়েছে, যা শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rain) কে নির্দেশ করে।

    শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি কী: সমুদ্র থেকে আসা জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ বায়ু পর্বত বা উঁচু ভূমিতে বাধা পেলে ঢাল বেয়ে ওপরে উঠতে বাধ্য হয়। উপরে উঠে বায়ু শীতল হয়, জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয় এবং পর্বতের প্রতিবাত ঢালে বৃষ্টিপাত ঘটে। এ প্রক্রিয়াকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।

    ১. বাধাপ্রাপ্তি: উদ্দীপকের পাহাড়ি এলাকায় আর্দ্র বায়ুপ্রবাহ খাড়া পর্বতে বাধা পায়। এ বাধাই বায়ুকে উপরের দিকে ঠেলে দেয়, যা শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টির প্রধান শর্ত।
    ২. ঘনীভবন ও বৃষ্টি: ওপরে ওঠার সময় তাপমাত্রা কমে যায়। শীতল বায়ু বেশি জলীয়বাষ্প ধরে রাখতে পারে না বলে তা ঘনীভূত হয়ে মেঘ ও বৃষ্টি হিসেবে ঝরে পড়ে।
    ৩. প্রতিবাত ও বিপরীত ঢাল: পর্বতের যে ঢালে বায়ু আঘাত করে সেখানে প্রচুর বৃষ্টি হয়। অপর পাশে বায়ু নিচে নামে ও শুষ্ক হয়, তাই সেখানে বৃষ্টি কম হয়। একে বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চল বলে।
    ৪. বাংলাদেশের সাথে মিল: বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয়বাষ্প নিয়ে এসে গারো-খাসিয়া পাহাড়ে বাধা পেয়ে এভাবেই প্রচুর বৃষ্টি ঘটায়। মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জির মতো স্থানে এ কারণেই অত্যধিক বৃষ্টিপাত হয়।

    সুতরাং, পাহাড়ি এলাকায় বাধাপ্রাপ্ত আর্দ্র বায়ু থেকে সৃষ্ট এ বৃষ্টিপাত শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন