হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
অজয় বাবু হঠাৎ মৃত্যুবরণ করলে তার পুত্র নিখিল প্রতিবেশী এবং আত্মীয় স্বজনের সহায়তায় পিতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরে পুরোহিতের উপদেশে নিখিল নির্দিষ্ট সময় অশৌচ পালন করে শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজন সবাইকে নিমন্ত্রণ করে। সবাই উপস্থিত থেকে নিখিলকে তার পিতার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে সহযোগিতা করে।
- ক)(1)
আদ্যশ্রাম্পের পূর্ণ নাম কী?
- খ)(2)
অশৌচ পালনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
নিখিল কীভাবে পিতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
"সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে আদ্যশ্রাদ্ধ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে"- উক্তিটি নিখিলের জীবনের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
আদ্যশ্রাদ্ধের পূর্ণ নাম আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ।
- খ)
'অশৌচ' শব্দের অর্থ শুচিতা বা পবিত্রতার অভাব। মাতা-পিতা বা জ্ঞাতির মৃত্যুতে শোকে মন আচ্ছন্ন থাকে, তখন চিত্ত সাধন-ভজনের উপযোগী থাকে না।
এ বিচলিত মনে ঈশ্বরের প্রতি একাগ্রতা আসে না। তাই মনকে শান্ত করার জন্য অশৌচ পালন প্রয়োজন। এ সময়ে সংযম পালন করে শ্রাদ্ধ করার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। এছাড়া এটি মৃতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনও।
- গ)
নিখিল শাস্ত্রীয় বিধান ও প্রতিবেশী-আত্মীয়দের সহায়তায় পিতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ধারণা: 'অন্ত্য' অর্থ শেষ এবং 'ইষ্টি' অর্থ যজ্ঞ। অন্ত্যেষ্টি অর্থাৎ 'শেষযজ্ঞ', মৃতদেহকে অগ্নিতে আহুতি দেওয়া। আত্মা দেহ ছেড়ে গেলে দেহ প্রাণহীন হয়ে পচে যায়, তাই শাস্ত্রে এ সৎকারের বিধান আছে। মৃতদেহকে বস্ত্রাবৃত ও মালা-চন্দনে সাজিয়ে শ্মশানে নেওয়া হয় এবং মাথা দক্ষিণ দিকে রেখে কুশের ওপর শোয়ানো হয়। দাহাধিকারী স্নান করে এসে দেহে তেল ও কাঁচা হলুদ মাখিয়ে স্নান করান, নতুন কাপড় ও মালা পরান, কপালে চন্দন দেন এবং সপ্তছিদ্র আচ্ছাদন করেন। এরপর পিণ্ডদান করে চিতায় শয়ন করিয়ে দাহ করা হয়।
উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: অজয় বাবুর হঠাৎ মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র নিখিল দাহাধিকারী হিসেবে এ বিধি অনুযায়ী পিতার সৎকার করে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন এ কাজে সহায়তা করেন। এভাবে ধর্মীয় বিধান পালনের পাশাপাশি সামাজিক সৌহার্দ্যও প্রকাশ পেয়েছে।
অতএব, নিখিল শাস্ত্রসম্মতভাবে পিতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল।
- ঘ)
আদ্যশ্রাদ্ধ শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। নিখিলের জীবনের ঘটনা এ উক্তির যথার্থতা প্রমাণ করে।
শ্রদ্ধার সাথে যা দান করা হয়, তাই শ্রাদ্ধ। কারও মৃত্যুর পর প্রথমে যে শ্রাদ্ধ করা হয়, তা আদ্যশ্রাদ্ধ। অশৌচকাল শেষ হওয়ার পরদিন এটি অনুষ্ঠিত হয়। এর পূর্ণ নাম আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ। এতে মৃত ব্যক্তির নামে আসন, ছাতা, বস্ত্র, অন্ন, জল ইত্যাদি উৎসর্গ করে পিণ্ডদান করা হয়।
১. মৃতের প্রতি শ্রদ্ধা: নিখিল পুরোহিতের উপদেশে নির্দিষ্ট সময় অশৌচ পালন করে শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী শ্রাদ্ধ করেছে। এতে সে পিতার আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং পুত্র হিসেবে কর্তব্য পালন করেছে।
২. পারিবারিক বন্ধন: শোকাহত পরিবার এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে শান্ত হয়, মনে প্রশান্তি ফেরে। পরিবারের সদস্য ও জ্ঞাতিরা একত্র হওয়ায় পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
৩. সামাজিক সংহতি: নিখিল প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনকে নিমন্ত্রণ করেছে এবং সবাই উপস্থিত থেকে তাকে সহযোগিতা করেছে। মৃত ব্যক্তির আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে সবাই পরিবারের দুঃখের সাথে একাত্ম হয়েছে। এতে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয় এবং সবাই সমব্যথী হয়।
৪. মিলন ও মূল্যবোধ: শ্রাদ্ধ উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনের মিলনমেলা হয়, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা বাড়ে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিকতা ও মূল্যবোধের বীজ অঙ্কুরিত হয়।
সুতরাং, নিখিলের জীবনের আলোকে বলা যায়, আদ্যশ্রাদ্ধ সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও