হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
গোপাল ও গৌতম দুই বন্ধু। গোপাল কৃষ্ণ ভক্ত। সে গ্রামের এক ধর্ম বিষয়ক সভায় অংশগ্রহণ করে। সেখানে প্রভুপাদ অদ্বৈত আচার্যের বক্তব্য শুনল। তিনি বললেন, হিন্দুধর্মে একটা যুগে ধর্মগ্রন্থ গীতা ও ভক্তিবাদ সমৃদ্ধ ছিল। অন্যদিকে, গৌতম শিব উপাসক। তিনি মনে করেন, শৈব উপাসনায় ঈশ্বর লাভ সম্ভব। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ হয়। এক সময় দুজনে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, 'যত মত তত পথ' উভয় মতের লক্ষ্য ঈশ্বর লাভ।
- ক)(1)
বেদ কী?
- খ)(2)
বৈদিক যুগ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
'প্রভুপাদ অদ্বৈত আচার্য' হিন্দুধর্মের যে যুগের কথা বলেছেন তার সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন যুগের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"যত মত তত পথ," উক্তিটির সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বেদ হিন্দুধর্মের আদি ও প্রধান ধর্মগ্রন্থ।
- খ)
বেদ যে যুগে রচিত হয়েছে, তাকে বৈদিক যুগ বলে। এ যুগে ধর্মানুষ্ঠানের রূপ ছিল যজ্ঞক্রিয়া এবং বেদমন্ত্র উচ্চারণ করে দেবতাদের উদ্দেশে যজ্ঞ করা হতো। বৈদিক ধর্মগ্রন্থের চারটি ভাগ হলো সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ। এ যুগের ঋষিগণ জাগতিক ও পারমার্থিক উভয় কল্যাণ কামনা করতেন।
- গ)
প্রভুপাদ অদ্বৈত আচার্য হিন্দুধর্মের যে যুগের কথা বলেছেন, পাঠ্যবইয়ের পৌরাণিক যুগের সাথে তার মিল রয়েছে।
ধারণা : হিন্দুধর্মের বিকাশের তিনটি স্তর হলো বৈদিক যুগ, পৌরাণিক যুগ ও আধুনিক যুগ। পৌরাণিক যুগে ভক্তির প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। ভক্তিকে অবলম্বন করে পরম তত্ত্বে পৌঁছানোর পথে বৈষ্ণব, শৈব, শাক্ত প্রভৃতি সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে। এ যুগেই বিষ্ণুপুরাণ, শিবপুরাণ, ভাগবতপুরাণসহ বিভিন্ন পুরাণ রচিত হয় এবং ভক্তিযোগের উপদেশ সংবলিত শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবতের ভক্তিধারা বিকশিত হয়।
উদ্দীপকের সাথে প্রয়োগ : প্রভুপাদ বলেছেন, হিন্দুধর্মে একটা যুগে গীতা ও ভক্তিবাদ সমৃদ্ধ ছিল। এখানে গীতা ও ভক্তিবাদের উল্লেখ পৌরাণিক যুগেরই বৈশিষ্ট্য। আবার গোপাল কৃষ্ণভক্ত ও গৌতম শিব উপাসক, অর্থাৎ বৈষ্ণব ও শৈব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, যাদের উদ্ভবও এ যুগে।
অতএব, প্রভুপাদের বর্ণিত যুগটি পাঠ্যবইয়ের পৌরাণিক যুগের সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
‘যত মত তত পথ’ উক্তিটি যথার্থ। এটি শ্রীরামকৃষ্ণের বাণী, যার মর্মার্থ হলো ধর্মীয় মত ও পথ ভিন্ন হলেও সকল মানুষের লক্ষ্য ও গন্তব্য এক—ঈশ্বরলাভ।
ধারণা : হিন্দুধর্ম পরমতসহিষ্ণু ও উদার। এখানে সাকার ও নিরাকার উভয় প্রকার উপাসনার স্বাধীনতা আছে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, ‘একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি’—এক ব্রহ্মকেই মনীষীরা বিভিন্ন নামে ও রূপে অভিহিত করেন।
১. এক ঈশ্বর, বহু পথ : বিষ্ণু, শিব ও শক্তির দেবী—এঁরা সবাই এক মূলতত্ত্বের প্রকাশ। উদ্দীপকে গোপাল কৃষ্ণভক্ত এবং গৌতম শিব উপাসক। দুজনের উপাসনার পদ্ধতি ভিন্ন হলেও উভয়ের লক্ষ্য একই, ঈশ্বর লাভ।
২. সাধনার বিভিন্ন মার্গ : মোক্ষলাভের জন্য কর্ম, জ্ঞান ও ভক্তি—এই তিন পথের যেকোনো একটি নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ করলেই সাধক ঈশ্বরকে পেতে পারেন। ভক্তিমার্গে গোপাল ও গৌতম দুজনেই সাধনা করছেন, তবে ইষ্টদেবতা আলাদা।
৩. শ্রীরামকৃষ্ণের উপলব্ধি : শ্রীরামকৃষ্ণ হিন্দুধর্ম ছাড়াও ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মমতে সাধনা করে উপলব্ধি করেছেন যে, সকল ধর্মেরই লক্ষ্য ঈশ্বরের নৈকট্য। তাই তিনি বলেছেন, সকল ধর্মই সত্য, যত মত তত পথ। আন্তরিকতা থাকলে যেকোনো পথেই ঈশ্বরকে পাওয়া যায়।
৪. সমন্বয়ের শিক্ষা : এই উপলব্ধি মতবিরোধ দূর করে। গোপাল ও গৌতমের বিরোধ যখন এই সিদ্ধান্তে মিটেছে, তখন সম্প্রীতি ও পরমতসহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।সুতরাং, ‘যত মত তত পথ’—উক্তিটির সপক্ষে শাস্ত্রীয় ও উদ্দীপকভিত্তিক যুক্তি রয়েছে। এটি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও