হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

আশিষদের বাড়িতে দুর্গা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে গ্রামের সবাই একত্রিত হয়। পূজা শেষে বিজয়া দশমীর দিনে নানা আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। আশিষের স্ত্রী সকল মহিলাদের সিঁদুর পরায় ও মিষ্টি বিতরণ করে। উলুধ্বনির মাধ্যমে তারা বিশ্বের সকল মানব ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করে। সবশেষে সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গা উৎসব শেষ হয়।

  1. ক)

    ঈশ্বরের শক্তির প্রতীক কে?

    (1)
  2. খ)

    কুমারী পূজা কেন করা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা তুমি কীভাবে পালন করবে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "বিশ্বের সকল মানব জাতি ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করাই দুর্গাপূজার মূল উদ্দেশ্য।"- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দেবী দুর্গা ঈশ্বরের শক্তির প্রতীক।

  2. খ)

    অষ্টমী পূজার দিন দুর্গাপূজার অঙ্গ হিসেবে কুমারী পূজা করা হয়। এ পূজায় একটি কুমারী বালিকাকে দেবী দুর্গারূপে পূজা করা হয়।

    নারীকে মাতৃরূপে ও ঈশ্বরীরূপে ভাবনা করা হিন্দুসাধনার একটি বড় দিক। কুমারী পূজার মাধ্যমে নারীর প্রতি সম্মান দেখানো হয় এবং শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি হয়। এতে পারিবারিক ও সমাজজীবনের কল্যাণ হয়।

  3. গ)

    আমি বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী পালন করব।

    বিজয়া দশমীর ধারণা: দুর্গাপূজার দশম দিন দশমী তিথিতে দেবী দুর্গার দশমীবিহিত পূজা ও প্রতিমা বিসর্জন হয়। একে বিজয়া দশমী বলা হয়। কল্পনা করা হয়, দেবী দুর্গা ঘরের মেয়ের মতো বাবার বাড়ি এসে চারদিন থেকে ছেলেমেয়েদের নিয়ে কৈলাসে ফিরে যান।

    পালনের পদ্ধতি:
    ১. দেবীকে সিঁদুর পরিয়ে ও মিষ্টিমুখ করিয়ে বিদায় সম্ভাষণ জানাব।
    ২. সধবা নারীরা একে অপরের কপালে সিঁদুর পরিয়ে দীর্ঘায়ু কামনা করবেন, উদ্দীপকের আশিষের স্ত্রীর মতো।
    ৩. পরস্পরকে আলিঙ্গন করে মিষ্টি খাওয়াব এবং ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় করব।
    ৪. ঢাক, কাঁসর, সানাই বাজিয়ে মিছিলসহ প্রতিমা নদী বা পুকুরে বিসর্জন দেব।
    ৫. বাড়ি ফিরে ছোটদের ধান-দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করব এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করব।
    ৬. আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্রদের নতুন কাপড়, অর্থ ও উপহার দেব।

    এভাবে আমি উৎসবটি আনন্দ ও সম্প্রীতির সঙ্গে পালন করব।

  4. ঘ)

    “বিশ্বের সকল মানব জাতি ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করাই দুর্গাপূজার মূল উদ্দেশ্য”, উক্তিটি যথার্থ। দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি সবার কল্যাণ, ঐক্য ও সম্প্রীতির উৎসব।

    দুর্গাপূজার পরিচয়: দেবী দুর্গা ঈশ্বরের শক্তির প্রতীক, আদ্যাশক্তি মহামায়া। শারদীয় দুর্গোৎসব হিন্দুদের সর্ববৃহৎ উৎসব, যা ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে চলে। দেবী মহিষাসুরকে বধ করে অশুভ শক্তি নাশ করেন, তাই এ পূজা সবার মঙ্গলের প্রতীক।

    ১. অশুভ শক্তির বিনাশ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা: দুর্গাপূজা আমাদের অন্যায়-অবিচার প্রতিহত করার শক্তি জাগায়। বিজয়া দশমীতে সব ধরনের অশুভ শক্তি দূর করে সবার জন্য ন্যায় ও শান্তি কামনা করা হয়।

    ২. ঐক্য ও সম্প্রীতি: দেবী দুর্গা দেবতাদের সম্মিলিত শক্তির প্রকাশ, তাই এ পূজা ঐক্যের প্রতীক। উদ্দীপকে পাঁচদিনব্যাপী উৎসবে গ্রামের সবাই একত্র হয়। সবার অংশগ্রহণে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাড়ে।

    ৩. পারিবারিক মঙ্গল কামনা: সিঁদুর পরানো, মিষ্টি বিতরণ, ধান-দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ ও উলুধ্বনির মাধ্যমে পরিবার ও বিশ্বের সকলের দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়, যা উদ্দীপকে দেখানো হয়েছে।

    ৪. আর্থ-সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব: দরিদ্রদের উপহার দেওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা হওয়ায় এটি আনন্দ ও মিলনের মহোৎসব। এতে সমাজে সহমর্মিতা ও নৈতিকতা বৃদ্ধি পায়।

    সুতরাং, দুর্গাপূজা সকল মানুষ ও পরিবারের মঙ্গল কামনা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার উৎসব। তাই উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন