বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
নাজমা খাতুন রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে। তাই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তিনি পাননি। কিন্তু নিজের চেষ্টায় বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় ঘরে বসেই তিনি পড়াশোনা করতেন। ছোটবেলা থেকে তিনি লেখালেখি করতেন। তাঁর লেখনিতে নারী সমাজের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।
- ক)(1)
নীল বিদ্রোহ কী?
- খ)(2)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে কেন বাংলা সাহিত্যের জনক বলা হয়? ব্যাখ্যা কর
- গ)(3)
উদ্দীপকের নাজমা খাতুন তোমার পাঠ্যবই-এর কোন সংস্কারকের প্রতিনিধিত্ব করে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
'বর্তমান নারী সমাজের অগ্রগতিতে উক্ত নারীর অবদান অপরিসীম'- মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
নীল বিদ্রোহ হলো ১৮৫৯ সালে নীলকরদের অত্যাচার ও জোরপূর্বক নীলচাষের বিরুদ্ধে বাংলার নীলচাষিদের গড়ে তোলা বিদ্রোহ।
- খ)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে পাঠ্যবইয়ে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়েছে। বাংলা ভাষায় উন্নতমানের পাঠ্যপুস্তকের অভাব দেখে তিনি গদ্যসাহিত্য রচনা শুরু করেন এবং বাংলা গদ্যসাহিত্যকে নবজীবন দান করেন। শিশুদের জন্য রচনা করেন বর্ণ পরিচয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ এবং সংস্কৃত শেখার জন্য ব্যাকরণের উপক্রমণিকা। তাছাড়া তিনি অনেক গ্রন্থ অনুবাদও করেছেন। এসব অবদানের জন্যই তাঁকে এ উপাধি দেওয়া হয়।
- গ)
উদ্দীপকের নাজমা খাতুন পাঠ্যবইয়ের রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রতিনিধিত্ব করে।
রোকেয়া জন্মেছিলেন রক্ষণশীল ও পর্দানশিন সাবের পরিবারে। স্কুলে গিয়ে শিক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলেও বড় ভাই ইব্রাহিম সাবেরের উৎসাহে ঘরে বসে তিনি বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, আরবি ও ফারসি ভাষা শেখেন। কিশোর বয়স থেকেই সাহিত্যচর্চা করেন এবং তাঁর লেখায় নারী সমাজের অবহেলা ও বঞ্চনার করুণ চিত্র ফুটে ওঠে। উদ্দীপকের নাজমা খাতুনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পাননি, ভাইয়ের সহযোগিতায় ঘরে পড়েছেন এবং নারী সমাজের দুঃখ নিয়ে লিখেছেন। তাই দুজনের মিল স্পষ্ট।
- ঘ)
মন্তব্যটি যথার্থ। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কর্মের ফলেই আজকের নারী সমাজ অনেক দূর এগিয়েছে।
১. সাহিত্যের মাধ্যমে সচেতনতা: 'অবরোধবাসিনী', 'পদ্মরাগ', 'মতিচুর', 'সুলতানার স্বপ্ন' প্রভৃতি গ্রন্থে তিনি নারীর বঞ্চনা তুলে ধরে সমাজকে সচেতন করেছেন।
২. শিক্ষা বিস্তার: স্বামীর নামে ভাগলপুরে বালিকা বিদ্যালয় এবং ১৯১১ সালে কলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন, যা ১৯৩১ সালে উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নীত হয়।
৩. সংগঠন: ১৯১৬ সালে 'আঞ্জুমান খাওয়াতিনে ইসলাম' প্রতিষ্ঠা করে নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন।সুতরাং, নারীশিক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান বর্তমান নারী সমাজের অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও