বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
কাল যে ছিল আজ সে নাই; আজও ছিল, তাহারো ঐ নশ্বর দেহটা ধীরে ধীরে ভস্মসাৎ হইতেছে, আর তাহাকে চেনাই যায় না, অথচ এই দেহটাকে আশ্রয় করিয়া কত আশা, কত আকাঙ্ক্ষা, কত ভয়, কত ভাবনাই না ছিল। কোথায় কোথায় গেল? এক নিমিষে কোথায় অন্তর্হিত হইল? তবে তার দাম? মরিতেই বা কতক্ষণ লাগে?
- ক)(1)
খেয়ানৌকাগুলো কোথায় এসে লেগেছে?
- খ)(2)
“ এশিরিয়া ধুলো আজ বেবিলন 'ছাই হয়ে আছে”–কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে বিষয়টি উঠে এসেছে তার সাথে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ পেয়েছে কি? তোমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- খ)
'এশিরিয়া ধুলো আজ, বেবিলন ছাই হয়ে আছে' — এশিরিয়া ও বেবিলন ছিল প্রাচীন যুগের শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ সভ্যতা। কালের প্রবাহে সেই সভ্যতাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে; তাদের প্রতাপ ও জৌলুস আজ আর নেই। কবি এই উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন, সময়ের কাছে সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী; কোনো ক্ষমতা বা সভ্যতাই চিরস্থায়ী নয়। তাই মানুষের গর্ব ও অহংকার অর্থহীন।
- গ)
উদ্দীপকে যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হলো জীবনের ক্ষণস্থায়িতা ও মৃত্যুর অনিবার্যতা।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, কাল যে ছিল আজ সে নেই। যে দেহকে ঘিরে কত আশা-আকাঙ্ক্ষা, ভয়-ভাবনা ছিল, সেই দেহ ধীরে ধীরে ভস্মে পরিণত হচ্ছে। মরতে সময় লাগে না। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতাতেও কবি দেখিয়েছেন, কালের স্রোতে সবকিছু বিলীন হয়ে যায়; মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, সভ্যতাও চিরস্থায়ী নয়। জীবনের নশ্বরতার এই উপলব্ধিতেই উদ্দীপক ও কবিতার সাদৃশ্য।
- ঘ)
উদ্দীপকে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ পায়নি— আমি এ মতের পক্ষে।
উদ্দীপকে মানুষের জীবনের নশ্বরতা ও মৃত্যুর অনিবার্যতার দিকটি এসেছে।
১. কবিতায় ব্যক্তির মৃত্যুর পাশাপাশি এশিরিয়া-বেবিলনের মতো সভ্যতার ধ্বংসের কথা আছে। উদ্দীপকে শুধু একজন মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে।
২. কবিতায় মানুষের মৃত্যুর পরও প্রকৃতি ও জীবনপ্রবাহ চলতে থাকার ভাব আছে। উদ্দীপকে এই চিরন্তন প্রবাহের ধারণা নেই।
৩. উদ্দীপকে দেহের ভস্ম হওয়া ও আশা-আকাঙ্ক্ষার অবসানের হতাশা প্রধান; কবিতায় ব্যাপক কালচেতনা ও জীবনের বিস্তৃত দর্শন রয়েছে।সুতরাং, উদ্দীপকে কবিতার আংশিক ভাব প্রকাশ পেয়েছে, সম্পূর্ণ ভাব নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও