‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান কে?

    (1)
  2. খ)

    স্পিকারের কার্যাবলি লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানটির শাসন সংক্রান্ত কার্যাবলি। ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে উত্ত প্রতিষ্ঠানটি সার্বভৌম।"- তুমি কি এ বক্তব্য সমর্থন কর? যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন সচিব।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয় সংসদের সভাপতি বা স্পিকারের প্রধান কার্যাবলি নিম্নরূপ:
    ১. সংসদ অধিবেশন পরিচালনা: স্পিকার জাতীয় সংসদের বৈঠগুলোতে সভাপতিত্ব করেন এবং সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী শৃঙ্খলা বজায় রেখে অধিবেশন পরিচালনা করেন।
    ২. নিরপেক্ষতা ও সিদ্ধান্ত প্রদান: সংসদে উত্থাপিত কোনো বিল বা বিষয়ে বিতর্ক নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সমান ভোট পড়লে তিনি নির্ণায়ক ভোট (Casting Vote) প্রদান করেন। এছাড়া বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানোর পূর্বে তাতে প্রত্যয়ন বা সত্যায়িত করার দায়িত্বও স্পিকারের।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সাধারণ সদস্য ৩০০ এবং মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৫০ উল্লেখ থাকায় ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশের 'জাতীয় সংসদ' বা আইনসভা।

    সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ শাসন সংক্রান্ত কার্যাবলি রয়েছে:
    ১. সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ: জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। মন্ত্রিসভা তাদের সকল নীতি ও কাজের জন্য একক ও যৌথভাবে জাতীয় সংসদের কাছে দায়ী থাকে।
    ২. প্রশ্নোত্তর ও জবাবদিহিতা: সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রশ্ন, সম্পূরক প্রশ্ন ও দৃষ্টি আকর্ষণকারী প্রস্তাবের মাধ্যমে শাসন বিভাগকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করেন।
    ৩. অনাস্থা প্রস্তাব: সংসদ যদি মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস করে, তবে সরকার বা মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়।
    ৪. রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ও অপসারণ: সংসদ সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের দায়ে দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রধান রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন (Impeachment) করতে পারে।

    সুতরাং, জাতীয় সংসদ তার শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগকে সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি (জাতীয় সংসদ) সার্বভৌম।"— আমি এ বক্তব্যের সাথে পূর্ণভাবে একমত নই। জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের প্রধান আইন প্রণয়নকারী সংস্থা হলেও তা চূড়ান্ত বা নিরঙ্কুশ অর্থে সার্বভৌম নয়। নিচে এর স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:

    ১. সংবিধানের প্রাধান্য: বাংলাদেশের সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধানই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। সংসদ এমন কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারে না যা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। যদি কোনো আইন সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থি হয়, তবে তা বাতিল হয়ে যায়।
    ২. বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার (Judicial Review) ক্ষমতা রয়েছে। সংসদ প্রণীত কোনো আইন সংবিধান বা নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হলে সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করতে পারে।
    ৩. রাষ্ট্রপতির সম্মতি: সংসদে কোনো বিল পাস হওয়ার পর তা আইনে পরিণত হতে রাষ্ট্রপতির সম্মতির প্রয়োজন হয়। রাষ্ট্রপতি চাইলে পুনর্বিবেচনার জন্য বিলটি সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন।
    ৪. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ: সংসদ সদস্যদের নিজস্ব মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়, যা আইন প্রণয়নে সদস্যদের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে সীমিত করে।

    অতএব, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের ব্যাপক ক্ষমতা থাকলেও এটি সংবিধান ও বিচার বিভাগের পর্যালোচনার অধীন হওয়ায় এটিকে নিরঙ্কুশভাবে 'সার্বভৌম' বলা যায় না; বরং এটি সংবিধানের অধীন একটি সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন