ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং প্রশ্ন
'ঊর্মি লিমিটেড' কোম্পানির মূলধনের বিভিন্ন উৎসের স্তরবিন্যাস নিম্নরূপ:সাধারণ শেয়ার ও অগ্রাধিকার শেয়ারের বাজারমূল্য যথাক্রমে ২৫০ টাকা ও ১৫০ টাকা। অগ্রাধিকার শেয়ারের লিখিত মূল্য ১০০ টাকা। কোম্পানি এ বছর সাধারণ শেয়ারমালিকদের শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা করে লভ্যাংশ প্রদান করেছে এবং লভ্যাংশ বৃদ্ধির হার ৫%। 'ঊর্মি লিমিটেড' কোম্পানির ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য আরও ১০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। এজন্য একজন পরিচালক ব্যাংক ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দেন, যেখানে সুদের হার ১৬% এবং কর হার ৩০%। বর্তমানে কোম্পানির গড় মূলধন ব্যয় ৯%।
মূলধনের উৎস | পারমাণ (কোটি টাকায়)
১২% অগ্রাধিকার শেয়ার | ২০০
সাধারণ শেয়ার | ২০০
- ক)(1)
বোনাস শেয়ার কী?
- খ)(2)
সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয় নির্ধারণের একক কোনো পদ্ধতি নেই কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
'ঊর্মি লিমিটেড' কোম্পানির সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয় নির্ণয় কর।
- ঘ)(4)
'ঊর্মি লিমিটেড' কোম্পানি যদি তার পরিচালকের প্রস্তাবে রাজি হয়, তাহলে তার ব্যবসায়ে কী ধরনের প্রভাব পড়বে? গড় মূলধন ব্যয় নির্ণয়পূর্বক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বোনাস শেয়ার হলো কোম্পানি নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে বিদ্যমান শেয়ারমালিকদের তাদের শেয়ারের অনুপাতে বিনামূল্যে যে অতিরিক্ত শেয়ার প্রদান করে।
- খ)
সাধারণ শেয়ারের লভ্যাংশ নির্দিষ্ট থাকে না; কোম্পানির মুনাফা ও পরিচালকদের সিদ্ধান্তের ওপর তা নির্ভর করে। ভবিষ্যৎ লভ্যাংশ ও এর বৃদ্ধির হার সঠিকভাবে অনুমান করা কঠিন। শেয়ারের বাজারমূল্যও ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়। তাই সব কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য কোনো একক পদ্ধতি নেই; লভ্যাংশ মডেল, আয়-মূল্য অনুপাত, CAPM ইত্যাদি বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
- গ)
দেওয়া আছে: বাজারমূল্য টাকা, চলতি লভ্যাংশ টাকা, বৃদ্ধির হার
আগামী বছরের লভ্যাংশ টাকা
সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয়
সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয় = ৯.২%
- ঘ)
পরিচালকের প্রস্তাব অনুযায়ী ১০০ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিলে মূলধন কাঠামোয় ঋণ যুক্ত হবে।
১. প্রতিটি উৎসের ব্যয়:
অগ্রাধিকার শেয়ার:
সাধারণ শেয়ার:
ঋণ (কর-পরবর্তী):
২. নতুন গড় মূলধন ব্যয় (WACC):
উৎস পরিমাণ (কোটি) ব্যয় পরিমাণ × ব্যয় অগ্রাধিকার শেয়ার ২০০ ৮% ১৬০০ সাধারণ শেয়ার ২০০ ৯.২% ১৮৪০ ব্যাংক ঋণ ১০০ ১১.২% ১১২০ মোট ৫০০ ৪৫৬০ ৩. বিশ্লেষণ: কোম্পানির বর্তমান গড় মূলধন ব্যয় ৯%, ঋণ নেওয়ার পর তা ৯.১২% হবে, অর্থাৎ সামান্য বাড়বে। কারণ ঋণের কর-পরবর্তী ব্যয় (১১.২%) বিদ্যমান উৎসগুলোর ব্যয়ের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে ঋণের সুদ করযোগ্য আয় থেকে বাদ যায়, তাই কর সাশ্রয় হয়, তবে নির্দিষ্ট হারে সুদ পরিশোধের বাধ্যবাধকতার কারণে আর্থিক ঝুঁকি বাড়বে।
সুতরাং, ঋণ নিলে কোম্পানির মূলধন ব্যয় ও আর্থিক ঝুঁকি দুটোই কিছুটা বাড়বে। নতুন প্রকল্পের আয় ৯.১২%-এর বেশি হলেই ঋণ গ্রহণ লাভজনক হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও