বাংলা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
4.
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প
ভূমিকা:
বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশের যে খাতটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করেছে, তা হলো তৈরি পোশাক শিল্প (Readymade Garments বা RMG)। বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে এই শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণে পোশাক শিল্পের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
ঐতিহাসিক পটভূমি:
সত্তরের দশকের শেষভাগে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭৮ সালে 'রিয়াজ গার্মেন্টস' প্রথম বিদেশে পোশাক রপ্তানি করে। পরবর্তীতে আশির দশকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং সরকারের নীতিগত সহায়তায় এই শিল্প দ্রুত বিকশিত হতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থান অধিকার করে।
অর্থনীতিতে ভূমিকা ও কর্মসংস্থান:
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। জিডিপিতে এ শিল্পের অবদান অপরিসীম। দেশের প্রায় ৪০ লক্ষাধিক মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে এই শিল্পে, যার প্রায় ৬০-৭০ শতাংশই নারী শ্রমিক। ফলে গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও সামাজিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়েছে।
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকের অবস্থান:
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহ ছাড়াও বর্তমানে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মতো অপ্রচলিত বাজারেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পরিবেশবান্ধব বা 'গ্রিন ফ্যাক্টরি' স্থাপনে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষে অবস্থান করছে।
সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা:
সম্ভাবনাময় হওয়া সত্ত্বেও এ শিল্পে কিছু সংকট রয়েছে। কাঁচামাল ও তুলার জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, বন্দর ও লজিস্টিকসের সীমাবদ্ধতা, শ্রমিক অসন্তোষ এবং শ্রমের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ অন্যতম প্রধান সমস্যা। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের কমপ্লায়েন্স ও জিএসপি সুবিধা সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলোও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়:
উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরি (Value Added Products), সিন্থেটিক ও নন-কটন পোশাক উৎপাদন বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধান করা জরুরি। এছাড়া কারখানাগুলোর নিরাপত্তা মান বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
উপসংহার:
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মর্যাদার প্রতীক তৈরি পোশাক শিল্প। আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী কৌশলের সমন্বয়ে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকলে এ খাত দেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও